ইসিজি রুমে গৃহপালিত বিড়াল

Print

একটি হাসপাতালের ইসিজি রুমে শুধু ইসিজি মেশিন থাকাই বাঞ্চনীয়। অথচ এ রকম রুমে যদি কোনো বিড়ালের আনাগোনা থাকে তাও কিনা অনেকটা ‘গৃহপালিত বিড়াল’— তাহলে তো প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমাদের প্রশ্নটাও সেখানে। ইসিজি রুমে কি বিড়াল থাকা জরুরি?
রাজধানীর পুরান ঢাকার অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। যেখানে পুরান ঢাকার অধিবাসী ছাড়াও বুড়িগঙ্গা নদীর ওপার থেকে রোগীদের লাইন হরহামেশা লেগেই থাকে। এমনও দেখা গেছে, সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা বা জরুরি সেবাটা নিয়ে পরবর্তীতে নামিদামি হাসপাতালে ভিড় করেন তারা। অথচ হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের ইসিজি রুমের যে হাল দেখা গেল তা খুবই দুঃখজনক। বলতে গেলে বিড়ালের বসবাস সেখানে। তাও কিনা একটি নয় একাধিক বিড়াল। এ দৃশ্য শুধু ইসিজি রুমের নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও পরিলক্ষিত হয়। বিড়ালগুলো নাকি রোগীদের খালি বেডেও বসে থাকে। সেবা নিতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেল। এছাড়া অনেক রোগী অভিযোগ করে বললেন, বেডের সাইড ক্যাবিনেটে রাখা খাবারের বাটিতেও প্রায় মুখ লাগায় এসব বিড়াল। জরুরি বিভাগের বিভিন্ন রোগী ইসিজি করাতে প্রবেশ করেন সেই রুমে। ঢুকেই বিড়াল দেখে অনেকেই হতচকিত হয়ে ওঠেন। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও যথেষ্ট হুমকিস্বরূপ। এমন দৃশ্য দেখা গেল গত বৃহস্পতিবার রাতেও। বিড়ালের ভাবভঙ্গি এবং হাঁটাচলা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ‘বাঘের এই মাসি’গুলো নিয়মিত আদর আপ্যায়ন পেয়ে যাচ্ছে ইসিজি রুম থেকে। এমনকি কোনো কোনো বিড়ালের মুখ ও গায়ে তরকারির ঝোলও লেগে ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় হাসপাতালে প্রায়ই এ রকম বিড়ালের আনাগোনা হয়। তবে প্রতিবছর একবার করে এসব বিড়ালকে বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে ছেড়ে আসা হয়। তারপরও কীভাবে যেন অনেক বিড়াল ফের ভিড় জমায় হাসপাতালে। গত বছরও একবার টাকা পয়সা খরচ করে ছেড়ে দিয়েছিলাম নদীর ওপারে। শিগগিরই আরও একবার এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবো। বিড়াল তাড়াতে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। তারপরও ফাঁকফোকর গলিয়ে চলে আসে। ’ অন্যদিকে, পেসেন্ট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. রাকিবুল ইসলাম লিটু বলেন, হাসপাতালে এ ধরনের বিড়ালের আনাগোনো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। আর সেটা যদি হয় ইসিজি রুমের মতো স্থানে তাহলে সেটা আরও ক্ষতিকর। কারণ, এদের লোমে বিভিন্ন জীবাণু এবং এলার্জির মাইট থাকে। এ দৃশ্যের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ইসিজি রুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের অবহেলা রয়েছে। তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 157 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ