আপনি যে কারনে প্রান ফ্রুটো / ফ্রুটিকা খাবেন না

Print

একটা ছড়া আপনারা শুনছেন কিনা জানি না ।

ঘরের কোনে মনের বনে, তোমার সাথে জোছনা স্নান…
তোমার দুহাত থাকলে হাতে; স্বপ্নে জাগে মধুর প্রাণ।

মধুর প্রান । বা প্রানে মধু । সবাই আমার সাথে একমত হবেন আমি প্রান ফ্রুটো ড্রিংকসের কথা বলছি । । কিন্তু এই মধু যে বিষ তা জানাতেই আজকে আমার এই পোস্ট ।মেহমানদারী কি আম ছাড়া হয় / বাজারের সেরা আমি টিই কিনলাম। ঔ মহিলারে থাবড়াতে মন চায় ।
প্রান ফ্রুটো ড্রিংকস / ফ্রুটিকা এর আ্যাড টা যারা দেখেছেন, তারা বলতে পারবেন আমি কারে কথা টা বলছি। মহিলা বলতে মডেল কে বুঝালাম। মডেলটা কত্ত বড় বেকুব বুঝে শুনে আমাদের পচা জিনিষ খাইতে কয় । আমি অবাক, বিস্মিত ।

আসুন জানি প্রান ফ্রুটো ড্রিংকস / ফ্রুটিকা কি দিয়া তৈরী ও কেন খাবেন না:

১। প্রানের ফ্রুটোতে/ ফ্রুটিকা তে আমার জানামতে ১৮% পাল্প ইউজ করা হয়। কিন্ত আমার জানা মতে পাল্প ৫-৮%এর বেশি না। আমি যদি বোতলের গায়ের উপর বিশ্বাস রাখি তবে , মানে দাড়ায় এক বোতলে ১০০ ভলিউম এর অনলি ১৮ ভাগ আম । প্রশ্ন হলো বাকী ৮২ % কি থাকে । প্রান পাল্পের সাথে যে মিষ্টি কুমড়ার পাল্প মেশায় (যেহেতু মিষ্টি কুমড়ার নিজের কোন স্বাদ নেই) যার পরিমাণ থাকে ৮২ % । এজন্য প্রাণ কোম্পানী কৃষকদের মিষ্টি কুমড়ার চাষে সহায়তা দেয়- সেটাও আপনার জানা থাকার কথা। ম্যাঙ্গো পাল্প কত ক্যাটাগরির হয়, এবং প্রান যে দেশের বাজারে যে দামে জুস বিক্রি করে তাঁর জন্য সবচে লোয়ার ক্যাটাগরির পাল্প ব্যবহার সেটা মনে হয় আপনি নিজেই জানেন।

২। ফরমালিন ডিটেক্টর ফ্রুটোয় ছোঁয়ালেই সেন্সর বেজে ওঠে । তার মানে প্রানের ফ্রুটোতে ফরমালিন আছে । বিশ্বাস হয় না ? আসুন, আরেকটু গভীরে যাই , কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের পর্যটন এলাকা ফয়’স লেক চিড়িয়াখানা রোডের মুখে লাকী হোটেলে। সেখানেও ফ্রুটোয় ফরমালিন পাওয়া যায়। । সেখানে লিখা আছে , চট্টগ্রামে জব্দকৃত ফ্রুটোয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৭ পিপিএম (পার্ট পার মিলিয়ন) ফরমালিন পাওয়া যায়। যদিও সুস্থ মানুষের শরীরে ফরমালিনের সহনীয় মাত্রা শূন্য দশমিক শূন্য ২ পিপিএম। এখন বলুন, আপনে কি সুখে প্রান ফ্রুটো খাবেন ।

৩। ফ্রুটো/ ফ্রুটিকা পুরাই ফালতু জিনিষ। চটুল টেস্ট ছাড়া এটা আর কোন কাজের না।এটাতে শরীরের দরকার এমন কোন নিউট্রিশন নেই।শরীর বেদরকারী জিনিষ পছন্দ করেনা।

৪। মেটাবোলিক সিন্ড্রম নামে খুব খারাপ একটা সমস্যা আছে যার চারটা অংশ – উচ্চ রক্তচাপ, মুটিয়ে যাওয়া, হাই কোলেস্টেরল, ইন্সুলিন রেজিস্ট্যান্স। সফট ড্রিঙ্ক আপনাকে এটা এচিভ করতে অনেক সাহায্য করবে।

৫। আপনার রক্ত চাপ বাড়াবে।

৬। ডিহাইড্রেশন – অনেক সফট ড্রিঙ্ক এ প্রচুর ক্যাফেইন থাকে। কীডনী এই বিপুল কৄত্তিম সুগার কে বের করার জন্য শরীর থেকে পানি টেনে নেয়। কাজেই আপনি যখন মেটাতে গিয়ে প্রচুর সোডা বা লেমন জাতীয় পানিয় খাচ্ছেন, আপনি আপনার তৃষ্ণা বাড়াচ্ছেন. ডার কি আগে জিত নেহি, ডায়াবেটিস আর কিডনি ডিজিস অপেক্ষা করছে।

৭। এই ধরনের ড্রিংকস পান, আপনার ওজন বাড়ানো ও ডায়াবেটিস এর রিস্ক বাড়িয়ে দেয়। ড্রিঙ্কস আপনাকে শুধু মোটাই করবেনা, এটা বডির সুগার প্রোসেস শক্তিটাকে একটা স্ট্রেস এর মধ্যে ফেলে দেয়। ডায়াবেটিস যে আস্তে আস্তে একটা এপিডেমিক লেভেল এ চলে যাচ্ছে, এটার পিছনে অনেক বৈজ্ঞানিক ই মনে করেন সফট ড্রিঙ্ক এর সজলভ্যতাকে দায়ী করেন।
আপনি যখন সফট ড্রিঙ্ক খাচ্ছেন, শরীরে ঢুকিএ দিচ্ছেন একরাশ সুগার, যা ঐ মুহুর্তে শরীরের কোন দরকার নেই। Pancreas কে তখন হুড়মুড় করে বিশাল এমাউন্ট এর ইন্সুলিন তৈরী করতে হচ্ছে এই সুগার কে প্রোসেস করার জন্য । এটা Pancreas এর জন্য Exhaustingএকটা ব্যাপার। এবং নিয়মিত এরকম ঘটতে থাকলে ইন্সুলিনের কার্যক্ষমতা কমে আসাটা সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু গবেষনায় এটাও দেখা গেছে আপনি যখন এরকম কৄত্তিম ফ্রুক্টজ বা গ্লুকোজ খাচ্ছেন, তখনি এরকম সমস্যা হচ্ছে। আপনি যদি একদম ন্যাচারাল ফলের জুস খান, সেটা প্রসেস করতে শরীরের তেমন কোন সমস্যা হয়না।

আর কি কোন উদাহরন দেয়া দরকার আছে ?

কাজেই, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আল্লাহর দেয়া পানির উপরে কিছু নেই। বিজ্ঞাপনের চটকে মজে যাবেন, সেরকম মানুষ আপনি আশা করি নন। প্রাণ ড্রিংকস খোলার আগে উপরের কথা গুলো একটু চিন্তা করবেন। শিশুদের প্রিয় জুস প্রাণ , ভুলেও ওদের হাতে প্রান তুলে দিবেন না।

আমার এই পোস্ট টা পড়ে থাকলে আপনাদের আমি অনুরোধ করব এই ড্রিংকস থেকে ১০০ হাত দুরে থাকুন। নিজে ফল কিনে এনে ড্রিংকস বানান । কিভাবে বানাতে হয় দরকার হলে আরেকটা পোস্টে এ লিখে দিব ।

ইচ্ছা করেই কোন ছবি ইউজ করালাম না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 516 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ