অশ্লীলতা ফিরছে!

Print

অভিনয় শিল্পীদের জন্য দিনশেষে অভিনয়টাই মুখ্য, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিল্পগুণ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে যখন কেউ অশ্লীলতায় মাতে, তখন তাকে কী বলবেন?
একটা সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র ঢেকে গিয়েছিল অশ্লীলতার ছায়ায়। পরিচালক থেকে অভিনয়শিল্পী মেতেছিল অশ্লীলতায়। কিন্তু অমানিষা কেটে যায়। সুস্থ ধারার সিনেমা ফিরে আসে। অশ্লীল সিনেমার নায়ক নায়িকারা চলচ্চিত্রে নিষিদ্ধ হলেন। কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। মিডিয়ায় তো নেই। মিডিয়ার বাহিরেও তাঁদের নিয়ে নেই কোনো আলোচনা। কোনোভাবে খোঁজ নেওয়াও সম্ভব হয় না। অশ্লীলতার জন্য বেশি সমালোচিত হয়েছেন মুনমুন, ময়ূরী, পলি, ঝুমকা, শাপলা, সাহারা, নাসরিন প্রমুখ। একসময় দেশবাসীর দাবির মুখে সরকার ও এফডিসি অশ্লীলতা রুখতে সক্রিয় হয়। সেই সব অশ্লীল যুগের অভিনয়শিল্পীরা এ প্রজন্মের জন্য নিশ্চয়ই একটা শিক্ষা হয়ে আছেন। অভিনয়ের বাইরে দেহ প্রদর্শন করার যে চল শুরু হয়ছিল। তা নেই বললেই চলে। আর সেসব সিনেমা বন্ধের অনেক গুলো কারণের মধ্যে দর্শকের প্রত্যাখ্যান অন্যতম।

তবে অশ্লীলতা ফিরছে নতুন মোড়কে। এবার এর নাম সাহসিকতা। ঢাকাই চলচ্চিত্রেও ইদানিং সেই অশ্লিলতা নতুন রূপ নিয়েছে। সাহসী হওয়ার একটা প্রবণতা চলে আসছে এ প্রজন্মের নায়িকাদের মধ্যে। খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করলেই নাকি নায়িকা সাহসী! অনেক নায়িকাকেই বলতে শোনা যায় ‘চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয়ে খোলামেলা হতে আপত্তি নেই।’
বলিউডের আদলে ঢাকাই চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আইটেম গান। কেউ কেউ আইটেম গানে অভিনয় করেই সিনেমায় নায়িকার মর্যাদা পেয়ে যাচ্ছেন। মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে কাভারেজও হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে টানা যায় ‘রান আউট’ সিনেমাকে। সিনেমাটিতে আইটেম গানে নেচেছেন বিতর্কিত মডেল নায়লা নাঈম। অদ্ভূত হওয়ার মতো বিষয়, পরিচালক সিনেমাটির পোস্টার করা হয় সেই আইটেমকে প্রাধান্য দিয়ে।
বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ সিনেমার আইটেম গানে নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ বিপাশা কবির। তিনি খোলামেলা অভিনয়ে খুবই সাবলীল। পরমনী বেশ কিছু সিনেমায় অশ্লীলতা দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
সিনেমার পাশপাশি নায়িকারা স্যোসাল মিডিয়াতেও বেশ সাহসী। খোলামেলা ছবি পোষ্ট করছেন তারা। অনেকে মজা বলছেন আমাদের নায়িকারা বেশ সাহসী হয়ে উঠছেন। আবার কারো মন্তব্য এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সিনেমা সেই অশ্লীলতার যুগেই ফিরে যাবে।
অনেকেই মনে করেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে লাগে অভিনয় গুণ। খোলামেলা হলেই টিকে থাকা যায় না। বরং অভিনয়ের প্রতি আস্থা কম থাকলে এ ধরনের কথা বলে অনেকেই আলোচনায় আসতে চান।’
অশ্লিলতা কাটিয়ে যারা আজ চরিত্রের প্রয়োজনে খোলামেলা হচ্ছেন। তাদের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। আর এভাবে কী দর্শক ধরে রাখা সম্ভব?
পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় পর্দায় অশ্লীলতা দেখতে বরং দর্শক অনাগ্রহী। পরিচালকরা যে উদ্যেশ্যে কাটপিস কিংবা অশ্লীলতা নিয়ে আসতে চাচ্ছে। সেটা কখনোই সফল হবে না। এইতো সেদিন একজনকে বলতে শুনছিলাম পোস্টারে যেমন অশ্লিলতা শুরু হয়েছে। সেখানে ছবি দেখার আর আগ্রহ নেই। বরং অশ্লিল সিনেমা দেখার আগে ভাবতে হয় এইটা দেখবে কিনা। যদি কেউ দেখে ফেলে সে অশ্লীল সিনেমা দেখছে। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবে। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতাকে মেনে এ দেশের সিনেমা নির্মাণ হওয়া উচিত।’
সিনেমার প্রচারণায়ও দেখা গেছে বিতর্ক উস্কে দেওয়ার চালাকি। অনেকে আজকাল সিনেমার পোস্টারে লিখে দেয় ‘১৮+’। অথচ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গ্রেডিং সিস্টেম এখনো চালু হয়নি। ফলে এটাকেও প্রচারণার বাণিজ্যিক কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে।
তরুণ সংস্কৃতিকর্মী সামিউল বলেন, ‘হলিউড-বলিউডের সিনেমায় গোসল কিংবা বিছানার দৃশ্য থাকে। কিন্তু সেগুলো উপস্থাপনটা ভাল লাগে। কিন্তু বাংলাদেশের এগুলো না চরিত্রের প্রয়োজনে, না দর্শক ধরে রাখার জন্য। শুধুমাত্র প্রযোজক টাকা কামানোর জন্য। তাতে বরং দর্শক কমছে হলে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 179 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ