এবার কমান্ডো ইউনিট হচ্ছে পুলিশবাহিনীতে

Print

ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটি নামে কাজ করবে। কমান্ডো প্রশিক্ষণ হবে খাগড়াছড়ির গহিন অরণ্যে পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টারে (পিএসটিসি)। এরই মধ্যে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৪ জন সদস্যকে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষক হিসেবে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে। তারা প্রত্যেক কমান্ডোকে পিসিসি বা পুলিশ কমান্ডো কোর্সের আওতায় আট সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেবেন। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষিত কমান্ডো গড়ে তোলার লক্ষ্যে পিএসটিসিতে প্রাথমিকভাবে কমান্ডো কোর্স করানো হবে। পরে পর্যায়ক্রমে কমান্ডো ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পিসিসির উদ্বোধন করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের মে থেকে পুলিশ সদর দফতরে কমান্ডো ইউনিট নিয়ে কাজ শুরু হয়। বিশেষায়িত এই কোর্সের জন্য নেওয়া হয় দেশি-বিদেশি কমান্ডোদের পরামর্শ। বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণ মডিউলকে সমন্বয় করে আপাতত আট সপ্তাহের বেসিক কমান্ডো কোর্সের মডিউল তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অ্যাডভান্স কমান্ডোর মডেলও তৈরি করা হবে। এ কমান্ডো কোর্স সম্পন্ন করেছেন এমন সদস্যদের নিয়ে দেশের সব মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জে আপাতত ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটি গঠন করা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্তমান সোয়াত ইউনিটের মতো হবে সিআরটির কার্যক্রম। এরা সারা দেশে কাজ করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক দেশের ট্রেনিং মডিউল ঘেঁটে পুলিশের কমান্ডো কোর্সের মডিউলটি সাজানো হয়েছে। অ্যাডভান্স কমান্ডো কোর্সটিরই একটি ছোট্ট রূপ অত্যাধুনিক এই মডিউল। বর্তমানে একটি কোর্স হলেও পর্যায়ক্রমে এটি আলাদা ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন হিসেবে রূপ দেওয়া হবে। পুলিশ সদর দফতরের উপমহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, খাগড়াছড়ির এসপিটিসিতে প্রথম পর্যায়ে রংপুর রেঞ্জ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০ জনের দুটি টিমকে কমান্ডো কোর্স করানো হবে। দুই মাসের এ প্রশিক্ষণ শেষে এ দুটি টিম অনেকটা সোয়াতের আদলে খুলনা মেট্রোপলিটন ও রংপুর রেঞ্জে কাজ করবে। তাদের প্রধান কাজ হবে শৃঙ্খলাজনিত ক্রাইসিস নিরসনে তাত্ক্ষণিক ঝটিকা পদক্ষেপ গ্রহণ। পর্যায়ক্রমে এ রকম আরও অনেক টিমকে এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, কমান্ডো কোর্সের জন্য এরই মধ্যে ৪৪ জন সদস্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তা, পাঁচজন সহকারী পুলিশ সুপার, একজন পরিদর্শক, একজন উপপরিদর্শক, তিনজন নায়েক ও বাকিরা কনস্টেবল। সর্বশেষ ১০ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড ট্রেনিং সেন্টারে তিন সপ্তাহের একটি কমান্ডো প্রশিক্ষণে অংশ নেয় পুলিশের ৪০ সদস্যের একটি দল। ওই দলে ছিলেন দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, তিনজন এএসপি, একজন পরিদর্শক, একজন উপপরিদর্শক, তিনজন নায়েক ও ৩০ জন কনস্টেবল। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টের ‘এসআইঅ্যান্ডটি’ (স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস) থেকে পুলিশের তিনজন সদস্য দুই মাসের বেসিক কমান্ডো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। গত বছরের ২ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত দুজন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ও একজন সহকারী সুপার এ প্রশিক্ষণ নেন। জানা গেছে, কমান্ডো ইউনিট গঠনের অংশ হিসেবে সর্বপ্রথম গত বছরের শুরুর দিকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের চীন সীমান্তে অবস্থিত ইন্দো-তিব্বতিয়ান ট্রেনিং সেন্টারে নয় সপ্তাহের একটি বিশেষায়িত কমান্ডো প্রশিক্ষণ নিয়েছেন পুলিশের দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান ও মারুফাত হোসেন। ওই প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে ভারতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স—এসপিজি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশবাহিনীকে আধুনিকায়নের একটি অংশই হচ্ছে কমান্ডো কোর্স। বিশ্বে প্রতিনিয়ত অপরাধ ও অপরাধীদের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পুলিশকে যুগোপযোগী করার একটি ধাপ কমান্ডো কোর্স। সম্প্রতি ভারতে গিয়ে আমাদের অনেক সদস্য কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও সদস্যকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের আলোচনা হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 186 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ