এশীয়রা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অনাগ্রহী

Print

বিভিন্ন সামাজিক সংস্কার এবং ওষুধ থেকে বিষক্রিয়ার আতঙ্কে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় ব্রিটিশরা ডায়বেটিসের চিকিৎসা ঠিকমতো গ্রহণ করছেন না। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষকদের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে আসা অনেক মানুষই ডায়াবেটিস ও ইনসুলিনকে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে করেন। অনেক ডায়াবেটিস রোগী ইনসুলিন নিতে নারাজ। এমনকি তাদের রোগ সম্পর্কে পরিবার ও বন্ধুদের জানাতেও রাজি নন।

এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড হেলথ রিসার্চ-এর ড. পরমজিৎ গিল বলেন, ‘যে কোনও কারণেই হোক, ওষুধ সেবন না করা ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগীদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং চিকিৎসা কোনও কাজেই আসছে না। আমরা দক্ষিণ এশীয়দের ওষুধ সেবন না করার বিশ্বাসের ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থেকে এসব রোগী রক্ষা পেতেন।’
ব্রিটেনে অল্প বয়সে আক্রান্ত ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়দের হার অনেক বেশি। সাধারণ হারের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি। টাইপ-২ ডায়াবেটিস হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের বিজ্ঞানীদের সুপারিশ, পেশাদার চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করে দক্ষিণ এশীয়রা চিকিৎসা নিলে এবং ওষুধ সেবন করলে দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগে ‍উপকৃত হতে পারতেন।
দক্ষিণ এশীয়রা ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব ধারণা ও বিষয় বিবেচনায় নেন, তা এই গবেষণায় উঠে এসেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ওষুধের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা
ওষুধের বিষাক্ততা নিয়ে আতঙ্ক
সনাতন আরোগ্য বনাম ‘পশ্চিমা’ ওষুধ
সংস্কার ও সামাজিক প্রভাব
পেশাদার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ
গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত অনেক ডায়াবেটিস ও কার্ডিও ভাসকুলার রোগীর ‘পশ্চিমা’ ওষুধ সেবন প্রয়োজন। অবশ্য দক্ষিণ এশিয়া থেকে ব্রিটেনে আসা অনেকেরই দাবি, যুক্তরাজ্যে যে ওষুধ তারা সেবন করেছেন, তার চেয়ে ভারত ও পাকিস্তানের ওষুধের কার্যকারিতা বেশি।
গবেষণার তথ্য মতে, অনেক রোগীই পশ্চিমা ওষুধের তুলনায় প্রচলিত ও ভেষজ ওষুধ সেবন করেন। তারা মনে করেন, এটা রোগ থেকে মুক্তির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত পদ্ধতি। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা রোগীর ‍এসব ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেক সময় তারাই এটা সরবরাহ করে থাকেন।
গবেষকদের অন্যতম ড. কান্ত কুমার বলেন, ‘ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেসব ভুল ধারণা আছে, তা বাত ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের রোগীদের মধ্যেও দেখা গেছে। দক্ষিণ এশীয়রা যখন চিকিৎসকদের কাছে যান, তখন দীর্ঘমেয়াদের ওষুধ সেবনের সব ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
‘বিএমসি এনডোক্রিন ডিজঅর্ডারস’ নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে কুসংস্কার ও সামাজিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 235 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ