অক্টোবরেই নির্বাচনকালীন সরকার

Print

 

আগামী অক্টোবরে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও জোটের গ্রহণযোগ্যরাই মন্ত্রিত্বে থাকবেন। বিএনপিকে রাখা নিয়ে কোনো কিছুই ভাবছে না ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচনকালীন প্রশাসনও ঢেলে সাজানো হবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে। ওই সরকার শুধু রুটিনমাফিক কাজ করবে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব রকম সহায়তা করবে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। মন্ত্রিসভার আকার ছোট বা বড় হতে পারে। এ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আছে।

সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রয়েছে দুই মেরুতে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বিএনপি বলছে, তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নয়, সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়। সে অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। তবে ওই সরকারকে একটি সর্বদলীয় সরকারের রূপ দেওয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য আরও দু-একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে। বিএনপিকে ওই সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দলটি সাড়া দেয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও সংবিধান অনুসারে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হচ্ছে। সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার প্রধান থাকবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরুর কার্যক্রমও আওয়ামী লীগই করবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরাই এ সরকারের অংশ হবেন এ সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে সরকার। একই সঙ্গে ওই সময়ের মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হবে। সূত্রমতে, সংবিধানে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের বিধান রয়েছে। এর একটি হচ্ছে চলমান সংসদের মেয়াদ অবসানের ক্ষেত্রে এবং অন্যটি মেয়াদ পূর্তির আগেই সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে- (ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে, এবং (খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।’ সংবিধানের এই বিধান মতে, বর্তমান দশম সংসদের মেয়াদপূর্ণ করলে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন ভোট হতে হবে। ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বতোভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী অক্টোবরেই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। কারণ ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার কয়েক দিন আগেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার ছোট করা হবে। গত ডিসেম্বরে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। এ সময় মন্ত্রিসভার আকার ছোট থাকবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ সরকার নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু আইনে কোথাও নির্বাচনকালীন সরকারের অস্তিত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে স্বল্প পরিসরে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার চর্চা করতে গিয়ে কতজন সদস্য রাখবেন বা কবে গঠন করবেন তা আইনে সুনির্দিষ্ট না হলেও তফসিল ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে গঠন করাটাই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। সংবিধানের ৫৫ ও ৫৬ ধারায় প্রধানমন্ত্রীকে এ অধিকার দেওয়া আছে।’

বিএনপিকে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ‘যে কোনো সরকারের টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী করার বিধান রয়েছে। এই সুযোগে কাউকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী রাখবেন কিনা তা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলেও প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন এটাই সাংবিধানিক বিধান।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রতিনিধি থাকার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, বিএনপিকে গতবার প্রস্তাব করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। এবার ডাকা হবে না। নিজেদের প্রয়োজনেই তাদের নির্বাচনে আসতে হবে।’

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হলেও ওই সরকার রুটিনমাফিক দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচনে সার্বিক সহায়তা করবে। সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।’ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতার বিষয়ে সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ