ওবায়দুল কাদেরের রেড অ্যালার্ট

Print

নির্বাচন কমিশন গঠনের সার্চ কমিটির কার্যক্রমের দিকে সবার দৃষ্টি থাকলেও ভিতরে ভিতরে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। পরবর্তী নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর হাতে থাকলেও নতুন বছরের শুরু থেকেই কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধ-কোন্দল নিরসন কার্যক্রম চালাচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ‘আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে’ প্রধানমন্ত্রীর এই ইঙ্গিত মাথায় রেখেই দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার দিকনির্দেশা দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সতর্ক করছেন এই বলে যে দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে জমিদারি ভাব ছেড়ে পরীক্ষিত কর্মীর মতো সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সারা দেশ ঘুরে ওবায়দুল কাদের এই সোজা-সাপ্টা বার্তা সুবিধাভোগী, বিতর্কিত এবং নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন নেতাদের জন্য রেড অ্যালার্ট।
জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে সারাদেশের দলের অবস্থান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। এটা করতে গিয়ে তিনি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সংসদ সদস্যদের জমিদারি আচরণ ছাড়ারও কড়া বার্তা দিচ্ছেন। এ বার্তা জমিদারি ভাব দেখানো এমপি এবং হাইব্রিড নেতাদের জন্য অশনি সংকেত হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। আর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলের ত্যাগী ও সুবিধা-বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দলীয় সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। টানা ৮ বছর ক্ষমতায় থাকায় এক শ্রেণির নেতাদের কার্যক্রমে সংগঠনে অগোছালো ভাব তৈরি হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও মনোযোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান ওবায়দুল কাদের। গত ২০ জানুয়ারি ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী মরহুম মাহবুবুল হক শাকিলের স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বভাবসুলভ বাচন ভঙ্গিতে বলে দিয়েছেন, নেতা নেতা ভাব দেখালেই নেতা হওয়া যায় না। গত শুক্রবার সিরাজগঞ্জের পথসভায় ও বগুড়ার কর্মী সমাবেশেও দলীয় রাজনীতিতে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত করেছেন।
সূত্র মতে, দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতেই নিজের বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আগামী নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ও দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কর্মীদের মূল্যায়নের জন্যই গ্রæপিং কোন্দল নিরসনের ওপর জোর দিয়েছেন। আত্মসমালোচনাও করছেন। দলীয় এ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্য গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নালিশ পার্টি হিসেবে কাদের অভিহিত করে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তাদের নিয়ে না ভাবারও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্ব›িদ্বতামূলক নির্বাচন মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের স্পষ্টই বলেছেন, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সামনে কোনো দল বা শক্তিই দাঁড়াতে পারবে না এমন ম্যাসেজও গ্রপিংবাজ নেতাদের জন্য দলীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে দূরবর্তী সতর্ক সংকেত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
‘জমিদারসুলভ আচরণ করলে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না’ ময়মনসিংহে ওবায়দুল কাদেরের মুখে এমন উচ্চারণ প্রকৃতপক্ষে দলীয় সংসদ সদস্য এবং বিতর্কিত নেতাদের জন্য কড়া বার্তা। সংসদে যারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের জনগণের ভালোবাসার মানুষ হবারও দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগে কর্মী না বাড়লেও ‘নেতার আধিক্য’ দলকে অগোছালো করেছে। আর এজন্যই সাংগঠনিক বিরোধ নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের গভীরতা ও নির্দেশনা দলীয় নেতা-কর্মীদের টানে’ এমন মন্তব্য করেন ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহয়ক শাহীনুর রহমানের।
সূত্র মতে, দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদেরের সোজা-সাপ্টা এমন মনোভাব তাদের জন্য রীতিমত ‘রেড অ্যালার্ট’। দলীয় সংসদ সদস্যরা যারা এ ম্যাসেজ ধারণ করে নিজেদের সংশোধন করতে না পারবেন মনোনয়ন নামের সোনার হরিণের বেলায় তাদের কপাল পুড়তে পারে বলেও মনে করেন দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ময়মনসিংহ সফরকালে সঙ্গে আলাপকালেও ওবায়দুল কাদের বলেন, একশ’ দিনের কর্মসূচিতে অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সমস্যার সমাধান ও একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দলকে শক্ত সাংগঠনিক ভিতের ওপর দাঁড় করানো হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 181 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ