অজগর সাপ দিয়ে সমুচা সিঙ্গারা

Print

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের রেল স্টেশন এলাকার একটি দোকানের পেছনে পাওয়া গিয়েছে চামড়া ছাড়ানো একটি অজগর সাপ। দোকানের পেছনে পাওয়া গিয়েছে বিধায় ধারণা করা হচ্ছে উক্ত দোকানে অজগর সাপ দিয়ে বানানো হয় সমুচা ও সিঙ্গারা। চট্টগ্রাম নিবাসী সৈয়দ আরাফাত রহমান নামক এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্ট পড়ে ধারণা করা যায় যে উক্ত দোকানে সামুসা সিঙ্গারা বানানো হয়। তবে আদৌ অজগর সাপ দিয়ে বানানো হয় কি-না, সেটি খতিয়ে দেখেছে।

অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তায় যোগাযোগ করেছিল সৈয়দ আরাফাত রহমানের সঙ্গে। অজ্ঞাত কারণে তিনি নিজের মোবাইল নম্বর না দিতে চাইলে, তার সঙ্গে সামাজিক গনমাধ্যমেই আলাপ হয় এর। অজগর সাপ দিয়ে যে সমুচা সিঙ্গারা বানানো হচ্ছে- এ বিষয়ে আপনি কতটা নিশ্চিত? উত্তরে আরাফাত রহমান বলেন- ‘আমি ১০০% নিশ্চিত’। তিনি আরও জানান- চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকায় এই বিষয়ক একটি রিপোর্টও ছাপা হয়েছে। অতঃপর তিনি অজগর সাপ দিয়ে বানানো সিঙ্গারা প্রসঙ্গে সত্যতা প্রমাণ করার জন্য ওমর আলী নামক এক ব্যক্তির নম্বর প্রদান করেন এবং জানান যে- ভিডিও ও ছবি ওমর আলীর মোবাইল থেকেই তোলা।
অতঃপর ‘প্রিয়.কম’ ওমর আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোন মারফত যোগাযোগ করে। প্রশ্ন ছিল, আপনি কি নিজ চোখে দেখেছেন অজগর সাপের মাংস চামড়া বা কোনো সমুচা সিঙ্গারা তৈরিতে ব্যবহার করতে? এ প্রশ্নের জবাবে ওমর আলী বলেন- না আমি দেখিনি, আমি শুনেছি। আপনার পরিচিত এমন কেউ রয়েছেন যে বিষয়টি নিজ চোখে দেখেছে? এ প্রশ্নের আর উত্তর মেলেনি। অজ্ঞাত কারণেই অপাশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ওমর আলী।
পরিশেষে খোঁজ করে দৈনিক আজাদী পত্রিকার রিপোর্টে। ‘অজগর মেরে চামড়া ছাড়ানোর সময় আটক ২’ শিরোনামে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় করা উক্ত সংবাদের কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে অজগর সাপ দিয়ে কোনো ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানে সমুচা বা সিঙ্গারা তৈরি করছে। সুতরাং- বর্তমান পর্যন্ত অনুসন্ধান লব্ধ ফলাফল হচ্ছে- অজগর সাপ দিয়ে সমুচা-সিঙ্গারা বানানোর বিষয়টি নিছক গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।
দৈনিক আজাদী পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী- লোকালয়ে চলে আসা একটি সাপকে পিটিয়ে মেরে চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় রাজীব ও রহমত উল্লাহ নামক দুজন ব্যক্তিকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃতরা চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মার্কেটের ‘বন্দর বিতান’ নামের একটি দোকানের কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতদের ছয় মাসের কারাদণ্ডে দন্দিত করা হয়েছে। সংবাদের শীর্ষেই রয়েছে আটককৃতদের ছবি, যা দৈনিক আজাদী পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
যা হোক, সামাজিক গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে এধরনের গুজব ছড়ায়। অনুসন্ধান না করে সেসব বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়াই উচিত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 487 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ