অনিয়ম-দূর্নীনিতে ছেয়ে গেছে মেহেরপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির দর্শনা সাব-জোনাল অফিস

Print

সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মেহেরপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির দর্শনা সাব-জোনাল অফিসের বিদ্যুত বিভাগ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা অনিয়ম আর দূর্নীতি ছাড়া বিদ্যুত লাইন না দেবার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা কার্যকর করতে মাঠে নেমেছেন। বিদ্যুতের এই তেলেসমাতির শিকার জেলার দামুড়হুদা উপজেলার শিল্পনগরী পৌরসভা দর্শনার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। নতুন সংযোগ দেবার নামে ও পুরানো গ্রাহকদের মিটার টেষ্টার নামে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দর্শনা সাব-জোনাল অফিসে চলছে নৈরাজ্য। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে ছেয়ে গেছে পুরো অফিস। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আসা এলাকার হাজারও গ্রাহকসহ পুরানো গ্রাহকরা। বৈধ আবেদনকারীরা বছরের পর বছর এ অফিসে ধরনা দিয়েও নতুন সংযোগ পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের অভিযোগ, সমীক্ষা ফি, ওয়্যারিং পরিদর্শন, সিএমও (কনজুমার মিটার অর্ডার) করণ,জামানত ও ট্রান্সফরমারের ওভার লোডের নাম করে, আবেদন থেকে সংযোগ দেয়া পর্যন্ত নানা সমস্যা দেখিয়ে, বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সমিতির কতিপয় কর্মকর্তার কাছের জন প্রভাবশালী দালালচক্র। দর্শনা শ্যামপুরের জহিুরুল ইসলাম জানান আমার বাড়ির মিটারটি গত ৭ মাস আগে পাল্টিয়ে ডিজিটাল মিটার দেয় এবং চলতি মাসের ডিসেম্বরের বিলে ১০.০৯৮ টাকা সম্বনয় বিল করে। বিষয়টি অফিসে জানতে গেলে বিল তৈরী কারক হালিমা জানান আপনার মিটার ৮মাস নষ্ট ছিল তাই বিল সম্বনয় করেছি। আপনি আমাকে বিরক্ত করেননা আপনাকে টাকা দিতেই হবে। বিল সম্বনয়ের ব্যাপারে দর্শনা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম অমিত দাসের সাথে কথা বললে তিনি কোন সদ্যত্তুর দিতে পারেননি। গ্রাহকের বিলের সম্বনয় কেন,কিভাবে? করা হল তা সাংবাদিক এবং গ্রাহকদের কাছের অস্পষ্ঠ। গ্রাহক ঠকানো,গ্রাহকদের সাথে অসদাচরন নৃত্যদিনের। এ যেন এক নৈরাজ্যের অফিস। অসাধু কর্মকর্তা ও দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে অফিসটি পরিণত হয়েছে দুর্নীতির আখড়ায়। দর্শনা সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবচেড়ে বড় অভিযোগ দালালদের দৌরাত্ব নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পরও তা বছরের পর পর ঘুষ না দেওয়ার জন্য ফাইল আটকে থাকে। কিন্তু যারা দালালদের উপরি দিয়ে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন, তারা সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন অতি দ্রুত।গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগে আবেদন করার সময় কর্মকর্তারাই দালালদের নাম উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। দালাল ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন, এমন গ্রাহক খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই সময় কেবলই মনে হলসেই বিখ্যাত গানের কলিৃ বিজলির ধারা এই/ এইআছে এই নেই /এর চেয়ে মোমবাতি ভালো/ জ্বালো হেরিকেন জ্বালোৃ এসব অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে মেহেরপুর পল¬¬ী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার অমিত দাস বললেন আরো ভিন্ন কথা। তার দাবি কোন দূর্নীতির সাথে তার নুন্যতম স¤র্পক নেই। আমি কোন দালালকে চিনিও না জানিও না।তাদের সাথে আমার নুন্যতম স¤পর্ক নেই। যদি এরা থেকে থাকে, আর আমার কাছে কেউ অভিযোগ করলে আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব। অথচ তার সামনে আমাদের উপস্থিতি সেখানেই পাওয়া গেল পরীক্ষায় ফেল করা এক টেকনিশিয়ানকে। তার নিজেরই মুখের কথা ফেল করা কোন টেকনিশিয়ান অফিসে আসতে পারবে না। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেই মুখ বন্ধ হয়ে গেল এই কর্মকর্তার মুখ। এভাবেই দালালচক্রের বানিজ্য বেপরোয়া আর যার টিকিটাও ধরার কোন ক্ষমতা কারো নেই। কারন, এরা বানের জলে ভেসে আসেনি এদের খুটি বড়ই শক্ত। তাকে নাড়াবে এমন শক্তি কার ? এদেও হাত অনেক লম্বা। বড় বড় ক্ষমতাধর ব্যাক্তিরা থাকে তাদেও হাতেই মুঠোয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 150 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ