অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের বৈঠক মূসক আইনের পরিবর্তন চান ব্যবসায়ীরা

Print
নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকরের আগে সাত দফা দাবির বাস্তবায়ন চান ব্যবসায়ীরা। সচিবালয়ে গতকাল রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আবারও বৈঠক করে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির বৈঠক এবং এফবিসিসিআই আয়োজিত বাজেট পরামর্শক সভায় প্রধান আলোচনা ছিল নতুন মূসক আইনের সংশোধন। আগামী ১ জুলাই এ আইন কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তাঁরা ঘন ঘন বৈঠক করছেন। মূসক আইন সংশোধনে কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায় এফবিসিসিআই। সরকার অবশ্য ১৫ শতাংশ হারেই মূসক দিতে হবে বলে দৃঢ়তা দেখিয়ে আসছে।
১ জুলাই আসতে আর দুই মাসও বাকি নেই। এ অবস্থায় এফবিসিসিআই গতকাল আবারও বৈঠক করে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, তিন সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, এ কে আজাদ, কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্য ব্যবসায়ীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
আর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল মান্নান, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ কমিটি আইনের যে সাতটি বিষয়ে একমত হয়েছিল, সেগুলো কার্যকর করা ব্যবসায়ীদের দাবি।
বিষয়গুলো হচ্ছে ৩৬ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করের আওতামুক্ত রাখা, দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত উৎপাদন পর্যায়ে ৩ শতাংশ টার্নওভার কর আরোপ, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৩৬ লাখ টাকার বেশি হলে টার্নওভারের পরিমাণনির্বিশেষে ২ শতাংশ হারে মূসক আরোপ, রেয়াত নিতে অসমর্থ প্রতিষ্ঠানের ওপর কম হারে মূসক আরোপ, আত্মীয়কে খেলাপি করের জন্য দায়ী করার বিধান বাতিল করা।
গতকালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দুই দফায়। প্রথম দফার বৈঠকটি হয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা চলে গেলে তিন মন্ত্রী বৈঠক করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অর্থসচিবের সঙ্গে।
বৈঠক শেষে এ কে আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাত দফা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়েই এবারের বৈঠক। সরকার মোটামুটি সম্মত হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে সরকার আমাদের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। আগামীতে মূসক হার ১৫, ১২ বা ১০ শতাংশ হারে হতে পারে।’
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চাওয়া সহনীয় পর্যায়ে মূসক আরোপ। আশা করছি, সরকার সেটিই করবে।’
আপনাদের দাবি তো আগেই নাকচ হয়ে গেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আলোচনা কোনো দিন “না” হয়ে যায় না। আইন তো আর এমন কিছু না যে সংশোধন করা যাবে না। মানুষের জন্যই তো আইন।’
দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দাবি অনেক।  প্রধান দাবি বহু স্তরবিশিষ্ট মূসক-ব্যবস্থা। এটা নিয়ে আমরা (আপনাদের) কিছু বলবই না। তাঁদেরও বলিনি।’
ব্যবসায়ীরা তো আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে তাঁদের দাবি সরকার বিবেচনা করবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ১৫ শতাংশ মূসক বহাল আছে। ব্যবসায়ীদের চাওয়া মোটাদাগে একটাই। সেটা হচ্ছে বহু স্তরবিশিষ্ট মূসক-ব্যবস্থা হবে কি হবে না। এ ব্যাপারে বাজেটে নির্দেশনা থাকবে।’
পুরো বিষয়টি আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও তখন বলেন, ‘আইএমএফকে এখানে টানছেন কেন?’
আইএমএফের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার বর্ধিত ঋণ-সহায়তা (ইসিএফ) নেওয়ার অন্যতম শর্ত ছিল রাজস্ব খাতকে যুগোপযোগী করা। আর তার অংশ হিসেবেই নতুন মূসক আইন প্রণয়ন করে সরকার।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 32 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ