অস্থিরতার কারণে দূরে ছিলাম: বৃন্দাবন

Print

বৃন্দাবন দাসের প্রধান পরিচয় তিনি নাট্যকার। তবে পাশাপাশি তিনি অভিনয় করেন ছোটপর্দা ও চলচ্চিত্রেও। বেশ কিছু দিন ধরে তাকে দেখা যাচ্ছে না টিভি পর্দায়। কেন? টেলিভিশন নাট্য সংঘের এই সহসভাপতির সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় ঢাকাটাইমসের। তাতে উঠে আসে টিভি ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অস্থিরতার কথা।
অনেক দিন টিভিতে আপনার লেখা কোনো ধারবাহিক নাটক দেখা যাচ্ছে না। কেন?

দুই-আড়াই বছর ধরে কোনো ধারাবাহিক করিনি। টিভির এই সময়ের অস্থিরতার কারণেই লেখা থেকে দূরে ছিলাম। এ ছাড়া বাজেট কম, কাস্টিংয়ে হস্তক্ষেপ- সব মিলিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কারণে দূরে ছিলাম।
এখন কী নিয়ে ব্যস্ত?
এখন আমার লেখা দুটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং চলছে। পরিচালক সাগর জাহান বৈশাখি টিভির জন্য বানাচ্ছেন ‘আমাদের হাটখোলা’। আর সঞ্জিত সরকার আরটিভির জন্য বানাচ্ছেন ‘মজনু একজন পাগল নহে’। এগুলো খুব শিগগির অন এয়ার হবে। এ বছর আরো সিরিয়াল লেখা নিয়ে কথাও চলছে। সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
সামনের কাজ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
ঈদের জন্য নাটক লিখতে হবে। সেগুলোর জন্যও প্রস্তুত হচ্ছি। আছে টেলিভিশন শিল্পী সংঘের নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা। এর ডামাডোলে নানা ব্যস্ততায় কাটছে। নানা জনে ভোট চাচ্ছেন।
এ ছাড়া এবারের বইমেলায় নতুন গল্পগ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে। ‘সুরের আলো’ নামের বইটি ‘সদ্যশিল্প প্রকাশনী’ থেকে আগামীকাল মেলায় পাওয়া যাবে।
আপনার অভিনয়ও দর্শকদের কাছে প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিনয়ে এত কম দেখা যায় কেন?
এ বছর কোনো নাটকে অভিনয় করিনি। ঈদের সময়ই সাধারণত অভিনয় করা হয়ে থাকে। সামনের ঈদের নাটকে হয়তো করব। এর মাঝে ‘আ্য়নাবাজি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলাম। আমার পেশা যেহেতু লেখালেখি, তাই লেখালেখিতেই বেশি সময় দেই। লেখার যে চাপ, অন্য কোথাও সহজে সময় দেয়া যায় না। অভিনয় করতে ভালো লাগে। লেখালেখির একটা শিডিউল থাকে। সেটা থেকে বের হতে সমস্যা হয়।
আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত নাট্যকার। সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লিখবেন কবে?
সিনেমা নিয়ে আমার নিজস্ব আলাদা ভাবনা আছে। স্বকীয় চিন্তা আছে। গল্পের প্লট নিয়ে ভাবা আছে, লেখাও আছে। সে রকম কোনো প্রযোজক-পরিচালক পেলে, স্বাধীনতা পেলে সিনেমার স্ক্রিপ্টও লিখব। তখন সব বাদ দিয়ে ছয় মাস কি এক বছর সময় নিয়ে লিখব। কিন্তু তার আগে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার কিছু নিয়ম আছে,সেগুলো শিখে নিতে চাই।
শিল্পীদের দাবি নিয়ে এফটিপিওর আন্দোলন বন্ধ কেন? এখনো তো ডাবিং সিরিয়াল বন্ধ হয়নি।
চ্যানেলগুলোর দাবি পূরণ হয়েছে। ভারতে অবৈধভাবে যে টিভিসি প্রচার হতো, তা বন্ধ হয়েছে। দেশের চ্যানেলগুলোতে এখনো সিরিয়াল চলছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সময় চেয়েছে। আমাদের আন্দোলন এখনো চলছে। তবে কিছু সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি।
তবে আমি কোনো ধরনের বন্ধের বিপক্ষে নই। কোনো কিছু জোর করে বন্ধ করতে হবে এমনটা নয়। আমাদের সংস্কৃতির বিপক্ষে, এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, বা ঢালাওভাবে যেন না চলে।
আমাদের দেশের চ্যানেল ভারতে প্রচার হয় না। এটা কি আপনার কাছে বৈষম্য মনে হয় না?
আমাদের দেশের চ্যানেল ভারতে চলতে পারে না। এটা অবশ্যই বৈষম্য। আমি চাই আমার নাটক পশ্চিমবঙ্গের টিভিতে দেখানো হোক। আমাদের নাট্যকারের দক্ষতা রয়েছে। আমাদের শিল্পীদের দক্ষতা রয়েছে। এগুলো সেখানে প্রচার হোক। এটা অনেকে চায় না। এগুলো তাদেরই ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন অপসংস্কৃতি প্রচার করাও আমাদের আইডেন্টিটি নষ্ট কারার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যেকোনো মূল্যে আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে হবে। এগুলো নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 167 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ