আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে যে ১২টি কারণে

Print

মাঝে মধ্যে আমরা এমন কিছু মারাত্বক ভুল করে থাকি যেগুলো আমাদের ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে ফেলে। এই ভুলগুলোর কারণে চাকরিচ্যুও হতে পারেন আপনি। কিন্তু সাধারণত ছোট ছোট ভুল জমা হওয়ার মাধ্যমেই কর্মীরা তাদের কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়েন। তাই এমন ১২টি বাজে আচরণের কথা উল্লেখ করা হলো যেগুলো আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য কারণ হতে পারে:

প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে না চলা

#১ প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে না চলা

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তার নিজস্ব সামাজিক প্রথানুযায়ী কার্যক্রম চালায়। তাই সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারলে আপনি সহকর্মীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। আর তাছাড়া আপনার ব্যাপারে সহকর্মীদের মনে এই ধারণা তৈরি হবে আপনি অফিসে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহী নন।

অজুহাত তৈরি করা

#২ অজুহাত তৈরি করা

নিজের ভুল ও ব্যর্থতাগুলোর দায় গ্রহণ না করে অজুহাত তৈরি করে সে দায় এড়াতে চান।

নুন্যতম কাজ করা

#৩ নুন্যতম কাজ করা

আপনি হয়তো নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই কাজ শেষ করেন এবং গুনগত মানসম্পন্ন কাজ করেন। কিন্তু আপনার কাজের পরিমাণ খুবই কম।

আকর্ষণীয় পোশাক না পরা

#৪ আকর্ষণীয় পোশাক না পরা

আপনি একবার কোনো অবস্থানে থিতু হওয়ার পর আপনার অবয়বও সে অনুযায়ী থিতু হতে হবে। কিন্তু তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে আপনি বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কর্তৃত্ব হারাবেন। শতবর্ষ পুরোনো এই প্রবাদটি মনে রাখবেন: “আপনি যে চাকরি চান সে অনুযায়ী পোশাক পরুন।”

কথা অনুযায়ী কাজ না করা

#৫ কথা অনুযায়ী কাজ না করা

কাউকে আপনি যা করে দেওয়ার কথা বলেছেন তা যদি করতে ব্যর্থ হন তাহলে আপনি অনির্ভরযোগ্য হিসেবে খ্যাতি পাবেন। কথা অনুযায়ী কাজ করলে আপনি নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য হবেন এবং আপনার ওপর আরো দায়িত্ব অর্পণের ব্যাপারে বিশ্বস্ততা অর্জন করবেন। ফলে সহজেই প্রমোশনও পাবেন।

হতাশা

#৬ হতাশা

আপনি যদি অভ্যাসগতভাবেই বাজে মনোভাব লালন করেন তাহলে বসের কাছে আপনি একটি বালাই হিসেবেই গণ্য হবেন। অনবরত ঘ্যাঙালে এবং অভিযোগ করলে আপনি চারপাশের লোকদের কাছে প্রিয়ভাজন হতে পারবেন না। ফলে আপনার বসও আপনাকে বেশিদিন কাছে রাখতে চাইবেন না।

সহকর্মীদেরকে অগ্রাহ্য করা

#৭ সহকর্মীদেরকে অগ্রাহ্য করা

সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা উচ্চ-পদস্থদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সকলের পরিচিত এবং পছন্দনীয় হতে চেষ্টা করুন। যাতে সহকর্মীরা প্রয়োজনের সময় আপনাকে মূল্যবান তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন।

গড়িমসি করা

#৮ গড়িমসি করা

কোনো প্রকল্প সম্পন্ন করতে শেষসীমা পর্যন্ত বিলম্ব করার ফলে শুধু আপনিই অতিরিক্ত চাপে পড়বেন না। বরং এতে আপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাকী সকলেরই কাজ থেমে থাকবে। ফলে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সবার আগে আপনাকেই অভিযুক্ত করা হবে।

অফিসে দেরি করে আসা

#৯ অফিসে দেরি করে আসা

এতে সহকর্মীরা ভাববেন আপনি তাদের সময়ের কোনো মূল্য দিচ্ছেন না। এতে আপনাকে অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল এবং যত্নহীন মনে হবে। ফলে লোকে আপনাকে বিশ্বাস করতে ভয় পাবেন। সুতরাং যে কোনো মূল্যে সবসময়ই সময় মতো অফিসে হাজির থাকুন।

অনবরত কথা বলা

#১০ অনবরত কথা বলা

এতে অন্যরা তাদের কাজ সম্পন্ন করতে বাধাগ্রস্ত হন। সারাক্ষণ বকবক করলে অন্যরা আপনার সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহী হবেন না।

ইমেইল অগ্রাহ্য করা

#১১ ইমেইল অগ্রাহ্য করা

সময় মতো ইমেইলের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে যাদের উত্তর দরকার তারা হতাশা হয়ে পড়বেন। আর সহকর্মীরাও ভাববেন আপনি তাদের সময়ের মূল্য দেন না। এতে আপনি অপেশাদার হিসেবেও কুখ্যাতি অর্জন করবেন।

রুঢ়তা

#১২ রুঢ়তা

কেউ যদি আপনার সঙ্গে কাজ করতে না চায় তাহলে আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন তাতে কিছুই যায় আসে না। রুঢ় আচরণে শুধু আপনার সহকর্মীরাই দূরে সরে যাবেন না বরং ম্যানেজাররাও আপনাকে পছন্দ করবেন না। মনে রাখবেন লোকের মন জয় করার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো নম্রতা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 214 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ