আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম সাফল্যের শীর্ষ অবস্থানে

Print
 সারা বিশ্বের মত আমাদের দেশেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারী উদ্যোগ সর্বমহলে সমাদৃত। বর্তমানে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যার মধ্যে অন্যতম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সর্বক্ষেত্রে সাফল্যের চূঁড়ায় তাদের লক্ষ্য। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্ববোধ, মানবতাবোধ, সততা, বিজ্ঞানমনস্কতা, দক্ষতা এবং জীবনধর্মীতা সৃষ্টি করা, যাতে ধর্ম ও বিজ্ঞানের আলোকে তারা আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আইআইইউসি–তে সরকারের নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম. গোলাম মহিউদ্দিন এই বলেন, চট্টগ্রাম তথা দেশের কৃতি সন্তান চট্টগ্রামের গৌরব মরহুম মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে আইআইইউসি। সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে সাফল্যের সাথে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে আইআইইউসি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রজন্ম পরম্পরায় শিক্ষার আলোকে আলোকিত মানুষ উপহার দেয়ার ব্যাপারে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অঙ্গীকার তা পূরণে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম সর্বাত্তক চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের অধীনে ১১টি বিভাগ হল কোরআনিক সায়েন্স এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য এবং আইন বিভাগ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১৫ জন সার্বক্ষণিক শিক্ষকসহ ৪০০ জন শিক্ষক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রদান করছেন। সমৃদ্ধ অবকাঠামো আইআইইউসি’র একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কুমিরায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পরিমন্ডলে ৪৩ একর জমির উপর নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষের অধিক বর্গফুট জায়গায় ৪০টি ভবনে আইআইইউসি’র শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেদিকে দৃষ্টি যাবে সবুজ আর সবুজ, শিক্ষার মনোরম পরিবেশ। এভাবেই আইআইইউসি’র নিজস্ব ক্যাম্পাস সাজিয়েছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যগণ এবং বিউটিফিকেশন কমিটি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০১২ ও ২০১৬ সালে সারাদেশে বৃক্ষরোপণে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরীতে আইআইইউসি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

উচ্চ শিক্ষায় ইচ্ছুক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এই বিষয়গুলো দেখার জন্য স্টাফ ডেভেলপমেন্ট ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশন নামে আলাদা একটি ডিভিশন রয়েছে। প্রতিবছর দরিদ্র মেধাবী ছাত্র–ছাত্রীদেরকে ৪ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার আর্থিক সুবিধা এবং বৃত্তি প্রদান করা হয়। আইআইইউসি ইতোমধ্যে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা ফি–তে অধ্যয়নের সুযোগ দিয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যেসব বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তা হলো: ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, ইউনিভার্সিটি অব কেপ্‌ ব্রেটন (কানাডা), মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন লেস্টার (যুক্তরাজ্য), এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজী (থাইল্যান্ড), ত্রিশক্তি ইউনিভার্সিটি (ইন্দোনেশিয়া), পোর্টল্যাল্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি, (যুক্তরাষ্ট্র) ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ার (যুক্তরাজ্য), আল জাইম আল আজহারী ইউনিভার্সিটি (সুদান), ওমদুর্মান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (সুদান), ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়া (ইউসিম), ইউনিম্যাপ (মালয়েশিয়া), ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি (নেপাল) এবং হুবে ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজী (চীন)। এছাড়াও আরো ১২টি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

এখানে পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট ল্যাব, ১৭২ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সুবিধা, প্রায় ১৩ হাজার ৬৯১ টি ই–জার্নাল ও ই–বুক, ১২ হাজার ২৭৫ টাইটেলের ৮০ হাজার ৫২৬টি বইয়ের লাইব্রেরি নিয়ে সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান ছাত্রসংখ্যা ১১ হাজার ৩৩৯ জন। এর মধ্যে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, চীন, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও সুদানের ২ শতাধিক বিদেশী ছাত্র অধ্যয়ন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫০ জন অমুসলিম ছাত্র–ছাত্রী লেখাপড়া করছে।

এছাড়া উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গবেষণা কাজকে বিশেষভাবে প্রমোট করার জন্য সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন (সিআরপি) নামে আলাদা একটি ডিভিশন রয়েছে। যার বাৎসরিক ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৬ জন পিএইচডি ডিগ্রীধারী শিক্ষক রয়েছেন। সবার লক্ষ্য একটাই, সাফল্যের শিখরে পৌঁছা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 628 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ