ওদের ঈশারায় ভিআইপিতে রিকশা চলে

Print

এই রাস্তা দিয়ে রিকশা ও ভ্যান চলাচল নিষেধ’- রাজধানীর অনেক ভিআইপি সড়কেই এমন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়। সাইনবোর্ডে নিষেধাজ্ঞার পরও দিনের বেলায় ভিআইপি রোডে রিকশা চলতে দেখলে অনেক নগরবাসী হয়তো ‘ব্রু কুচকান’। চলতে চলতে কেউ হয়তো কারণটা জেনে যান। ভিআইপি রোডে রিকশা চালাতে হলে ‘ওদের’ পারমিশন লাগবে।
‘ওরা’ কারা? ওরা হচ্ছে আনসার সদস্য। ভিআইপি রোড়ে রিকশার দর্পটা দেখাতে হলে রিকশাওয়ালাকে ‘গ্রিন’ সিগন্যাল নিতে হবে আনসারের কাছ থেকে। আর গ্রিন সিগন্যাল পেতে হলে রিকশাওয়ালাকে গুণতে হবে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। রোড এবং বাহকের ধরন দেখে টাকার অংক উঠা-নামা করে।

যাত্রীবাহী রিকশা নিয়ে দিনের বেলায় যেতে চাইলে আনসার সদস্যদের দিতে হবে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর মালপত্র নিয়ে যেতে চাইলে দিতে হবে ১০ থেকে ২০ টাকা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকার অংকে ২০ সংখ্যাটা আদায় করা হয় মালবাহী ভ্যানচালকের কাছ থেকে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শাহবাগ, কলাবাগান, ফার্মগেট, বনানীসহ বেশ কয়েকটি ভিআইপি সড়কের লিংক রোড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিআইপি রোডে রিকশা চলাচলের সুযোগ দিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদরা প্রকাশ্যে টাকা আদায় করছে। কোনো রিকশা বা ভ্যানচালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোডের প্রবেশধারেই আটকে দেওয়া হচ্ছে তাকে। এমনকি গাড়িটির উপরও চালানো হয় নির্যাতন। ধমক সুরে অশালীন কথাও শুনতে হয় চালককে।
সেগুনবাগিচার মৎসভবনের আনসার সদস্যদের টাকা নেয়ার এমন এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে। তাতে দেখা যায়, খসরু নামে এক রংমিস্ত্রীকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল রিকশা (রিকশা নং-১২৯) চালক তৈয়ব আলী। গন্তব্য কাটাবন মোড়। সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে রিকশা নিয়ে মৎসভবনের সামনে আসতেই ‘রিকশা প্রবেশ নিষেধ’ অজুহাতে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক আনসার সদস্য তাদের গতিরোধ করে। এসময় যাত্রী খসরু বিনীত অনুরোধ জানালেও কর্ণপাত করেনি আনসার সদস্য। রিকশাওয়ালা ১০টি টাকা আনসারের হাতে গুঁজে দিতেই রিকশাটিও যথারীতি চলতে শুরু করে। এসময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ‘ম’ আদ্য অক্ষরের আরেক আনসার সদস্য।
টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করে রিকশাওয়ালা তৈয়ব আলী বলেন (চলতি ভাষায় রূপান্তর), ‘সেগুনবাগিচা থেকে কাঁটাবন যেতে হলে পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের মোড় ঘুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে নীলক্ষেত মোড় দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু আনসার সদস্যকে ১০ টাকা দিলেই রমনা পার্কের সামনের ভিআইপি রাস্তা দিয়ে রিকশা নিয়ে যাওয়া যায়। না দিলে ওরা রিকশা আটকে রাখে। যেতে দেয় না।’
তবে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘রিকশাওয়ালা আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। আমরা স্টুডেন্ট, বাচ্চাসহ মহিলা, রোগী, সাংবাদিক ও আইনজীবী বহনকারী রিকশা ছাড়া অন্য কোনো রিকশাকে ভিআইপি রোডে যাতায়াত করতে দিই না।’
টাকা নেয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়েছে- এমনটি জানানোর পর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যান সেই আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 169 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ