আর কোনো মৃত্যু নয় রক্তাক্ত ইউপি নির্বাচন

Print

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা, গোলাগুলি, প্রাণহানিই কেবল নয়, ভোটের আগের রাতে বাক্স ভরে রাখার মতো মারাত্মক অপরাধ সংঘটনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন।

ইউপি নির্বাচনের দিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সার্বিক বিবেচনায় আরও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা ‘অনেক দেশের মতো নির্বাচনী সহিংসতা তো কিছুটা ঘটবেই’, এই মনোভাব থেকে দেখা সমীচীন হবে না। নানামুখী সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়মের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। গত ২২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনের চতুর্থ পর্ব পর্যন্ত ৬৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রথম দুই পর্বে বিপুল প্রাণহানির পর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল গিয়েও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু প্রমাণ মিলছে, এতে কোনো কাজ হয়নি। গ্রামীণ ভোট তার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেজাজ হারাতে বসেছে।

বাক্স ভরে রাখার কারণে ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের ঘাটতি পড়ার মতো অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনের দিনগুলোতে যেকোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান গ্রামীণ জীবনে একটি অস্বস্তিকর উপলক্ষ হিসেবে গণ্য হতে পারে। নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্বহীনতায় ও গাফিলতির কারণে নির্বাচনের স্বাভাবিক চরিত্রকে যেভাবে নষ্ট করল, তার দায় প্রধানত তাদেরই নিতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অবস্থা দাঁড়িয়েছে ‘কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো’র মতোই। সে কারণে তারা আগের পর্বগুলোর সঙ্গে তুলনা করে দাবি করতে পারছে যে, ‘চতুর্থ ধাপে এসে মনে হয় না যে কমিশন পিছিয়ে পড়েছে।’

আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে এবং সরকার কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাধ্য। নির্বাচন কমিশন তাদের এই ক্ষমতা কেন যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছে না, সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা আশা করব, শেষ দুই ধাপের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের টনক নড়বে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো মৃত্যু দেখতে চাই না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 44 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ