উড়ে না জাতীয় পতাকা, গাওয়া হয় না জাতীয় সংগীত

Print

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিশু শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা অনুয়ায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২শত ৪৫ জন। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক। সকাল সাড়ে ৯ টায় বিদ্যালয় খোলার নিয়ম থাকলেও সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যালয় ছিলো তালাবন্ধ। এখানে চোখে পড়েনি কোন জাতীয় পতাকা। গাওয়া হয় না জাতীয় সংগীত।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ওই বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, ২ শত ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন মাত্র ১৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য আধা ঘণ্টা পর সকাল ১১ টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৪ জন শিক্ষক।

ওই এলাকার মাইদুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, মনির হোসেন ও ছকিনা বেগম বলেন, চর গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুই বছর আগে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বিদ্যালয়টি ৮ম শ্রেণিতে উন্নতি হলেও এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়নি। জটিলতার কারণে আপতত ৮ শ্রেণির পাঠদান বন্ধ আছে। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। দুই একজন আসলেও দুপুর ১২ টায় আসেন কিছুক্ষণ থেকে দুপুর ২ টায় চলে যান। ৮ম শ্রেণিতে উন্নতি হলেও ক্লাস হয় ৫ শ্রেণি পর্যন্ত। এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া না হওয়ায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের অনেক শিক্ষার্থী ২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে গড্ডিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গড্ডিমারী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস করেন। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন না।
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা অনুয়ায়ী শিশু শ্রেণিতে ২২ জন, ১ম শ্রেণিতে ২৮ জন, ২য় শ্রেণিতে ৩৫ জন, ৩য় শ্রেণিতে ৪৭ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৬৭ জন, ৫ম শ্রেণিতে ৩৩ জন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৮ জন ও ৭ম শ্রেণিতে ৫ জন করে মোট ২শত ৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। জটিলতার কারণে ৮ম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ আছে। কিন্তু ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির মোট ১৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ১ জন শিক্ষার্থীরও দেখা মেলেনি। শিশু থেকে ৮ম শ্রেণি মিলে মোট ১৭ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ রুম ও গোটা মাঠ দখল করে নিয়েছে ভুট্টা ব্যবসায়ীরা।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগম বলেন, চর অঞ্চল হওয়ায় আমাদের যেতে একটু বিলম্ব হয়। আর এখন ভুট্টা মাড়াই চলার কারণে উপস্থিতি একটু কম। শিক্ষক ৮ জনের মধ্যে ১ জন প্রশিক্ষণের বাইরে আছেন ও ১ জনকে পার্শ্বে একটি বিদ্যালয়ে সাময়িক বদলী রাখা হয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২ মাস আগে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম। চর অঞ্চলের বিদ্যালয় হওয়ায় একটু সমস্যা হতে পারে। তারপরও অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 112 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ