‘অস্তিত্ব’ এবং আরও কিছু

Print

তিশা ও আরিফিন শুভ। ছবি: খালেদ সরকারআরিফিন শুভ ও তিশা জুটির অস্তিত্ব ছবির মুক্তির খবর এরই মধ্যে জানা হয়ে গেছে। মুক্তির সপ্তাহ খানেক আগে থেকে ছবিটি নিয়ে দুজনের ছুটোছুটির কমতি ছিল না। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিসপাড়া, মার্কেট, বিপণিবিতান, চায়ের দোকানসহ নানা জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছেন তাঁরা। ছবিটি যেন সবাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেন, এমনটাই তাঁরা চেয়েছিলেন। ছবি মুক্তির তিন দিন পর ৯ মে দুপুরে কথা হয় শুভ ও তিশার সঙ্গে।
তিশার বনানীর বাসায় বসার ঘরে ঢুকতেই দেখা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর (তিশার স্বামী) সঙ্গে। তিনি বলছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র, নাটক এবং গণমাধ্যমের নানা দিক নিয়ে। বসার ঘরে ঢুকলেন তিশা। তখনো শুভ এসে পৌঁছাননি। জানা গেল, যানজটের কারণে কয়েকবার অলিগলি বদল করতে হয়েছে তাঁকে। শুভ যখন তিশার বাড়ির নিচে, তখন আকাশ মেঘলা। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কথা শুরুর আগে ছবি তোলার কাজ শেষ করতে হবে। তাই তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে হলো। শুরুতেই দেরি হওয়ার জন্য তিশার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন শুভ।
পাশ দিয়ে যাওয়া একটি রিকশাকে থামালেন শুভ। রিকশাচালকও তাঁর প্রিয় নায়ক শুভকে দেখে দারুণ খুশি। এরপর কিছুক্ষণ রিকশায় চলল ফটোশুট। তারপর পাশের পার্কে। শুভ-তিশা যখন ফটোশুটে ব্যস্ত, তখন পার্কের চারদিকে মানুষের জটলা। প্রিয় অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ অনেকেই হাতছাড়া করতে চাননি।
ফটোশুট শেষে আবার আড্ডা। তিশার বসার ঘর। শুরুতেই অস্তিত্ব ছবির প্রসঙ্গ। শুভ বললেন, ‘সবাই খুব প্রশংসা করছে। আমি খুব অনুপ্রাণিত হয়েছি।’ তিশা বললেন, ‘অভিনয়ের পাশাপাশি এই ছবির গান এবং বিষয়বস্তুর জন্য সবাই খুব প্রশংসা করছেন।’
শুভ কিংবা তিশা, কেউই প্রেক্ষাগৃহে বসে পুরো ছবিটি দেখতে পারেননি। তবে দর্শকদের মতামত জানার জন্য এক প্রেক্ষাগৃহ থেকে অন্য প্রেক্ষাগৃহে ছুটেছেন। শুভ বললেন, ‘সব ধরনের দর্শকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তাঁদের কথা আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছে।’
ভোলা, সিলেট, কক্সবাজার ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে। বিশেষ শিশুদের নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে কয়েকজন বিশেষ শিশুর সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। শুভ বললেন, ‘এদের কেউ ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। কিন্তু তারা কীভাবে যেন শুভ ও তিশা নামটি উচ্চারণ করার চেষ্টা করেছে। এই অভিজ্ঞতা কখনোই ভোলার মতো নয়।’
এবার মেন্টাল। ছবিটি এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিশা অভিনয় করেছেন শাকিব খানের বিপরীতে। তিশা হাসতে হাসতে বললেন, ‘মেন্টাল দেখে দর্শকেরা মেন্টাল হয়ে যাবেন।’
শুভ জানালেন, সামনে তিনি প্রেমী ও প্রেমী ছবির কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। জাকির হোসেন রাজুর এই ছবিতে শুভর বিপরীতে অভিনয় করবেন নুসরাত ফারিয়া।
শুভ ও তিশা দুজনই এবার মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপে সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন। ছুঁয়ে দিলে মন ছবিতে অভিনয়ের জন্য শুভ সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা আর তিলোত্তমা তোমার জন্য নাটকের জন্য তারকা জরিপ ও শেফালী নাটকের জন্য সমালোচক বিভাগে সেরা হয়েছেন তিশা।
শুভ বললেন, ‘ছুঁয়ে দিলে মন ছবিটি দেশ-বিদেশের দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। আর প্রথম আলোর পাঠকের ভালোবাসায় মুগ্ধ ও অভিভূত। তাঁদের ভালোবাসার জবাব কাজ দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করছি, সামনের ছবিগুলো দেখার পর তাঁদের আরও ভালো লাগবে।’
তিশা বললেন, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনেক মর্যাদাপূর্ণ। এবারই প্রথম আমি একই সঙ্গে তারকা জরিপ ও সমালোচক বিভাগে সেরা হয়েছি।’
নতুন একটি চলচ্চিত্রে কাজের ব্যাপার আলোচনা হবে। শুভকে সেখানে যেতে হবে। তাই আগেভাগেই উঠলেন তিনি। এক নিশ্বাসে বললেন, ‘মৃত্যুপুরী, ঢাকা অ্যাটাক আর নিয়তি ছবির কাজ শেষ করেছি। নতুন কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে।’
আবার তিশার পালা। ইদানীং চলচ্চিত্রে তিশা বেশি সময় দিচ্ছেন। পরিচালকেরাও তাঁকে নিয়ে বেশ আগ্রহী। তার প্রমাণ, অস্তিত্ব ছবির পরিচালক অনন্য মামুনের পরের ছবিতে কাজ করা। জুন মাসে শুরু হবে এই ছবির কাজ। নতুন এই ছবিতে তিশার বিপরীতে অভিনয় করবেন কলকাতার সোহম।
এদিকে তিশা সম্প্রতি শেষ করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন সিনেমা ডুব-এর কাজ। এই ছবিতে তিশা অভিনয় করেছেন ভারতের গুণী অভিনেতা ইরফান খানের বিপরীতে। এ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিশা বললেন, ‘নির্মাতা ফারুকীর আরেকটি অসাধারণ কাজ হতে যাচ্ছে। এখনই এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
ইরফান খান প্রসঙ্গে তিশা বললেন, ‘আমি সাধারণত অন্য সহশিল্পীদের সঙ্গে যেভাবে কাজ করি, এই ছবির ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে। ইরফান খান বুঝতেই দেননি তিনি অনেক বড় মাপের একজন শিল্পী। তাঁর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারটি অনেক দিন মনে থাকবে।’
ডুব ছবির শুটিং শেষে ভারতে ফিরে গেলেও এখনো যোগাযোগ হয় তাঁর সঙ্গে। তিশা বললেন, ‘ফারুকীর জন্মদিনের কথা ইরফান খানকে মনে করিয়ে দিতেই তিনি ফোনে শুভেচ্ছা জানালেন।’
আড্ডা শেষ করতে হবে। শেষ করার আগে তিশা বললেন, ‘ঈদের জন্য নাটকের নির্মাতাদের অনুরোধ আছে। হাতে গোনা কয়েকটি কাজ করব।’
আড্ডা শেষ। ফারুকীর অনুরোধ, দুপুরের খাবার খেয়ে যেতে হবে। খাবার টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার তিশা নিজেই এগিয়ে দিচ্ছেন।
রান্না করা হয়? তিশা বললেন, ‘না, খুব একটা না। সময় পাই না।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 62 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ