এখানে ভালো নেই, বাংলাদেশেই ভালো ছিলাম-ছিটমহলের বাসিন্দারা।

Print

ছিল না দেশ, ছিল না কোনো পরিচয়। আর তার জন্য দীর্ঘ ৬৮ বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ছিটমহল বাসীদের। ভাগ হয়ে গেল দেশ। পরিচয় মিলল। বড় আশা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল হয়েছে তা তাদের কথাতেই বোঝা যায়। তাইতো তারা জানান, ‘ওখানেই ভালো ছিলাম। এখানে আমরা ভালো নেই।’

সন্তুরাম, মায়ারানিরা বাংলাদেশের ছিট থেকে ভারতে এসেছিলেন দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে শান্তিতে থাকবেন বলে। কিন্তু ভারতে এসেও শান্তিতে নেই বলে অভিযোগ সাবেক এ ছিটমহলবাসীর। ছিটমহলের বাসিন্দারা জানান, সরকার যদি তাদের ভালো করে না রাখতে পারে তাহলে তাদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিক।

স্বাধীনতার ৬৮ বছর পর ভারতের নাগরিকত্ব পান সদ্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ছিটমহলের বাসিন্দারা। ভারতের ছিটে থাকলেও স্বপ্ন ছিল ভারতে গিয়ে সেখানকার নাগরিক হয়ে ভোটদান করবেন। ভারতীয় হওয়ার গর্ব অনুভব করবেন। শান্তিতে বসবাস করবেন। কিন্তু ভোট দিতে পারলেও সব স্বপ্ন তাদের পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।

কেন্দ্রীয় সরকার ছিটমহলবাসীর জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও তারা সে অর্থ পাচ্ছেন না। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই পর্যাপ্ত থাকার ঘর। নেই সঠিক স্বাস্থ্যসেবাও। এমনই অভিযোগ হলদিবাড়ির এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্পের বাসিন্দাদের।

পেটে যেখানে ভাত জোটেনা সেখানে স্বপ্নেরা বড় মলিন হয়ে যায়। তাইতো তারা জানান, ‘অনেক আসা নিয়ে ভারতে এসেছিলাম। কিন্তু এখন এখানে পেটপুরে ভাত জুটছে না।’

বাংলাদেশের ছিটমহল থেকে আসা জয়প্রকাশ বর্মন বলেন, ‘আমাদের চার প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে। সরকার আমাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে এদেশে নিয়ে এল। আসা করেছিলাম, একটু ভালো করে দিনযাপন করব। কিন্তু বেঁচে থাকার ন্যূনতম রসদটুকুও পাচ্ছি না। সরকার থেকে ৩০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, ২ কেজি লবণ দেয়া হলেও যাদের পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি, তাদের খাবার জুটছে না গোটা মাস।’

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে থাকা ৫১টি ছিটমহলের ১৪,৮৬৪ জন বাসিন্দা যুক্ত হয়েছেন ভারতের সঙ্গে। বাংলাদেশে থাকা ছিটমহলবাসীর মধ্যে ভারতে এসেছেন ৯২২ জন।

সবমিলিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের পর সাবেক ছিটমহলের ১৫,৭৮৬ জন বাসিন্দা আসেন। তার মধ্যে ভোটে নাম উঠেছে মোট ৯৭৭৬ জনের। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮১৭ জন, নারী ভোটার ৪৮৫৯ জন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 23 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ