আউট ভেবে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন মুশফিক!

Print

আউট ভেবে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন মুশফিক!

বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ২৪ রান দুরে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্রিজে। অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার বল ব্যাটে না খেলে প্যাড আপ করতে গেলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম।

অফস্ট্যাম্পের প্রায় আট আঙ্গুল বাইরে পিচ করা ওই ডেলিভারি মুশফিকের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত ভিতরে আসলো। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি টার্ন নিয়ে আঘাত হানলো বাংলাদেশ অধিনায়কের সামনের প্যাডে।

বোলার পেরেরাসহ সব লঙ্কান ফিল্ডার একসাথে চেঁচিয়ে উঠলেন ‘হাউ ওয়াজ দ্যাট’ বলে। ভারতীয় আম্পায়ার এস রবি হঠাৎ আঙ্গুল তুলে দিলেন। হতবিহ্বল বাংলাদেশ অধিনায়ক। টিভির পর্দায় তার সে কি করুণ চাহনি। বোঝাই যাচ্ছিল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন তিনি।

‘এটা আউট হয় কী করে? বল তো অনেক বাইরে পিচ পড়েছে। আমি তা দেখেই তো ছেড়ে দিতে গেলাম। সেই বল এত ভিতরে ঢুকে প্যাডে আঘাত হানলো আর আম্পায়ারও আঙ্গুল তুলে দিলেন! কী করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না। প্রথমে মনে হচ্ছিল, চলে যাই সাজ ঘরে। পর মুহুর্তে সিদ্ধান্ত বদলালাম’- বললেন মুশফিক।

কে জানে ওই সিদ্ধান্তটি ভুল হলে হয়ত জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও তিরে এসে তরি ডোবার এ অবস্থায় পড়তে হতো বাংলাদেশকে! শুনবেন ওই লেগবিফোর উইকেটের সিদ্ধান্ত দেখে বাংলাদেশ অধিনায়কের তখন কেমন লেগেছিল? খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন উঠল, ‘আচ্ছা বলুন তো আপনাকে যখন আউট দেয়া হলো তখনকার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?

‘মনে হচ্ছিল আমি আউট। প্রথমে ভেবেছিলাম বল স্ট্যাম্প মিস করবে, তাই প্যাড আপ করেছিলাম। যখন আউট দিয়ে দিলেন আম্পায়ার, তখন সে কি অবস্থা আমার। বলে বোঝাতে পারবোনা।’

তবে কি হারের শঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মুশফিক। তীরে এসে তরি ডুববে, এমন উদ্বেগ-আতঙ্ক এসে গ্রাস করেছিল? বাংলাদেশ অধিনায়কের কথা, ‘নাহ পরাজয়ের চিন্তা তেমন আসেনি। বিশ্বাস ছিল আমি আউট হয়ে গেলেও বাকিরা ওই রানটুকু করে ফেলবে। তাই ডিআরএস নিতে ভয় পাচ্ছিলাম। কারণ, এরপর আরও বড় সংকট আসতে পারে, যখন ডিআরএস লাগতে পারে। এই জন্য আমি রিভিউ না নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যেতে চাচ্ছিলাম।’

তাহলে হঠাৎ রিভিউ কেন নিলেন মুশফিক? সে কথা নিজেই জানালেন, ‘মোসাদ্দেক এসে বললো, ভাই রিভিউ নেন। স্টাম্প মিসও করতে পারে। এ কারণে শেষ মুহূর্তে ভাবলাম, আচ্ছা নিই। যদি মিস করে যায় তাহলে হয়তো বেঁচেও যেতে পারি। অনেক শার্প টার্ন আর বাউন্সও ছিল। স্ট্যাম্প না লাগায় বেঁচে গেছি। খুবই টেনশনে ছিলাম। আমি আউট হলেও জিততে পারবো। এমন বিশ্বাস অবশ্য ছিল। তখন মনে হচ্ছিল আর ইচ্ছেটা পূরণ হলো না। লক্ষ্য ছিল নিজে নট আউট থেকে ম্যাচটা জিতিয়ে আনবো।’

কথায় বলে ভাগ্য ও প্রকৃতি নাকি সাহসী যোদ্ধাদের পক্ষে থাকে। আজ ঐতিহাসিক জয়ের দিনে ভাগ্য মুশফিকের দিকেই ভর করলো। রিভিইতে প্রমাণ হলো, বল অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরে থেকে ঢুকলেও যে জায়গায় গিয়ে আঘাত করেছে, সেটাও ছিল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে।

তাই আউট হবার প্রশ্নই আসলো না। সেই আউটের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশেষে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফেরেন। উইনিং শটটা হয়ত তার হাত থেকে আসেনি। সেটা খেলেছেন মিরাজ। তাতে কি অন্যপ্রান্তে ‘মুশফিক ভাই’তো আছেন। আমি চালাই যা হবার হবে। মিরাজের সুইপটাই জয়সূচক বাউন্ডারিতে রুপান্তরিত হলো।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 117 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ