অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিতে হারিয়ে ফেলতে হয় অনেক যুবতী মেয়েদের সম্ভ্রম

Print

বেনাপোল সীমান্ত নারী শিশু পাচারের এক নিরাপদ রুট। অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিতে হারিয়ে ফেলতে হয় অনেক যুবতী মেয়েদের সম্ভ্রম

মোঃরাসেল ইসলাম
দেশের দক্ষিন-পশ্চিম সীমান্তের আলোচিত এক নাম বেনাপোল পুটখালী, দৌলতপুর । যে পথ দিয়ে মানুষ পাসপোর্টবাদে হন্যে হয়ে পাগলের মত জ্ঞান হারিয়ে দালালদের নির্দেশনায় ছুটে চলে ভারতের দিকে। আবার ভারত থেকে ও একই কায়দায় ছুটে আসে বাংলাদেশে।
প্রাতিদিন বেনাপোলের এ সীমান্ত পথে নারী পুরুষ শিশু নিজেদের ইচ্ছায় আত্নীয় স্বজন এর বাড়িতে, চিকিৎসা এবং কাজের জন্য ছুটে যাচ্ছে সীমান্ত টপকিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। আবার অনেক যুবতী মেয়ে প্রেম ভালবাসার প্রতারনায় দালাল পাচারকারিদের প্রতারনার শিকার হয়ে ভারতে যেয়ে বিভিন্ন পতিতালয়ে অথবা কোন শেঠের কাছে আটক হয়ে বিলীন করে দিচ্ছে তাদের জীবন যৌবন।
বেনাপোল সীমান্তের দৌলতপুর গাতিপাড়া বড়আঁচড়া পুটখালি সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাড়ি দিচ্ছে ভারত।
এদের ভিতর বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ বিজিবির নিকট সামান্য কিছু আটক হলে ও সিংহ ভাগ চলে যাচ্ছে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে। এসব সীমান্তের বাগান, পানি, কাটা, এবড়ো থেবড়ো পথ দিয়ে যেতে হয় দেশের দুর থেকে আসা মানুষদের। এরা সীমান্তে এসে বিভিন্ন বাড়ি এবং বাগানে সময় কাটায়।
যাদের মাধ্যমে আসে তাদের কাছে এসে এরা অসহায় হয়ে পড়ে হারিয়ে ফেলে তাদের ভাষা দালালরা এদের যা বলে বাধ্য হয়ে তাদের সেই কথা আটক হওয়ার ভয়ে শুনতে হয় এসব অসহায় মানুষদের। প্রতিটি মানুষের নিকট থেকে পারাপারের জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার পর্যান্ত টাকা নেয় পারাপারের জন্য।
এ সীমান্ত দিয়ে অনেক শিক্ষিত চাকুরীজিবী লোক ও তাদের কাজের জন্য সময় স্বল্পতার জন্য অথাবা পাসপোর্ট করতে সময় লাগবে এ কারনে পাড়ি জমায় চোরাইপথে ভারতে। তারা এসে সীমান্তের লোক পারাপারের কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিদের কাছে বোকা হয়ে যায়। এরা তখন এদের পকেট ব্যাগ তল্লাশি করে দেখে কত টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অধিক টাকা পেলে অনেক সময় এরা রেখে দিয়ে তাদের উপরে পাচার করে দেয়। সম্প্রতি চট্রগ্রাম থেকে আবদুল করিম নামে একজন সরকারি চাকুরিজীবি লোক ভারতে চোরাই পথে যাওয়ার সময় তাকে এবং আরো বাংলাদেশী ৩ জন যুবতীকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফ ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। যুবতী মেয়েদের বিএসএফ অবৈধ কাজের জন্য প্রকাশ্য তাদের গায়ে হাত দেওয়ায় আব্দুল করিম সাহেব প্রতিবাদ করে।
এতে করিম সাহেবের উপর নির্মম ভাবে নির্যাতন করে বিএসএফ। করিম সাহেবকে বিএসএফ রক্তাত্ত অবস্থায় ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ। এ ভাবে হাজারো মানুষ নির্যাতন এর শিকার হয়ে বাড়ি যাচ্ছে আহত অবস্থায়।
অবৈধপথে আসায় প্রতিবাদ করতে না পেরে অনেককে চোখের জল মুছতে মুছতে চলে যেতে দেখা যায়। ভয়ে টু শব্দটি করে না যদি আবার বিপাদ হয়।
দেশের দুরদুরান্ত থেকে এরা এসে কেউ নাভারন শার্শা ও বেনাপোল নামে। সেখান থেকে তাদের সাথে যোগাযোগের লোকদের মাধ্যমে দেখে শুনে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চলে যায়।
এসব মানব পাচারের সাথে বেনাপোল নাভারন শার্শা বাগআঁচড়ার এক শ্রেনীর দালাল চক্র নিয়োজিত আছে। আবার অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এদের বিভিন্ন পথে পাচার করে থাকে বলে একাধিক অভিযোগ আছে।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে অনেক সুন্দরী যুবতী মেয়ে এ পথে পার হতে যেয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে সারারাতি পালক্রমে ধর্ষিত হয়ে পরের দিনে ওপারে পাড়ি জমিয়েছে। এরা দেশের দুরদুরান্ত থেকে এসে সীমান্তে পৌছে পাচারকারিদের কাছে জিম্মী হয়ে পড়ে। তারা যা বলে শুনতে বাধ্য হয়। কোন রকম চেঁচাচেচি করতে পারে না আটক হওয়ার ভয়ে। আবার পাচারকারিরা এদের ভয় দিয়ে রাখে তাদের কথা যদি না শোনে তা হলে তারা পুলিশ বিজিবি দিয়ে ধরিয়ে দিবে।
বিশেষ একটি সুত্র জানায়, যারা অবৈধপথে ভারত যাওয়ার জন্য আসে এরা মোবাইলে দালালদের সাথে যোগাযোগ করে কখনও দুরপাল্লার পরিবহন কখনও লোকাল গাড়িতে আসে। আবার বেনাপোলে প্রবেশ করার আগে শার্শা ও কাগজপুকুর এবং নাভারন বাঁগআচড়ায় নেমে যায়। সেখানে পাচারচক্রের নির্ধারিত লোক আগে থেকে থাকে। তারা এদের হাতে স্বজনের বাড়ি যাচ্ছে এ ভাবে শিখিয়ে দিয়ে মাছ, মিষ্টির প্যাকেট ধরিয়ে দেয়। আবার অনেক সময় বড় কচু, কুমড়া ও দেশীয় বিভিন্ন ধরনের ফল ধরিয়ে দেয় যাতে প্রশাসনের লোক বুঝতে না পারে এরা ভারত যাচ্ছে অবৈধ পথে।
অপর একটি সুত্র জানায় পাচার হওয়া অনেকে সে দেশে আটক হয়ে বিভিন্ন শেল্টার হোমে থেকে আবার সরকারের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফিরে আসে। বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ও মাঝে মধ্যে দেখা যায় ভারতীয় বিএসএফ ইমিগ্রেশন পুলিশ পাচার হওয়া আটক যুবতীদের বেনাপোল ইমিগ্রেমন ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। এদের দেশের বিভিন্ন বেসরকারি আইনি সহায়তা দেওয়া এনজিও গুলো সরকারের মাধ্যমে ওপার থেকে বিশেষ
ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনে।

মোঃরাসেল ইসলাম
বেনাপোল,যশোর

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 479 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ