এএসআই এরশাদ নিজেই অফিসার, নিজেই বস!

Print

কনস্টেবল থেকে এএসআই হয়ে সদ্য যোগদান করা এরশাদ মণ্ডল নিজকে খুব জ্ঞানী ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে পদোন্নতি পেয়ে মাত্র থানা পর্যায়ে পোস্টিং হলো। পদোন্নতির ভারে পুলিশ অফিসার ভাব তার মাঝে দেখা যেত বলেও জানান তার সহকর্মীরা।
২০০৬ সালের ৩১ অক্টোবরে কনস্টেবল হিসেবে গাইবান্দা জেলা থেকে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন এরশাদ মণ্ডল। সর্বশেষ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অস্ত্রভাণ্ডারে কনস্টেবল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ডিসেম্বরে (২০১৬) এএসআই পদোন্নতি পেয়ে ২৮ ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় আসেন। এখনো শাহবাগ থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসারদের সাথে তার ঠিকমতো পরিচয়ও হয়নি।

বৃহস্পতিকারের তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষায় কমিটির ডাকা হরতালে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজের দুই সাংবাদিককে নির্যাতন করে এরশাদ চলে আসেন আলোচনার টেবিলে।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন অস্ত্রভাণ্ডারে। সেখানে বর্তমানে দায়িত্বরত তার সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, এরশাদ অনেকদিন ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করে আসছিল। তার মাঝে কোনোদিন উগ্রভাব দেখিনি। যখন সে প্রমোশনের জন্য পরীক্ষা দিয়ে ঠিকে গেল তারপর থেকেই তার মাঝে কিছুটা অহংকারের ভাব আমরা লক্ষ করি।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে যখন শাহবাগ থানায় এএসআই হিসেবে যোগদান করে তখন তাকে ফোনে পাওয়াটাই কষ্ঠসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। না চেনার ভান ধরে থাকে। এক কথায় সে এখন পুলিশ অফিসার, বসের মতো। সর্বদাই ব্যস্ত দেখায় মোবাইলে কল দিলে।
শাহবাগ থানার কয়েকজন এসআই, এএসআইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায় অনেকেই তাকে চিনেও না। শুধু জানেন এরশাদ নামে একজন এএসআই হিসেবে যোগদান করেছে। কে সেই এরশাদ পরিচয়ও হয়নি।
এই থানায় কর্মরত একজন এসআই সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সদ্য পদোন্নতিতে কনস্টেবল থেকে এএসআই হয়ে আসছে। পদোন্নতির ভারে বিভোর। র‌্যাংকের মর্যাদাটা কি বুঝতে পারছে না।

সাংবাদিক নির্যাতনের ব্যাপারে এরশাদ মণ্ডলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাছে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে জানান, আমি সাংবাদিক ভাইকে মারি নাই, তাকে সেইভ করার জন্য আগলিয়ে রাখছিলাম। পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিলে আমি সাংবাদিক ভাইয়ের ওপর পড়ে যায়। সেই সময়ে আমি ক্যামেরা বন্দি হয়ে যাই। আমি কোনো অন্যায় করিনি।
‘কোনো অন্যায় করেননি, তাহলে নিজের পায়ের বুট দিয়ে লাথি মারা হচ্ছিল ছবিতে আপনাকে স্পষ্ট দেখা যাওয়ার পরও কেন অস্বীকার করছেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, আমি পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 242 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ