এপ্রিল ফুল: একটি ঘৃণ্য, হৃদয় বিদারক ও লোমহর্ষক ইতিহাসের নাম

Print

এপ্রিল ইংরেজি বর্ষের চতুর্থ মাস। ফুল (Fool) একটি ইংরেজী শব্দ , যার অর্থ বোকা। এপ্রিল ফুলের অর্থ “এপ্রিলের বোকা”। ‘এপ্রিল ফুল’ ইতিহাসের একটি জঘন্যতম ও ঘৃণ্য এবং হৃদয় বিদারক লোমহর্ষ ইতিহাস। আজ আমরা অনেকেই এসম্পর্কে জানিনা বলে ইহুদী খৃষ্টানদের সাথে “এপ্রিল ফুল” পালন করে থাকি। এর ইতিহাস সম্পর্কে আমরা জানতে চেস্টাও করিনা। আর একারণে আজ আমাদের অধ:পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে।“যে জাতি তার ইতিহাস সম্পর্কে জানেনা, সে জাতির মত সর্বহারা জাতি আর হতে পারেনা।। মুল কথায় আসি, হিজরী প্রথম শতাদ্বীর শেষের দিকে। যখন সারা বিশ্ব মুসলমানদের বিজয়ের বাতাস বয়ে চলছে। সে বাতাস ইউরোপের দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থিত রুপসি স্পেন, উত্তরে ফ্রান্স , পশ্বিমে পর্তুগাল,পুর্বে ও দক্ষিনে ভুমদ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। স্পেনের রাজা লডারিক ছিলেন একজন কট্টরপন্থি জালিম খৃষ্টান। তার জুলুমে জনগন ছিল অতিষ্ঠ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস ছিলনা কারো। যখন গোটা ইউরোপের ক্রান্তিকাল চলছিল, মুসলিম রণক্ষেত্রে কমান্ডার প্রধান ছিলেন মূসা বিন জুবায়ের। তিনি দক্ষিন মরোক্ষো জয় করে কায়রোতে অবস্থান করছিলেন। তখন তার সাথে কাউন্টার রাজার জুলিয়ান সাক্ষাত করে মাজলুম মানবতাকে রক্ষা করার জন্য মুসা বিন নুসায়েরকে আহবার করেন। মুসা বিন সুসায়ে তার অধীনে সেনাপতি তারেক বিন যিয়দের নেতৃত্বে ৭০০০ সৈন্যেল একটি মুজাহিদ বাহিনি প্রেন করেন। ৯২ হিজরী ২৮ রমযান ,৭১১ হিজরী , জুলাই মাসে স্পেনে অবতরন করেন মুজাহিদ বাহিনী। শুরু হয় খৃষ্টানদের সাথে প্রচন্ড লড়াই।দীর্ঘ জিহাদের পর খৃষ্টান বাহিনী পর্যদুস্ত হয়। এককের পর এক স্পেনের সকল শহর করায়ত্ব হয় মুসলমানদের । সলিল সমাধি হয় জালিম শাসকের। তারপর থেকে ১৪৯২ সাল পর্যন্ত ৮০০ বছর মুসলমানেরা শান্তি আর সাম্য বজায় রেখে স্পেন শাসন করে। এদীর্ঘ আট বছর মুসলমানেরা ¯েপনের বর্বর চেহারা সম্পুর্ন সভ্যতার আলোকে উদ্ভাসিত করে। তাদের ন্যায় ইনসাফ আর ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ দলে দলে ইসলামে আশ্রয় নেয় ইসলামের ছায়াতলে। শিক্ষা সংস্কৃতি , জ্ঞান বিজ্ঞান , শিল্প বাণিজ্যে ইত্যদির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় স্পেন। কালের প্রবাহে এক সময় সুসলমানেরা শিক্ষা সংস্কৃতি,জ্ঞান বিজ্ঞান ছেড়ে আরাম আয়েশে মত্ত হতে শুরু করলো। শাসকদের মাঝে অর্থের লোভ, ভোগ বিলাসিতা ও বিজাতীর আচার আচরনসহ সব ঘরনের নৈতিক অধ:পতন দেখা দেয়। এমন কি নৈতিক অধ:পতনের নি¤œপর্যায়ে উপনিত হলো। মুসলিম শাসকদের মধ্যে অনৈক্য ও বিবাদ শুরু হয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগায় খৃস্টান শক্তি। যখনই মুসলমানেরা নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ভুলে আরাম আয়েশে মত্ত হল তখন তাদের উপর নেমে আসলো অমানবিক অত্যাচার এবং হত্যঅযজ্ঞ। ইউরোপের মাটি থেকে চিরতওে বিলিন করার জন্য মেতে উঠলো ইউরোপিয় নরপিচাশেরা। পর্তুগিজ রানী ইসাবেলা এবং পার্শ্ববর্তী রাজা ফার্ডিনান্ড এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ১৪৯২ খ্রি: ১ লা এপ্রিল চতুরদিক থেকে মুসলমানদেরকে ঘেরাও করে পশুর মতো ঝাপিয়ে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যখন খ্রিস্টানদের সম্মিলিত বাহিনী মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল,তখনও মুসলমান রাজা বাদশারা হেরেমে মদ ও নর্তকীদের নিয়ে আনন্দে মত্ত ছিল। নেতৃত্বহীণ নিরীহ অপ্রস্তুত মুসলমানেরা বুকভরা আশা নিয়ে রাজধানী গ্রানাডায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু তাদের হতাশা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কারন যারা তাদের নেতৃত্ব দেবে তাদের ঈমান আমল অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। মুসলমান রাজা বাদশারা তখন বহু দলে বিভক্ত। কিছু নামধারী মুসলিম নেতারা নিজেদের ক্ষতার মসনদ টিকিয়ে রাখার জন্য এই পৈশাচিক কাজে মদদ জুগিয়েছিল। ক্রমে খৃস্টানগন গ্রানাডা দখর করে মুসলমানদের উপর চালালো অত্যাচারের স্্টীম রোলার। মুসলমানরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। যখন অবস্থা প্রকট রুপ ধারন করলো, তখন ধুর্তবাজ ফার্ডিনান্ড ঘোষনা দেয়, যে সুসলমানেরা অস্ত্র সমর্পনপুর্বক সমজিদ সমুহে আশ্রয় নিলে তাদের পুর্ণনিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং যারা সমুদ্রে জাহাজে আশ্রয় নিবে তাদেরকেও মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নেতৃত্ব হীন অসহায় মুসলমানেরা অস্ত্রবিহীন ক্ষুধা পিপাসাকাতর হয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েছিল। তারা নরপিশাচ খৃস্টানদের প্রতারনা না বুঝে সরল মনে মসজিদ ও জাহাজ সমুহে আশ্রয় নেয়। তখনই জালিম নরপিশাচ প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ডের নির্দ্দেশে খৃষ্টান সৈন্যরা সমজিদ সমুহে তালাবদ্ধ কওে দিয়ে ভিতওে ও বাহিওে চতুরদিক আগুন লাগিয়ে সেখানে আশ্রয় নেওয়া লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে পুড়য়ে নির্মম ভাবে শহিদ করল এবং জাহাজগুলোতে আশ্রিত মুসলমানদেরকে গহীন সমুদ্রে ডুবিয়ে মারলো। ত্রিশ লক্ষ মুসলমানদেরকে পুড়িয়ে মারল এক সাথে। এভাবে আগুনে পুড়ে ভস্মিভুত হল আধুনিক ইউরোপের জনকের। পরবর্তিতে মুসলমানদের সমজিদ মাদ্রাসা এবং স্মৃতিগুলোকে বানিয়েছিল তাদের ঘোড়ার আস্তাবল। অসহায় নারী পুরুষ আর শিশুদের আর্তচিৎকারে ঐদিন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের দুর্দশা দেখে জালিম নরপিশাচ, প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ড তার স্ত্রী ইসাবেলাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ উল্লাসে বলে উঠেছিল (ও মুসলিম হাউ ফুল ইউ আর!) ঙয গঁংষরস ! ঐড়ড ভড়ড়ষ ুড়ঁ ধৎব . হায় মুসলমান তোমরা কত বোকা!। সে দিনটি ছিল এপ্রিল মাসের ১ তারিখ।সেই থেকে মুসলমানদেরকে উপহাস করার জন্য খৃষ্টানেরা প্রতি বছর ১ লা এপ্রিলকে অত্যান্ত জাক জমকের সাথে এপ্রিল ফুল বা এপ্রিলে বোকা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করে আসছে। এ দিনে লক্ষ লক্ষ মুসলমান ভাই বোনেরা নির্মমভাবে প্রান হারিয়েছিল,আজ মুসলমানের সন্তানেরা খৃষ্টানদের অনুসরনে সে দিনটিকে হাসি খুশির দিন হিসাবে পালন করে থাকে।এপ্রিলের এই নির্মম ও হৃদয়বিদারক ইতিহাস জানার পরুও কোন মুসলমান এই দিনকে হাসি খুশির দিন হিসেবে পালন করতে পারে না।আমরা এই দিনটিকে ঐতিহাসিক ঘৃন্য এবং কালো দিবস হিসেবে পালন করি। ইতিহাস থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়া যায়। আজ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাজা বাদশাগন নিজেদের ক্ষমতার সমনদ টিকিয়ে রাখার জন্য যেভাবে আমেরিকা ইউরোপের তাবেদারি করছে সম্ভবত সেই দিন বেশি দুরে নয় , মধ্যপ্রাচ্য ও একদিন স্পেনের মতো ভাগ্য বরন করবে। আজ লিবিয়ার জন্য বড় দু:খ হয় । আরব লীগ নিজেদের ভিতরে সামাধান না করে ইহুদী খৃষ্টান সংঘ মুসলমান নিধন সংঘ,জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করছে। এর ফলাফল কি হল? আমেরিকা ফ্রান্স, বৃটেন বিদ্রোহিদের রক্ষার অজুহাতে শত শত টন বোমা মেরে হাজার হাজার নিরীহ মুসলমান নারী পুরুষ, শিশুদের হত্যা করছে ।ভ এব্যারে আরব লীগ নীরব ভুমিকা পালন করছে।যে আরব লীগ একটি স্বাধীন সার্বভৈাম রাস্ট্র ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে জারজ ইসরাইলের ব্যাপারে কোন সামাধানদিতে পারেনা। যেখানে ইসরাইলী হায়েনারা নিরীহ মুসলমানদেরকে প্রতিদিন পাখীর মতো গুলী করে মারে। যে আরব লীগ আফগানীস্তানের ব্যাপারে কোন কিছু করতে পারলোনা। যে আরব লীগকে মুসলমানেরা আসার আলো ভেবেছিল।আজ সে আরব লীগ লিবিয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে আরো হতাশ করলো।আমেরিকা , ফ্রান্স বৃটেন বিদ্রোহীদের রক্ষার অজুহাতে যে তান্ডবলীলা করে সে জাতিসংঘ নামের সেই মুসলিম নিধন সংঘ ভুমিকা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া দরকার।এপ্রিল ফুল দিবসটি সৃস্টির সাথে রয়েছে মুসলমানদের করুন ও হৃদয়স্পর্শী এক ইতিহাস। ১ লা এপ্রিলের এই ইতিহাস অন্যান্য জাতী জানলেও অনেক মুসলিম জাতী না জানার কারনে এই বিজাতীয় অপসংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে। তৎকালীণ ইউরোপীয় দেশে স্পেনে মুসীলম সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ এর নেতৃত্বে ৭১১ খৃী: ইসলামি পতাকা উড্ডীন হয় এবং মুসলিম সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়।সুধীর্ঘ প্রায় আটশ বছর পর্যন্ত সেখানে মুসলমানদের গৌরবময় শাসন বহাল থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে আস্তে আস্তে মুসলিম সা¤্রজ্যে ঘুনে ধরতে শুরু করে এবং মুসলিম শাসকরাও ভোগবিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে ইসলাম থেকে দুরে সরে যেতে থাকে।ফলে মুসলিম দেশগুলোও ধীরে ধীরে মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়ে খৃস্টানদের দখলে যেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসে স্পেনের পালা। মুসলিম শাসনে নেমে আসে পরাজয়ের কাল ছায়া।এক পর্যায়ে মুসলিম নিধনের লক্ষে খৃীস্টান রাজা বিয়ে করে পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাবে। যার ফলে মুসলিম বিরোধী দুই বৃহৎ শক্তি সম্মিলিত শক্তি রুপে আত্মপ্রকাশ করে।রানী ইসাবেলা ও রাজা ফার্ডিনান্ড খুঁজতে থাকে স্পেন দখলের মোক্ষম সুযোগ। প্রিয় পাঠক এর পর মুসলমানদের ভাগ্যে যা ঘটেছিল তা আমি আগেই বিধৃত করেছি। এর মধ্যে ইতি ঘটে স্পেনের আটশ বছরের মুসলিম শাসনের আর পৃথিবীর ইতিহাসে রচিত হয় মানবতা লঙ্ঘনের নির্মম অধ্যায়।দু:খের সাথে বলতে হয় “এপ্রিল ফুল” এর প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে না জানার কারনে আমরা আমাদের পুর্বসুরীদের দুর্ভাগ্যকে আনন্দের খোরাক বানিয়ে এপ্রিল ফুল পালন করছি। আমরা আর কতোকাল আত্মবিস্মৃত হয়ে থাকবো? নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার ধরা আর কতদিন আমাদের মধ্যে বিরাজ করবে? অথচ এই অজ্ঞতাই আমাদের সবচেয়ে মারাত্মক কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। এপ্রিল ফুল নিয়ে অনেক উদাহরন দেওয়া যায় , যেমন ইউরোপে ১৭৪৬ সালে “ইভনিং স্টার” নামের এক পত্রিকা ঘোষনা দিল যে , আগামীকাল ১ লা এপ্রিল অমুক জায়গায় গাধার প্যারেড অনুষ্টিত হবে। উৎসুক জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়লো।অপেক্ষা করতে করতে যখন আর সইল না তখন আর বুঝতে বাকী রইর না যে , পত্রিকার ঘোষিত গাধা তারাই। তাদেরকে এপ্রিল ফুল বানানো হয়েছে। প্রতি বছর এপ্রিল আসলে আমরা অনেক ইতিহাসবিদ দেখতে পাই। এপ্রিল ফুলের পেছনে কী ইতিহাস ছিল তা খোজার জন্যে অনেকেই রাত দিন গবেষনায় ব্যস্ত হয়ে যান। একদল প্রমাণ করে দেখান এটার পেছনে একটি জাতির মর্মস্পদ ইতিহাস রয়েছে ,কাজেই তাদের এটা পালন করা সাজেনা।আরেক দল প্রমান করে যে, ঐ ইতহিাস সম্পুর্ণ ভুল। বরং এর পেছনের ইতিহাস সিরফ মজার তাতে কোন কোনো কস্ট কান্না নেই।তাই জাতি ধর্ম বর্ণ কর্ম নির্বিশেষে যে কেউ পালন করতে পারে। বরং আমাদের গুুরুরা যেখানে তা পালন করছেন ,আমাদের তা পালন না করলে কি চলে! তার মানে কি দাড়ালো এই যে , এই দিবসটা পালনের বৈধতা অবৈধতা ঘুরপাক খাচ্ছে এর পেছনে ইতিহাসের সত্যতা অসত্যতার মাঝে। যদি ইতিহাস দ্বারা প্রমানিত হয়যে এটা ঐ জাতির বিপক্ষে কোনো মর্মস্পদ য়ড়যন্ত্রের উপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে তাহলে তা পালন করা যাবেনা। আর যদি তা প্রমানিত না হয় তাহলে তা ীঠকাই পালন করা যাবে। ব্যস ,শুরু হয়ে গেলো দুপক্ষের বাকযুদ্ধ।এক পক্ষ উইকি পিডিয়া, এনকার্টা, ব্রিটআনিকা ইত্যাদি চষে দেখাবেন যে, ইতিহাসটা সঠিক না। আরেকপক্ষ মুসলিমপিডিয়া ,ইসলামপিডিয়া ইত্যাদি দিয়ে দেখাবেন যে ইতিহাসটা সহীহ।সোজা কথায় আসি। ইতিহাস পক্ষে থাক বা বিপক্ষে থাক , সেটা কেন মুল আলোচনায় আসবে? প্রথমে দেখতে হবে যে কর্মটা নিয়ে আমরা এত হই চই করছি ,সেটার গ্রনযোগ্যতা কতটুকু! ধর্মের কথা নাহয় বাদই দিলাম , কিন্তু মানবতাও কি এসব মিথ্যা ধোক সাপোর্ট করে? এই যে প্রতিবছর এটাকে কেন্দ্র করে এতসব অঘটন ঘটছে, এগুলোকি মানবাতাবিরোধী নয়? মিথ্যামানুষের স্বাভাবিক বাকশক্তিকে ব্যাহত করে। সমাজেতার বিস্বত্বতা কমিয়ে দেয়।বড় বড় মনীষীগণের জীবনী খুঁজলে দেখা যাবে যে , তারা জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত সত্যে উপর অবিচল থেকেছেন। মানুষের মধ্যে পশুত্ব ও দেবত্ব দুট্ইো কাজ করে।পশুত্বকে দমিয়ে রেখে দেূবত্ব অর্জনের চেস্টায় তাকে থাকতে হয়। তা হলেই কেবল মুনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। কিন্তু তারপরও পশুত্বই জয়ী হয় অধিকাংশ সময়ে। আর স্বেচ্ছায় সে পশুত্বকে একদিনের হন্যে হলেও আশ্রয় দিলে তো তা ঘাড়ে চড়ে বসবেই।ধরুন আপনির কখনো মিথ্যা বলেন না। কিন্তু একদিন বললেন তো সো আপনার কাছে আগের মতো আর ভয়ানক মনে হবে না। যে কোনো পাপের ক্ষেত্রেই এটি হয়।্এডিকশন বা নেশার শুরুট্ াকিন্তু এভাবেই হয়।বন্ধুর হলুদের রাতে এক চুমুক, এর পর থাটিফাস্ট নাইটে আরেক চুমুক —- ব্যস আস্তে আস্তে এ্যাডিক্টেড। প্রতিটি নেশাগ্রস্ত মানুষই কিন্তু প্রথম জীবনে নেশাকে ঘৃনা করে থাকে। কেউ জন্মগত এ্যাডিক্টেড নয়।আমাদের মহান আল্লাহ্ তায়ালা সত্যবাদী। তিনি সত্যকে ভালোবাসেন মিথ্যাকে ঘৃনা করেন চরমভাবে। তিনি বলেন,“মিথ্যা কেবল তারা রচনা করে, যারা আল্লাহ্র নিদর্শনে বিশ্বাস করে না এবং তারাই মিথ্যাবাদী(১৬:১০৫)”অনেকেই ভাবেন ঠাট্টাচ্ছলে মিথ্যা বলা তো কোনো সমস্যা না , তা দো ঠাট্টাই। যেমনটা এপ্রিল ফুলের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে মিথ্যা সবসময়ই মিথ্যা এবং তা নিষিদ্ধ। মানুষকে হাসানোর জন্যও মিথ্যা বলা যাবেনা। হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন একদিন রাসুুলুল্লাহ্ (সা)তরকারীর একটি স্তুপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। স্তুপের ভেতরে হাত দিয়ে তিনি তরকারীর দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? দোকানদার বললে,“নবীজী এটা বৃস্টির পানি”। নবীজী (সা) বললেন.“তাহলে সেগুলো উপরে রাখতে! যেন মানুষ দেখে শুনে কিনতে পারে। শোন , যে ধোকা দেয় সে আমার দলভুক্ত নয়।”(মুসলিম,২৯৫, তিরমিযি:১৩১৫) পরিষেষে কথা হলো , ইতিহাস যাই হোক না কেন, মিথ্যা বলা ও ধোকা দেওয়া কোনো সুস্থ মানুষের কাজ নয়। অতএব জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই এর থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 291 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ