এসেছে প্যান্ট পালাজ্জো

Print

পালাজ্জো, প্যান্টের ফ্যাশন চলছে অনেক দিন ধরেই। নতুনত্ব এসেছে পোশাকের ফেব্রিকস, নকশা আর কাটিং প্যাটার্নে।
এসেছে প্যান্ট পালাজ্জো

মেয়েদের ফ্যাশনে সাধারণ সালোয়ারের চল অনেকটাই কমে গেছে। চুড়িদার, পাতিয়ালা, ধুতি কিংবা নিচে চওড়া মুহুরি দেওয়া সালোয়ারের চলও ছিল বেশ কিছুদিন। এরপর এলো পালাজ্জো। পালাজ্জোর পাশাপাশি ফ্যাশনের চলতি ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন বিভিন্ন ধরনের প্যান্টও দেখা যাচ্ছে।নিজের স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে মেয়েরা বেছে নিচ্ছেন মানানসই প্যান্ট। আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজের উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার তাসলিমা মলি জানালেন, ‘সমকালীন ফ্যাশন অনুসরণ করেই গরমের সময়টায় পোশাকের নিচের অংশের ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। পাশ্চাত্য বা দেশি ঘরানার পোশাকগুলোয় তাই দেখা যায় রকমারি কাট ও নতুন প্যাটার্নের ছাপ। কখনো একদম চাপা, তো কখনো একদম ঢোলা। এ ছাড়া বটমে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, লেইসসহ নানা ধরনের ভ্যালু এডিশন থাকছে। অধিকাংশ বটমে এখন বেশি ব্যবহৃত হয় এ-লাইন প্যাটার্ন। ’ ওটু এর ডিজাইনার জাফর ইকবাল বললেন, ‘ ফ্যাশন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এখন পালাজ্জো কিংবা প্যান্টে একসঙ্গে বিভিন্ন কাট দেখা যাচ্ছে। ’ পেনসিল প্যান্ট, সিগারেট প্যান্ট, চাপা ও লম্বায় ছোট কাটের পালাজ্জো, স্কিনি জিনস, স্কিনি ক্যাজুয়াল প্যান্ট, স্কার্ট প্যান্টের সমারোহ। চাপা কিংবা গোড়ালি থেকে একটু উঁচু—প্যান্টের নকশায় থাকছে এমনই ভিন্নতা। আগে কয়েকটি রং থাকলেও এখন মেয়েদের প্যান্টে নীল, আসমানি, কালো, লাল, গোলাপি, সবুজ, বেগুনিসহ নানা রকম রঙ দেখা যাচ্ছে। যেকোনো পোশাকের সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যায় বলে পালাজ্জো এখনো জনপ্রিয়। তবে এর নকশায় এসেছে পরিবর্তন। প্রথমদিকে নিচের দিকটা অনেক চওড়া ছিল। এখন সেটা অনেক কমে এসেছে। লিনেন, নরম সুতি, নিটওয়্যার দিয়ে তৈরি পালাজ্জোর নিচের ঝুলটা খুব ভালো হয়। নিচের দিকে ত্রিভুজের মতো কাট এসেছে। যোগ হচ্ছে লেইস ও সুতার কাজ। পালাজ্জোতে প্রিন্টের কাপড়ও ব্যবহার করা হচ্ছে। এক রংয়ের কিংবা প্রিন্টের পালাজ্জোর ওপর হাতের কাজ, মেশিন এমব্রয়ডারিসহ নানা ধরনের কাজ যোগ করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। তাসলিমা মলি আরো জানালেন, ‘ফ্যাশনে পালাজ্জো পুরনো হলেও লাইলিং আর বেলবটম কাটিং ব্যবহার করে তা নতুনরূপে ফিরে এসেছে।

তবে তরুণীরা এখন পরছেন ঘের কমিয়ে। নিচের দিকে একটু ত্রিকোণ ঝুল, তার ওপর লেইস ও ফুলের কাজও যোগ হয়েছে। প্রিন্টের বিভিন্ন পালাজ্জো আর স্কার্ট প্যান্ট চলেছে পাশ্চাত্য পোশাকের অনুসঙ্গ হিসেবে। ’ সেইলরের মার্কেটিং এন্ড বিজনেস ডেভলপমেন্ট প্রধান সাহাদুজ্জামান বলেন, ‘শুরুতে লং কামিজের সঙ্গে এক রংয়ের পালাজ্জোর ট্রেন্ড ছিল। ডিজাইন ছিল কোমরে কুঁচিওয়ালা বা কুঁচিবিহীন দুই ধরনের পালাজ্জো। এখন এসেছে প্যান্ট কাট।ওপরের কাটটা প্যান্টের মতো, আর নিচের দিকটা ঢোলা।   নিচের দিকে ব্লক হাতের কাজ, এপ্লিকের নকশা করা। দেখলে মনে হবে স্কার্ট পরে আছে, কোমর থেকে একেবারে পায়ের গোড়ালির একটু ওপর পর্যন্ত কুঁচি দেওয়া—এমন পালাজ্জোও চলছে। কোমর থেকে সোজা কাটের কিছু পালাজ্জো আছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা স্কার্টের মতো। হাঁটু থেকে চার-পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত নিচে গিয়ে এগুলোর ঝুল শেষ হয়েছে। ’  একটা সময় পালাজ্জো শুধু কামিজের সঙ্গে পরা হতো। কিন্তু নতুন কাটের পালাজ্জো টপ, টি-শার্ট, শার্টের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। পালাজ্জো সুতি, চিকেন, হাতে বোনা তাঁত, লিনেন, সিল্ক, শার্টিনসহ হরেক রকম কাপড়ে তৈরি পালাজ্জো পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।

পালাজ্জোর পর এবারকার ফ্যাশনে যুক্ত হয়েছে চাপা ধরনের পেনসিল প্যান্ট ও সিগারেট প্যান্ট। ক্যাম্পাস, অফিস কিংবা পার্টিতে টপ বা কামিজের সঙ্গে এ ধরনের প্যান্ট পরছেন তরুণীরা। দুটিই চাপা কাটের, তবে পেনসিল প্যান্টটা বেশি চাপা। এই প্যান্টগুলোর কাট থাকে একদম স্ট্রেট অর্থাৎ সোজা। উচ্চতা সাধারণত গোড়ালির সামান্য ওপর পর্যন্তই হয়। চাপা হয় বলে প্যান্টের নিচে পাশে অল্প কাটা থাকে। ফ্যাশন কনসালটেন্ট শুভ্রা সাহা বললেন, ‘সিগারেট প্যান্টের ওপরের দিকটি একটু ঢিলা থাকে। নিচের দিকে মুহুরিটাও একটু চওড়া থাকে। পেনসিল প্যান্টের ওপরে ও নিচে দুই দিকেই চাপা থাকে। সিগারেট প্যান্ট তুলনামূলক কম লম্বা। ’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্রী তাবাসুম তামান্না বললেন, ‘চাপা কিছুটা হলেও এই প্যান্টগুলো আবার খুব বেশি আঁটসাঁট নয়। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে পরা যায়। ’ পেনসিল কাটের প্যান্টগুলোতে নিচের দিকে হুকের মতো সোনালি রঙের বোতাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনোটায় মাঝবরাবর দেখা যাচ্ছে কপার রংয়ের কোনো অনুষঙ্গ। স্ট্রাইপ, প্রিন্ট, ফুলেল নকশাও থাকছে এসব প্যান্টে। লেইসের ব্যবহারও আছে। চাইলে পেনসিল প্যান্টের নিচে দেড়-দুই ইঞ্চির মতো কাটা কাজও করিয়ে নিতে পারেন। লং কুর্তা, স্ট্রেট কাটের কামিজ, জ্যাকেট কামিজ ও শেরোয়ানি কাটের কামিজের সঙ্গে এই প্যান্টগুলো দারুণ মানাবে।

স্কার্ট ধাঁচের প্যান্টও দেখা যাচ্ছে।   সাদাফ ডিজাইন কালেকশনের ডিজাইনার মাঈন উদ্দিন ফুয়াদ বলেন, ‘যে কাটগুলো এখন প্যান্টে পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে একটি হলো স্কিনি ফিটিংস। স্কিনি জিনসগুলোতে সুতা ওঠানো থাকে। রিপড লুক পাওয়া যাবে। পোশাকের নিচের অংশটিতে বেল বটমের বিভিন্ন স্টাইল দেখা যাচ্ছে। ওপরের দিকে চাপা হয়ে নিচের দিকে ঢিলা হচ্ছে। কোনো প্যান্টের সামনে দুই পাশে পকেটের পাশ থেকে শুরু করে গোড়ালি পর্যন্ত চিকন লেইসের মতো বিভিন্ন রংয়ের কাপড় জুড়ে দেওয়া। কোমরের বেশ খানিকটা নিচে দুই পাশে আছে মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ। কিছু প্যান্টে জিপারের সঙ্গে হুক, লুপেরও ব্যবস্থা আছে। ’ ফেব্রিকসেও বৈচিত্র্য আছে। এখন সুতি, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, নিট, ডেনিম, টুইল বা একটু মোটা আর নরম কটনের কাপড়ের ওপর দেখা যাচ্ছে দারুণ সব স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ। ’ টি এস ক্রিয়েশন্স এর ডিজাইনার তানিয়া তসলিমা বলেন, ‘চাপা কাটের প্যান্টের সঙ্গে একটু ফ্লেয়ার দেওয়া টপ ভালো লাগবে। স্কিনি জিনসের সঙ্গে কুঁচি দেওয়া অথবা ঢিলা টপ বেছে নিলে ভালো। বেল বটম স্টাইলের প্যান্টের সঙ্গে বুক পর্যন্ত চাপা হয়ে ছেড়ে দেওয়া টপ পরতে পারেন। ’

কোথায় পাবেন

লা রিভ, ইয়েলো, জেন্টল পার্ক, ক্যাটস আই, আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজ, আরবান ট্রুথ, এক্সটাসিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এ ধরনের পালাজ্জো প্যান্ট পাবেন। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, পিংকসিটি, নিউ মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, পলওয়েল মার্কেট, কনকর্ড পুলিশ প্লাজাসহ এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন শোরুমে পছন্দসই প্যান্ট পালাজ্জো পেয়ে যাবেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 104 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ