আ. লীগ চায় ২০১৯ সালে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

Print

আওয়ামী লীগ২০১৯ সালে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে ওই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠানে দৃঢ়প্রত্যয়ী ক্ষমতাসীন দলটি। আর এতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিসহ ২০দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকেও দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।
ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ‘সুন্দর ও সফলভাবে’ দেশ পরিচালনায় সক্ষম হয়েছে দলটি। তবে ওই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় তাদের মধ্যেই কিছুটা খেদ রয়ে গেছে। তারা মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে নির্বাচন দেশি-বিদেশি সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হতো। সরকারের পথ চলাও হতো আরও মসৃণ।

এদিকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে দাতাগোষ্ঠী ও পশ্চিমাবিশ্ব একপর্যায়ে মেনে নিলেও এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে, সেটা কতটা ইতিবাচকভাবে নেবে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের চিন্তার অন্ত নেই। একাধিক দাতা সংস্থা ও দেশের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংসদীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে আগামী নির্বাচনের বিষয়ে তাদের অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিনিধি দলের প্রধান জেন ল্যামব্যার্ট ইইউর ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন প্রেক্ষাপটে সম্পন্ন হয়েছে, তা এদেশের মানুষই ভালো জানে। ওই বিষয়টি নিয়ে আমরা আর কথা বলতে চাই না। তবে পরবর্তী নির্বাচনটি কিভাবে অংশগ্রহণমূলক করা যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনই আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। পরবর্তী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে—তার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানও হওয়া উচিত।’
সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট দ্য হিন্দু পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এজন্য তিনি রাজনৈতিক দলসহ নাগরিকদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে প্রকাশ্যে ‘অবৈধ’ বললেও ভেতরে-ভেতরে সরকারকে মেনেই নিয়েছে। যে কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটি অংশ নিয়েছে। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে তারা। আগামী সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে চায়। এমনকী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে বিএনপির আপত্তি থাকবে না বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে বিএনপি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা চায়।
এদিকে বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি—বিএনপি আন্তরিকতার সঙ্গে এসব নির্বাচনে অংশ নিলে ছোটখাটো যেসব বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তাও হতো না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই জন সদস্য বলেন, ‘বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলেও তাতে তাদের কোনও আন্তরিকতা ছিল না। যে কারণে আমাদের নিজেদের দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখা গেছে। আবার নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল বলেই ওই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতারাও কোনও প্রশ্ন তুলতে পারেননি।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ বলেন, ‘আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন করা সম্ভব। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে, তারা এখন সেই ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা ২০১৯ সালে আর সেই ভুল করবে না। শেখ হাসিনার অধীনেই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেবে।’
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সাংবিধানভাবে নির্ধারিত সময়েই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ বিএনপি যেন নির্বাচনে আসতে আগ্রহী হয় সেক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ছাড় দেওয়ার বিষয় এখন আসছে কেন? এখনও দুই বছর বাকি। নির্বাচন নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে কিছু ভাবছি না। নির্বাচন এলেই তখন দেখা যাবে।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। তবে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য কাউকে তো ডাকাডাকির দরকার নেই। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। আমরা এই প্রতিশ্রুতি তাদের দিতে পারি। আর তারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, অবশ্যই নির্বাচনে আসবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 109 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ