আ.লীগে ফিরছেন মনজুর, লক্ষ্য নির্বাচন!

Print

রাজনীতিকে যতই বিদায় জানাতে চান রাজনীতি বিদায় জানায়নি মোহাম্মদ মনজুর আলমকে। চট্টগ্রামের সাবেক এই মেয়র গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা আর সামাজিক কর্মকা-ে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ তাকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকেছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন মনজুর আলম। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা মার্কায় নগরীর চারটি আসনের কোনো একটিতে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে লড়বেন- এমন বাতাস চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে বইতে শুরু করেছে।
বিষয়টি নিয়ে মনজুর আলম নিজেও না করেননি। আকারে ইঙ্গিতে সে আগ্রহের কথাই বলেছেন তিনি। আমাদের সময়কে বলেছেন, রাজনৈতিক প্লাটফরমে থাকলে বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা যায়। নেতা নয়, কর্মী হওয়াই আমার মানসিকতা। আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন আসতে এখনো দেড় বছরের মতো সময় অবশিষ্ট আছে। এই সময়ে রাজনৈতিক মাঠে কত মেরুকরণই তো ঘটতে পারে। আমি সময়ের অপেক্ষায় আছি।

ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মেয়র নির্বাচন করবেন কিনা? এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে মনজুর আলম বলেন, সাড়ে তিন বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং পাঁচ বছর নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। ওই দায়িত্বে থেকে নগরবাসীকে অনেক সেবা দিয়েছি। ওই পদে আর ফেরার ইচ্ছে একেবারেই নেই। এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছের কথা জানান। আওয়ামী লীগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মনজুর আলম বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা সবসময় পেয়েছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমারই ভাতিজা দিদারুল আলমকে তিনি সীতাকু- আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে এমপি করেছেন। তিনি আমাকে কোনো নির্দেশ দিলে তা অমান্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে মনজুর বলেন, এখনো কারও সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। আমি একজন সমাজসেবক। সমাজসেবার কাজেই আছি।
মোহাম্মদ মনজুর আলম ১৯৯৪ সালে নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে প্রথম ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আরও দুবার একই পদে জয়ী হন। এই পুরো সময় চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মহিউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের পদে থাকলেও মনজুর আলমের পদ ছিল না। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনেই ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে তিনি ছিলেন মেয়র মহিউদ্দিনের খুবই আস্থাভাজন। এ কারণে তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন ৯ বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মনজুর আলমকে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দশমবারের মতো ভারপ্রাপ্ত মেয়র হয়ে একটানা ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করেন। আর এই পুরো সময় জেলখানায় ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। মূলত এই দেড় বছরের ঘটনা পরম্পরাই দুজনের গুরু-শিষ্যের সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরায়। মহিউদ্দিন চৌধুরী অবিশ্বাস করেন মনজুর আলমকে। ফলে জেল থেকে বের হয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী পুনরায় মেয়রের দায়িত্ব নিলেও সেই মেয়াদে কমিশনার হিসেবে আর একদিনের জন্যও নগরভবনে যাননি মনজুর আলম।
২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আর বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হন মনজুর আলম। ওই বছরের ১৭ জুনের নির্বাচনে গুরু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন শিষ্য মনজুর আলম। পুরস্কার হিসেবে বিএনপিতে একটি বড় পদও পান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তবে বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েই যায়। এমনকি নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি স্কুলও যথানিয়মে চালাতে থাকেন। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও নিজের মত বদলাননি মনজুর আলম। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি আবারও বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী হন। হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে। নির্বাচনের দিনই দুপুরে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মনজুর আলম।
কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় অবদান রাখার জন্য প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরও একটি অনুষ্ঠানে মনজুর আলম হাজির হন। ওই অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পতাকা এবং মনজুর আলম আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর সাত মাস পার হলেও রাজনীতি নিয়ে বরাবরই চুপচাপ ছিলেন মনজুর আলম। তবে যথারীতি সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে।
মনজুর আলমের আওয়ামী লীগে ফেরার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
মোহাম্মদ মনজুর আলম পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোস্তফা-হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ৩০টিরও বেশি সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 374 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ