আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেড়েই চলেছে

Print
রাজনীতি ১: অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনোখুনি পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা ও গৃহদাহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাঁদাবাজি ও অন্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও

একদা দুর্গ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এক ধরনের নেতৃত্বহীনতা স্থবির করে রেখেছে দলটিকে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেড়েই চলেছে। নেতায় নেতায় খুনোখুনি, পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাঁদাবাজি এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও।হাজারীবাগ, লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া ও সূত্রাপুর থানার সমন্বয়ে গড়া ঢাকার দুটি আসন থেকে এমপি পদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ নির্বাচিত হয়েছিলেন। অথচ সেখানেই এখন আওয়ামী লীগের বেহাল অবস্থা।

সর্বশেষ অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ ছিলেন ‘ঢাকাইয়াদের’ একমাত্র কাণ্ডারি। তার মৃত্যুর পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঢাকাইয়া নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দেয়। ওই সময়ে সংগঠনের নগর সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেষতক মন্দের ভালো হিসেবে নগর সভাপতি হন আবুল হাসনাত। ‘ঢাকাইয়া’ হলেও তিনি নগর রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত নন।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ সেলিম এমপি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন পুরান ঢাকার বর্তমান নেতৃত্বের পুরোভাগে রয়েছেন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হাজি মোহাম্মদ সেলিম অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। যোগাযোগ করা হলে তিনি বারবারই জড়ানো কণ্ঠে ‘ভালো আছি’ বলছিলেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সঙ্গে হাজি মোহাম্মদ সেলিমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ দুই নেতা গত সংসদ নির্বাচনে ছিলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. জালাল হারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিমের কাছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই এ দুই নেতার সক্রিয় সমর্থক গ্রুপ রয়েছে। তবে হাজি সেলিম অসুস্থ হওয়ায় তার লোকজন কিছুটা ম্রিয়মাণ। এ সুযোগে বাড়তি শক্তি পাচ্ছে ডা. জালালের সমর্থকরা।

থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, হাজি সেলিমের দুর্গে এখন ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছেন ডা. জালাল। লালবাগে মামার পক্ষে তার ভাগিনা ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান পিল্লুই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।

হাজি সেলিমের সঙ্গে সাঈদ খোকনেরও দূরত্ব রয়েছে। পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগে নিজস্ব বলয় রয়েছে দক্ষিণ ঢাকার মেয়র খোকনের। তবে নিজস্ব বলয়ের কথা মানতে নারাজ তিনি। তিনি দলে কোনো বলয় নেই দাবি করে বলেছেন, হাজি সেলিমের সঙ্গে তার দূরত্ব তো দূরের কথা, বরং হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব-বিবাদের রেশ এখনও কাটেনি পুরান ঢাকায়। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা মাঝে মাঝে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেছেন, হাজি সেলিমের পরোক্ষ মদদে বহিরাগতদের অনেকে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মূলত এ কারণেই ওয়ার্ড পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ তৈরি হয়েছে।

পুরান ঢাকার আটটি থানা ও ২৬টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণার পর দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অবিভক্ত মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সমর্থকরা কোণঠাসা হওয়ায় নেতৃত্বের শূন্যতাও তৈরি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়ায় সংকট প্রকট হয়। এ অবস্থায় পুরনো নেতাদের সমন্বয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার তাগিদ রয়েছে। দক্ষিণ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেছেন, ত্যাগী, পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব ও নির্বাচনমুখী নেতৃত্বের সমন্বয়ে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তিনি পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য নাম উল্লেখ না করে দু’জন নেতাকে দুষছেন।

পুরান ঢাকার স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কোনো দল নেই। এরা সমাজের শত্রু। এই অপশক্তির দৌরাত্ম্য দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনই তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নগর নেতা শাহে আলম মুরাদের দৃষ্টিতে, কয়েকজন কাউন্সিলরের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে পুরান ঢাকায়। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেছেন, অলিগলিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। এর পুরোভাগে রয়েছে দলের প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব।

গত নির্বাচনে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে পরাজিত হন সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদ। নির্বাচনের আগে তিনি গুলিবিদ্ধও হন। তিনি বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ হোসেন ছোটন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাকে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে আরিফ হোসেন ছোটন জড়িত ছিলেন। এখন তার ছত্রছায়ায় থেকে শ্যামবাজারে চাঁদাবাজি করছেন আবদুর রব নামের এক ব্যক্তি। এসব বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আরিফ হোসেন ছোটনের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত জাহান শিপনকে নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি হয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো হঠাৎ করে নেতা হয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। লিয়াকত জাহান শিপন নগর আওয়ামী লীগের একজন পদস্থ নেতার প্রিয়ভাজন। থানা সভাপতি শহিদ উল্লাহ মিনু বলেছেন, আকস্মিকভাবে রাজনীতিতে এলেও তিনি লিয়াকত জাহান শিপনকে নিয়েই দলীয় কর্মকাণ্ড গুছিয়ে আনছেন। লিয়াকত জাহান শিপন বলেছেন, তিনি ২০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। তিনি আমেরিকায় থাকেন না, তবে আমেরিকায় তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

বংশাল থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম মোস্তফার সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদের বনিবনা নেই। এই দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলায়ও জড়িয়ে আছেন। গত নির্বাচনে গোলাম মোস্তফা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন আবু সাঈদ। তবে তার আর দলে ফেরা হয়নি। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোস্তফা বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জসহ নানা কারণে আবু সাঈদ দলীয় ঘরানার রাজনীতিতে অযোগ্য। কাউন্সিলর আবু সাঈদ বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গোলাম মোস্তফা। দলের থানা ও ওয়ার্ড কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে তিনি সেখানে স্থান পাবেন।

কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। গত নির্বাচনের রেশ এখনও কাটেনি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে (ওয়ারী)। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকন উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর দূরত্ব কমেনি। ওই নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও রোকন উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেননি ময়নুল হক মঞ্জু। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রোকন উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ময়নুল হক মঞ্জু কখনই তাকে মূল্যায়ন করেননি। উল্টো তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শীতল সম্পর্কের কারণে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর বিরুদ্ধে কে এম দাস লেনে দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর নির্মিত জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তর করতে একটি আবাসন কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ চুক্তি করার অভিযোগ এনেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি। রোকন উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট দোকান ও মালিক সমিতির সভাপতি হওয়ার সুবাদে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন ময়নুল হক মঞ্জু। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া টিকাটুলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে তিনি মসজিদ কমিটি কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এসব অভিযোগকে অসত্য অভিহিত করে কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু বলেন, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তর করতে একটি আবাসন কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি অবৈধ নয়। হাসপাতাল নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে তা হয়নি। আর তার বিরুদ্ধে রাজধানী নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগও অসত্য। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহর ঘর পবিত্র মসজিদ। সুতরাং টিকাটুলী জামে মসজিদ কমিটি কুক্ষিগত করার প্রশ্নই ওঠে না।

গত নির্বাচনে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড (চকবাজার) কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন চকবাজার থানা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রাডো। সেই থেকে এ দুই নেতার মধ্যে খুব একটা সুখকর সম্পর্ক নেই। সিরাজুল ইসলাম রাডো অবশ্য সেটা অস্বীকার করেছেন। নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী কমিশনার হওয়ার পর থেকে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে (ওয়ারী) চাঁদাবাজি বেড়েছে। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু আহমেদ মন্নাফী।

৩৭ নম্বর ওয়ার্ড (কোতোয়ালি) আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান খোকন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রায় অচেনা। এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক রিপন বেপারী বলেন, প্রবীণ নেতা হওয়ায় আজকের প্রজন্মের কর্মীদের কেউ কেউ আনিসুর রহমান খোকনকে চেনেন না। জানা গেছে, এই ওয়ার্ডে হাইব্রিড নেতাদের ছড়াছড়ি। ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের কেউ কেউ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এলাকার পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলছেন। এরই বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে। এই ওয়ার্ডেও দ্বন্দ্ব-বিবাদ প্রকট রূপ নিয়েছে।

৪২ নম্বর ওয়ার্ড (সূত্রাপুর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ নাসিরের বিরুদ্ধে দলের একজন কর্মীকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার পর গত বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণ যুবলীগের সহসম্পাদক রাজীব গুলিতে খুন হন। এর পর থেকেই ফয়সাল আহমেদ নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন। ওয়ার্ড সভাপতি নাজিম উদ্দিন নাজিম বলেন, ফয়সাল আহমেদ নাসিরের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই বললেই চলে। আর রাজীব হত্যা মামলায় অনেকের সঙ্গে ফয়সাল আহমেদ নাসিরও আসামি।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদের কারণে গত নির্বাচনে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড (গেণ্ডারিয়া) কাউন্সিলর পদে পরাজিত হন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ আসাদ। তিনি গৃহদাহের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। ২৩ নম্বর ওয়ার্ড (লালবাগ) সভাপতি ইয়ার মোহাম্মদ ইয়ার, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড (লালবাগ) সভাপতি ইকরাম উল্লাহ সরওয়ার্দী, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড (লালবাগ) সভাপতি আবদুর রহমান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান মানিক, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড (গেণ্ডারিয়া) সভাপতি খালেকুজ্জামান ভুলু ও সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান কাদের মিন্টুর মধ্যকার সম্পর্ক খুব একটা সুখকর নয়।

ওয়ার্ড ও থানার নেতারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শ্যামবাজার, বস্ত্র শিল্প মার্কেট, শাঁখারীবাজার, সদরঘাট, কাপ্তানবাজার, ইসলামপুর, বাংলাবাজার, ধোলাইখাল, সূত্রাপুর বাজার, নবাবপুর, বেগমবাজার, মিটফোর্ড, চকবাজার, ঢাকেশ্বরী, শ্যামবাজার ও নারিন্দাকেন্দ্রিক দখল বাণিজ্যে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।

– সমকাল

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 104 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ