এসএম হলে শিবির সন্দেহে পিটুনি, পুলিশে সোপর্দ

Print

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে জামায়াতে ছাত্র সংগঠন শিবিরের কর্মী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবির সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামে ওই ছাত্রকে শিবির কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি তাহাসান আহমেদ রাসেল জানান, জাহিদ ছাড়া বাকি সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়।
গত ৭ আগস্ট সিলেটের জালালাবাদে দুর্বৃত্তের হামলায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এদের মধ্যে কুপিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পর মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সিলেট সদর উপজেলার পীরপুর টুকেরবাজারের শাহীন আহমদের হাত কেটে ফেলতে হয়।
এই ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। আর ৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘অ্যাটাকে’ যেতে নির্দেশ দেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
তাদের এই নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র গিয়াস উদ্দিনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।
এর আগেও সিলেটের ঘটনার পর পর লক্ষ্মীপুরে দুই শিবির কর্মী এবং ৮ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে শিবিরের ১২ জন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলে শিবির কর্মী সন্দেহে আটক মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ আরবি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
হল ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, জাহিদ ফেসবুকে জাহিদের সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এই বিষয়ে গতরাতে জিজ্ঞাসাবাদ ও ফেসবুক চেক করা হলে ঘটনার সত্যতা পায়ছাত্রলীগ কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এ এম আমজাদ জানান, ‘জাহিদের বিরুদ্ধে শিবিরে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে আমাকে বিষয়টি অবগত করলে আমি সেখানে গিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা বলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করি।’
এ বিষয়ে জানতে হলের প্রাধ্যক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ‘গতরাতে শিবির সন্দেহে ঢাবি প্রশাসন একজনকে থানায় সোপর্দ করে। তার বিরুদ্ধে শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
আটক জাহিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলেও জানান শাহবাগ থানার ওসি।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি তাহাসান আহমেদ রাসেল বলেন, ‘জাহিদ শিবিরের সাথী হিসেবে হলে কাজ করত। তার ফেসবুকে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পেজে লাইক, কমেন্ট ছিল। শিবিরের কয়েকজন বির্তকিত নেতার সাথে তার পরিচয় ছিল। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল হলে বিশৃঙ্খলা করা।’
তাহাসান আরো জানান, ‘শিবিরের বিভিন্ন নেতার সাথে তার (জাহিদ) নিয়মিত যোগাযোগ হতো, যা আমরা পরে তার ফেসবুক মাধ্যমে জানতে পারি। তাছাড়া ফেসবুকে সে বঙ্গবন্ধু ও দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন পেজে লাইক কমেন্টের পাশাপাশি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি