আন্দোলনের মুরদ নেই

Print

বিদেশে বসে সরকারকে হটানোর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি এমন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আন্দোলন করার মুরদ নেই, বসে বসে; সব জানি আমরা। কোথায়, কারা কারা যাচ্ছে, কী আলাপ হচ্ছে। লন্ডনের খবর, দুবাইয়ের খবর, ব্যাংককের খবর, কী কী শলাপরামর্শ হচ্ছে, কোন কোন পথ খোঁজা হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর জন্য- এসব খবর এই তথ্যপ্রবাহের যুগে গোপন থাকে না। সব আমরা জানি। কারা কারা এ ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছে সব খবর আমাদের কাছে আছে।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে প্রধান বিচারপতি জনগণের একটি উপকার করেছেন। বর্তমান অবৈধ সংসদ ভেঙে দেয়া উচিত’ বিএনপি নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘হাফিজ সাহেবের মামা বাড়ির আবদার। এরপর আবার আরেক কাঠি এগিয়ে গিয়ে বলবে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর আয়োজন করবে। হারানো ময়ূর সিংহাসন ফিরে পাওয়ার বাস্তবায়ন করলে তাদের মামা বাড়ির আবদার ষোলকলায় পূর্ণ হয়ে যাবে।’
কাদের বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে গর্তে থেকে বের হয়ে লাফালাফি করছে বিএনপি। কয়েকদিন লাফালাফি করে এখন তারা বুঝতে পেরেছে ক্ষমতার রঙিন খোয়াব আবারও কর্পুরের মতো উবে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বদলায়নি। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। কারণ এবার পার্টিসিবল, ক্রেডিবল, ফ্রি এবং ফেয়ার নির্বাচন হবে। ক্রেডিবল ইলেকশনে তারা জিততে পারবে না, সেটা বিএনপি জানে এজন্যই আবারও তারা ষড়যন্ত্র করছে।’
যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এ অপশক্তিকে প্রতিরোধ, প্রতিহত করতে হবে। প্রস্তুত হয়ে যান, বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়ঙ্কার অবস্থা ফিরে আসবে।’
কাদের বলেন, ‘তাদের ভোটকেন্দ্রেও যাওয়ার লোক থাকে না। যদি জামায়াত না থাকত ভোটকেন্দ্রেও বিএনপির লোক থাকত না। জামায়াতকে নিয়ে তারা এখন পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
খালেদা জিয়ার জন্মদিনের কেক না কাটার বিষয়ে কাদের বলেন, ‘বন্যার কারণ দেখিয়ে জনরোষের মুখে ভুয়া জন্মদিনের কেক কাটিয়ে বিএনপি কিন্তু সুযোগ পেলে তারা কেক কাটত এবং জন্মদিনের উৎসব পালন করত। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
তিনি বলেন, ‘যারা ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিনের কেক কেটে আমাদের হৃদয়ে এবং অনুভূতিতে আঘাত করে তাদের সঙ্গে কেন সংলাপ করব? তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে বিদ্বেষের চোখে দেখে।’
বিএনপি উত্তরাঞ্চলে কোনো ত্রাণ দেয়নি অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘দুর্গত এলাকার কোনো মানুষ বলতে পারেনি বিএনপি ত্রাণ নিয়ে কোন এলাকায় আছে। ফটোসেশন করে ঢাকায় চলে এসে এখন সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে।’
যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাঈনুল হোসেন চৌধুরী নিখিল, দক্ষিণের সভাপতি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন ইকবাল মাহমুদ বাবলু।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 181 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ