এসএসসির প্রশ্নে ডাক্তারদের প্রতি কুৎসিত আক্রমন

Print

ডা. অঞ্জলি সাহা
________________________

এবারের এস এসসি প্রশ্নপত্রে নগ্নভাবে কুৎসিত অাক্রমন করা হয়েছে দেশের ডাক্তার সমাজকে। অকল্পনীয় অভব্য অসভ্য এই হামলা।

এসএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীলের একটি প্রশ্ন একজন ‘লোভী চিকিৎসককে’ ঘিরে সুকৌশলে তৈরী করা হয়েছে। খুবই সচেতন আক্রমন করা হয়েছে ডাক্তারদের।

 

সৃজনশীলের ২ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়, “জাহেদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার। অভাব ও দারিদ্র‌্য বিমোচন করতে গিয়ে তিনি সব সময় অর্থের পেছনে ছুটতেন। এক সময় গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ সব কিছুর মালিক হন। তবুও তার চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। অর্থ উপাজনই তার একমাত্র নেশা। অন‌্যদিকে তাঁর বন্ধু সগীর সাহেব তাঁর ধন-সম্পদ থেকে বিভিন্ন সামাজিক জনকল‌্যাণমূলক কাজে ব‌্যয় করেন। তিনি মনে করেন, সুন্দরভাবে জীবনযাপনের জন‌্য বেশি সম্পদের প্রয়োজন নেই।”

এর আলোকে শিক্ষার উদ্দেশ‌্য এবং ‘শিক্ষা ও মনুষ‌্যত্ব’ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর করতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের।
বিস্ময়কর এই ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডাক্তারসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ।

কেমন করে এমন প্রশ্ন হয় । কি এই অসভ্য প্রচারণার নেপথ্য উদ্দেশ্য , এ নিয়ে প্রশ্ন সচেতন সবার মনে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট ডাক্তারদের মন্তব্য তুলে ধরা হল।

ডা. সাইফুল হাসান শামীম বলেন , বাক রুদ্ধ হয়ে গেলাম ।
ডা. জিল্লুর রহমান রতন বলেন, প্রশ্নকর্তা মানসিক বিকারগ্রস্ত। নিজে অথবা সন্তানকে চিকিৎসক বানাতে পারেননি। আঙুর ফল টক.।
ডা. মোরশেদ পাখি বলেন ,
গাংগিনার পাড় থাকে মনে হয়।

প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. সজল আশফাক বলেন , আসলে লোভী ডাক্তারের জায়গায় ‘মন্ত্রী হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন , এখানে যদি জাহেদ সাহেব লোভী ডাক্তার না লিখে লোভী পুলিশ বা লোভী ম্যাজিস্ট্রেট লেখা হত তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হত.। আফসোস ‌’জাহিদ সাহেবরা সর্বংসহা নিতান্ত অপ্রতিবাদী ।
ডা. পলাশ খান বলেন, কিছুই বলার নেই, নেতারা মাইন্ড করবে ।

ডা. শরীফ জুলকার নাইম বলেন, ভাই বহুত কিছু কইতে ইচ্ছা করছে।
পরিচিত এক দাদা কম্পানি থেকে ফ্লাট গিফট পাইছেন পেশায় প্রকৌশলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এর এক শিক্ষক কে জানি ঢাকায় ২টা ফ্ল্যাট এবং উপশহর এ কোটি টাকার জমি। এক ওসি সাহেব কে দেখতাম, পোলাপাইন রে দামী গাড়ি চড়াইয়া স্কুলে নামাইত, আমি তখন A++ গ্রেড ছাত্র। ডাঃ হইয়া রিকশা চড়িয়া তাহা দেখিতাম, স্কুলের ২য় শ্রেণী র শিক্ষক কোচিং ব্যবসা করিয়া কোটি টাকার বাড়ি করেন, আর আমার মত বাল ছেঁড়া ডাঃ রা ১২-১৫ বছর ধইরা পইড়া বুইড়া বয়সে লোন কইরা গাড়ি বাড়ি কইরা কব্বরে যাইয়া ভোগ করে।
উপরের চরিত্র গুলা তো এক একটি নমুনা মাত্র। এই রকম লক্ষ কোটি নমুনা আছে। যাদের ডাঃ হওয়ার ইচ্ছা ছিলো হইতে পারে নাই তারাই এইডা কয়। যোগ্যতা বলে কথা আছে না ।
এরাই আবার টাকা দিয়া হইলেও পোলাপাইনরে ডাক্তার/কসাই বানাইবে।
ডাক্তার রা তো টেবিলের তলা দিয়া খায় না তাই চোখে পড়ে বেশি ।

___________________________

ডা. অঞ্জলি সাহা । ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

-daktarprotidin

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 784 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ