ইউনেসকোকে অগ্রাহ্য করেই প্রকল্প

Print

জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) অনুরোধ অগ্রাহ্য করেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে এগোনোর গতি ধীর। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অবকাঠামোর সাড়ে ৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ পেতে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও প্রায় দুই বছর বাড়তি সময় লাগবে। ২০২০ সালের অক্টোবরের মধ্যে এর প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র রামপাল নিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালকের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর একটি পরিবেশের কৌশলগত প্রভাব সমীক্ষা (এসইএ) করার আগে সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ কোনো ধরনের শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো করা যাবে না। গত জুলাই

মাসে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত এভাবেই বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছিল।
তবে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইউনেসকো রামপালের ব্যাপারে তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে। গত ৭ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ইউনেসকো রামপালের ব্যাপারে আপত্তি তুলে নিয়েছে। যখন ওই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়, তখন পোল্যান্ডের ক্র্যাকাও শহরে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভা চলছিল, শেষ হয়নি।
পরে গত ৯ জুলাই বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ইউনেসকোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি রামপাল প্রকল্পের বিষয়ে আপত্তি তুলে নিয়েছে। তাই প্রকল্পের কাজ চালাতে কারও আপত্তি নেই।
তবে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছিল, রামপাল প্রকল্প থেকে ইউনেসকো আপত্তি তুলে নেয়নি। জাতীয় কমিটি সরকারের বিরুদ্ধে রামপাল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তোলে। তারা ওই প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
গতকাল এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে যোগাযোগ করা হয় পোল্যান্ডে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সরকারের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, সরকার রামপাল প্রকল্প ও এসইএ সমীক্ষা একসঙ্গে চালাবে। ওই সমীক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে কোনো পরামর্শ বা সুপারিশ থাকলে তা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেই তাঁরা মনোযোগ দিচ্ছেন বলে জানান।
তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গতকাল এ ব্যাপারে বলেন, রামপাল প্রকল্প থেকে ইউনেসকো তার আপত্তি তুলে নিয়েছে বলে সরকার যা প্রচার করছে, তা মিথ্যার পর্যায়ে পড়ে। সরকার রামপাল বিষয়ে সামনে না গিয়ে পেছনের দিকে যাচ্ছে, যা সুন্দরবন ধ্বংস করবে এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবিধ্বংসী দেশ হিসেবে তুলে ধরবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 71 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ