আগের মতো নেই মুস্তাফিজ

Print

নিউজিল্যান্ড সফরে মুস্তাফিজকে দেখে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। একি হাল কাটার মাস্টারের! কোথায় তার বিষ মিশ্রিত কাটার? কোথায় তার প্রাণঘাতী ইয়র্কার? এমনকি গতিও নেই আগের মতো। বিষয়টি স্বভাবতই বেশি করে চোখে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। তাই তো নিউজিল্যান্ডে সিরিজের মাঝপথে তাকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা। এর পরও পিঠে ব্যথার কথা বলে নিজেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন বোলিং থেকে। তাহলে কি কাঁধের অস্ত্রোপচার মুস্তাফিজের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে? গতকাল ভারত সফরের দল ঘোষণার মঞ্চে বসে কথাটি কিঞ্চিত স্বীকারও করে নিয়েছেন কোচ হাথুরুসিংহে। তবে তাকে পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কোচের প্রত্যাশা, শ্রীলংকা সফরেই কাটার মাস্টারকে পুরনো রূপে দেখা যাবে।
আইপিএলে মুস্তাফিজ সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলেন। সে হিসেবে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম তার ঘরের মাঠ। এ মাঠেই ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি খেলবে বাংলাদেশ। পরিচিত মাঠ হওয়ায় এখানে মুশফিকের প্রধান অস্ত্র হতে পারতেন মুস্তাফিজ; কিন্তু ফিটনেস ও বোলিং দক্ষতা বিবেচনা করে তাকে দলে রাখেননি নির্বাচকরা। অথচ বিসিবির ফিজিও ও চিকিৎসকরা বলছেন, পুরোপুরি সুস্থ তিনি। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কোচ হাথুরুসিংহে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘এখানে আসলে করার তেমন কিছু নেই। কারণ তার একটি বড়সড় অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই তার ফর্মে ফিরতে একটু সময় লাগবে। সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আমরা তাকে নিয়ে কাজ করছি। নিউজিল্যান্ডে আমরা দেখেছি, সে ১২৭-১২৮ কিমি গতিতে বোলিং করেছে। অথচ যখন সে ফর্মে ছিল তখন আমরা তাকে দেখেছি ১৪০ কিমি গতিতে বোলিং করতে। তাই আমার মনে হয়, কিছুটা সময় লাগবে। শ্রীলংকা সফরের জন্য আমরা তাকে প্রস্তুত করছি।’

দলের ভেতরেই অনেকের অভিমত, মুস্তাফিজের সমস্যাটা মানসিক। কোচের ব্যাখ্যায়ও তেমন ইঙ্গিত মিলেছে, ‘চিকিৎসকরা কিন্তু তার মধ্যে কোনো সমস্যা খুঁজে পাননি। তার সমস্যা একটু ভিন্ন। চাপের মধ্যে মাঠে দক্ষতা নিয়ে বোলিং করার সময় তার কেমন অনুভূতি হয়, সেটা আমাদের জানতে হবে। একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখা উচিত, অধিকাংশ খেলোয়াড় চোট থেকে ওঠার পর তার মাঝে একটা অনীহা তৈরি হয়। একজনের পা ভাঙলে দেখা যায় সুস্থ হওয়ার পরও তার ভালোভাবে হাঁটা-চলা করতে কিছুটা সময় লাগে। বোলিং করা তো আরও জটিল বিষয়, অনেক দক্ষতার বিষয়। তাই হয়তো সে আগের মতো বোলিং করতে পারছে না। আমাদের অবশ্যই তাকে সময় দিতে হবে।’
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন মুস্তাফিজকে দলে না রাখার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ফিটনেস ও বোলিং দক্ষতার কথাই বলেছেন, ‘তার বোলিং দক্ষতা ও ফিটনেসে এখনও অসুবিধা আছে। টেস্টে অনেক বেশি বোলিং করতে হয়, ওই ধরনের ফিটনেস এখনও সে অর্জন করেনি। ফিজিক্যাল ফিটনেস তার ঠিক আছে। তবে বোলিং দক্ষতা ফিরে পেতে আরও সময় লাগবে।’ অনুশীলনে তার বোলিং পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধান নির্বাচক, ‘প্র্যাকটিসে সে ৪-৫ ওভার করে বোলিং করছে। সেখানে তার গড় স্পিড ও কতটুকু দিয়ে বোলিং করছে সেটাও দেখা হয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’ ফিটনেস ও বোলিং দক্ষতা ফেরানোর জন্য বিসিএলে মুস্তাফিজকে একটি ম্যাচ খেলানো হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘সে অনেক দিন ধরে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচ খেলছে না। তাই লঙ্গার ভার্সন না খেলিয়ে টেস্টে নামিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। সে তো আমাদের সম্পদ। তাকে আস্তে আস্তে সুস্থ করে তুলতে হবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 182 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ