অনেক প্রবাসী লেবাননে সবজি চাষে কোটিপতি

Print

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বাকশিমুল গ্রামের আলাউদ্দিন। পাঁচ বছর আগে ভাগ্যবদলের আশায় লেবানন এসেছিলেন শ্রমিক হিসেবে। পরে জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন। আর তাতেই ভাগ্যবদলের সূচনা হয় তার। সবজি চাষ করেই তিনি এখন কোটিপতি। পরম মমতায় নিজস্ব খামার গড়ে তুুলেছেন লেবাননে। প্রতিবছর লাউ, মুলা, করলা, ঝিঙা, লাল শাক, পুই শাক, জালিসহ সব ধরনের সবজি চাষ করছেন তিনি। এক কেজি করলার দাম ৯/১০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ৭/৮শ’ টাকা। অধিকাংশ সবজির দামই এমন। শুধু গত বছরই ৭০ হাজার ডলারের সবজি বিক্রি করেছেন তিনি। আলাউদ্দিনের মতো অনেকেই আছেন লেবাননে এসে উপার্জনের ভিন্ন পথে গিয়ে মেধা ও পরিশ্রমের বিনিময়ে সাফল্য পেয়েছেন। লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে এমন অনেক সাফল্যগাথা শোনা গেল। লেবাননে আরেক বাংলাদেশি সবজি চাষি আনোয়ার। রাজধানী বৈরুতের পাশের শহর শৈফাতে কয়েক বিঘা জমি জুড়ে তার সবজি বাগানে বেগুন, লাল শাক, ঢেড়স আর মিষ্টি লাউয়ের গাছগুলো সবুজের ঢেউ খেলে যায়। সেই বাগানের পরিচর্চাও করেন তিনি নিজের হাতেই। বাড়ি ঢাকার দোহারে। লেবাননে সবজির চাহিদা দেখেই এই সবজি চাষের উদ্যোগ তার। আগামীতে গোল আলু এবং মিষ্টি আলুও চাষ করবেন বলে জানান। শুধু নিজের দেশের সবজিই নয়, আনোয়ার চাষ করেন লেবাননের সবজিও। মৌসুমি সবজি চাষি আনোয়ার গরমের দিনে চাষ করেন বেগুন, পাট শাক, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা সবজি। শীতের সময়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধনে পাতা, লাল শাক ইত্যাদি চাষ করেন। পরম মমতায় লেবাননের মাটিতে সোনা ফলানোর চেষ্টা করছেন আনোয়ার। আনোয়ার প্রথমে নিজে পাড়ি জমান লেবাননে। আর এখন পরিবারকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। শুধু গৃহকর্মী কিংবা সবজি চাষিই নয়। লেবাননে বাংলাদেশির পরিচয় বহুমাত্রিক। এখানে যেমন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন করছে তেমনি আছে ব্যবসায়ীসহ অন্য পেশাজীবীরা। আমেরিকান চেইনশপ বার্গার কিংয়ে খেতে গিয়ে দেখা হলো চাঁদপুরের ছেলে মিজানুরের সঙ্গে। পরিতৃপ্তির সঙ্গে তিনি জানান, চাকরিতে তিনি ভালো আছেন। বেতন পাচ্ছেন মাসে ৫০০ ডলার। গৃহকমীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা লেবানিজ মালিকদের অনেক আস্থাভাজন। তারা ইউরোপিয়ান দেশে বেড়াতে গেলে বাংলাদেশি গৃহকর্মীদেরও সঙ্গে নিয়ে যান। তাদের ওপর নির্ভর করেন। ঘরের শিশু ও বয়স্কদের তাদের তত্ত্বাবধানে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে যান।
বাংলাদেশের পণ্যবাজার : পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশ লেবাননে বাংলাদেশের অসংখ্য পণ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশি কর্মীদের সমাগমস্থলগুলোতে পাওয়া যায় প্রাণ, রাঁধুনী, কিষোয়ান, বনফুল, প্রমি, কসকোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি পণ্য। প্রাণের মুড়ি, চানাচুর থেকে শুরু করে মসলাপাতি সব পাওয়া যায় লেবাননে। পাওয়া যায় হাকিমপুরি জর্দা, প্যারাস্যুট নারকেল তেল, শাহী ঈগল গুল থেকে শুরু করে শত শত বাংলাদেশি পণ্য। এখানে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা খুবই ব্যয়বহুল। বাংলাদেশি কর্মীরা চাইলেই ওষুধ কিনতে পারে না। তার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হয়। জ্বর, ঠাণ্ডা, মাথা ব্যথার ওষুধ নিতেও প্রেসক্রিপশন লাগে। এই সমস্যার সহজ সমাধান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা দেশের যাত্রীদের মাধ্যমে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে আসেন লেবাননে। বৈরুতে রাস্তার পাশে মুদি দোকান চালান নোয়াখালীর নাজমা আক্তার। গত ২০ বছর ধরে আছেন লেবাননে। আগে গৃহকর্মী ছিলেন। এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। বললেন, তার দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে রক্তচাপ, এন্টিবায়োটিক, হিস্টাসিন, এলার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। চাহিদা আছে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি ফেমিকন, পুরুষের যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধও। বাংলাদেশে যারা যান ফেরার পথে তারাই এসব ওষুধ নিয়ে আসেন। বাংলাদেশি ওষুধের বড় বাজার হতে পারে লেবানন। তবে লেবাননে ওষুধ রফতানির চেষ্টা চলছিল দীর্ঘদিন থেকে। খুব শিগগিরই সেটা আলোর মুখ দেখবে বলে জানান বৈরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার। তিনি বলেন, আমি বেক্সিমকো, স্কয়ার, ইনসেপট্রা, একমির সঙ্গে কথা বলেছি।

আমি এখানে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের একজনকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছি। এই লোক বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ডলারের ওষুধ নিয়ে আসছে। বেক্সিমকোর ১৮ আইটেমের ওষুধ তার মাধ্যমে ইরানে যাচ্ছে। এখানেও আমাদের ১০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হতে পারে। প্রধান আমদানিকারকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই ফল পাওয়া যাবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ