ওলামা লীগের বিষয়টি একটি ফালতু বিষয়

Print

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে দাবি করা বিতর্ত ওলাম লীগকে এবার ‘ফালতু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন সময় বিতর্ত মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রত করে কী উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায় ওলামা লীগ? তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? আসলে কী চায় তারা? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় মাহাবুব-উল আলম হানিফের কাছে। তিনি বলেন, ‘ওলামা লীগের বিষয়টি একটি ফালতু বিষয়। ওলামা লীগের এই ফালতু বিষয় নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। পরে এই ফালতু বিষয় নিয়ে আমার কাছে কিছু জানতে চাইবেন না।’

হেফাজত, জামাত এবং ওলামা লীগ একই ভাষায় কথা বলে। তাদের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক। তাদের দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা দরকার। এমনটাই মনে করছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহারিয়ার কবির।
শাহারিয়ার কবির বলেন, ‘হেফাজত জামাত এবং ওলামালীগ একই ভাষায় কথা বলে। সুতরাং ওলামালীগ নিজেদের আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন দাবি করলেও আওয়ামী লীগ কখনও বলে নাই ওলামালীগ আমাদের সংগঠন। আওয়ামী লীগ বলেছে, ওলামালীগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। নামের সাঙ্গে লীগ থাকলেই সেটাকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ধরে নিতে হবে বিষয়টা সে রকম না। আওয়ামী লীগ সরাসরি তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ অফিসিয়ালি বলেছে, ওলামালীগের সঙ্গে আমাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।’
শাহারিয়ার আলম আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনেক সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ওলামালীগের অনেক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ওলামালীগকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, আমরা এটার নিন্দা করি। ওলামালীগের এসব স্বাধীনতাবিরোধী, চেতনাবিরোধী বক্তব্যের যেমন আমরা তীব্র নিন্দা করি, তেমনি আবার আওয়ামী লীগ বা মুক্তিদ্ধোর পক্ষের কোনো দল এসব সংগঠেন সমাবেশে বা অনুষ্ঠানে যায় সেটারও আমরা একইভাবে নিন্দা করি। ওলামালীগ যেটা করছে সেটা মূলত আওয়ামী লীগের ক্ষতি করার জন্য। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মানুষের মনে এক ধররনের বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্যে। জামাত কিন্তু সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তারা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করবে। বিভিন্ন জায়গায় জামাত আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। লীগ নাম নিয়ে তারা আওয়ামী লীগের মূল চেতনাকে আঘাত করছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রশ্নবৃদ্ধ করছে। এইগুলো সবই স্বাধীনতাবিরোধীদের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চক্রান্ত।’
সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে কলঙ্কমুক্ত থাকতে হলে ওলামালীগের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? পরিবর্তনের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহারিয়ার আলম বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ যদি তাদের দলকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে চায়, তাহলে ওলামা লীগের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়, যারা মৌলবাদী উসকানি দেয় তাদের নিষিদ্ধ করা আমাদের সংবিধানেই আছে। দল হিসেবেই তারা নিষিদ্ধ হতে পারে। সর্বশেষ ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে যে সব বক্তব্য ওলামালীগ বা হেফাজত দিচ্ছে এটাতো সন্ত্রাসের উস্কানি। সুতারাং সংবিধানের ওই ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের নিষিদ্ধ করা উচিত।’
ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অফিসিয়ালি ঘোষণা দিয়েছে, ওলামালীগ তাদের সহযোগী সংগঠন নয়। তাদের কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী না।
আওয়ামী লীগের এমন ঘোষণার পরও ওলামালীগ কেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে নিজেদর দাবি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওলামা লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শরিয়তপুরী বলেন, ‘আমরা মূলত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। ক্ষমতাসীন সরকারের দূর সময়ে আমরা রাজপথে ছিলাম। জামত-বিএনপির আমলে যখন বাংলাদেশে জয় বাংলা বলার সাহস করতো না তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এখন যারা আওয়ামী লীগের বড় নেতা দাবি করে তখন তাদের খোঁজও ছিল না। এসব নেতার এখন প্রতি জনের ১০টার বেশি ভোট নেই।’
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে ‘আওয়ামী ওলামালীগের’ দুটি অংশ আলাদাভাবে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এর একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন ইলিয়াস হোসাইন বিন হেলালী ও মো. দেলোয়ার হোসেন এবং অপর অংশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আক্তার হোসেন ও আবুল হাসান।
আক্তার হোসেন ও আবুল হাসানের নেতৃত্বাধীন অংশকে তেমন কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা না গেলেও কিছু দিন আগে তারা তথাকথিত ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আইন চেয়ে বিক্ষোভ করে। তাদের দাবিগুলোর অধিকাংশই ছিল হেফাজতে ইসলামীর ১৩ দফার অনুরূপ।
এছাড়াও সর্বশেষ হাইকোর্টের ভাস্কার্য ভেঙে ফেলার দাবিতে হেফাজতের করা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা দিয়ে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 245 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ