কক্সবাজারে  ইয়াবা সিন্ডিকেটের নতুন কিং যুবদল নেতা নেজাম গ্রেফতার

Print

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার জেলা যুবদল-ছাত্রদলের ৫ নেতা গড়ে তুলেছেন একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটটি গত কয়েক বছর ধরে সারা দেশে ইয়াবা পাচার করে আসছে। অল্প সময়ে দেশ ব্যাপি ইয়াবা পাচারের নেটওয়ার্ক তৈরি করে পুলিশের চোখে সে ইয়াবা পাচারের নতুন কিং হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ঢাকার গেন্ডারিয়েয় পুলিশের বিশেষ ইউনিট সিটিটিসির হাতে কক্সবাজার জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা নেজাম উদ্দিন এক লাখ পিস ইয়াবা সহ গ্রেপ্তারের পর বের হতে শুরু করেছে এই সিন্ডিকেটের বিভিন্ন তথ্য। যুবদল-ছাত্রদলের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কক্সবাজার জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি নেজাম উদ্দিন সহ তার কয়েক জন সহযোগী মিলে গড়ে উঠা একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট টেকনাফ থেকে ইয়বা ঢাকা সহ সারা দেশে পাচার করে আসছিলো। এই সিন্ডিকেটে এক নারী সদস্যও রয়েছে। কখনো নাফিসা আবার কখনো শীতল নাম ব্যবহার করা ঐ নারীকে নিয়ে প্রায় প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ইয়বা পাচার করতো ছাত্রদল নেতা নেজাম উদ্দিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মীয় টেকনাফের এক যুবদল নেতার মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা মিলে এই সিন্ডিকেটটি গড়ে উঠে। ঢাকায় পুলিশের হাতে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা সহ যুবদল নেতা নেজাম উদ্দিন ধরা পড়ার পরে গা ডাকা দিয়েছে তার ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

পুলিশের হাতে আটকের পর যুবদল নেতা নেজাম উদ্দিন ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের নানা তথ্য বের হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন যুবদল ও ছাত্রদলের এই ইয়াবা পাচার সিন্ডিকেটের তথ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আসলে তাদের ইয়াবা সহ ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করা হয়। কক্সবাজার ও ডিএমপির পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার থেকে অনুসরন করে নিশ্চিত হয়ে ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে নেজাম উদ্দিনকে ইয়াবা ও সহযোগী সহ গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগী আরো ৩ জন পালিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত দেশের সবচয়ে বড় ইয়াবা ব্যাবসায়ী হাজী সাইফুল করিমের ঘনিষ্ট আত্মীয় টেকনাফের এক যুবদল নেতার মাধ্যমেই জেলা যুবদলের ৩ জন সিনিয়র নেতা ও জেলা ছাত্রদলের ২ সিনিয়র নেতা মিলে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের সাথে শীতল নামের ঢাকার এক নারীও জড়িত। মূলত শীতলের মাধ্যমে ঢাকার বড় বড় মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে ইয়াবা ডেলিভারি দেয়া হতো। ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের ধরতে কাজ চলছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মনির উদ্দিন জানিয়েছেন, নেজাম উদ্দিনের মতো একজন ত্যাগী নেতা ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকা খুবই দুঃখজনক। ছাত্রদলের কোন নেতা যদি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে তাদেরকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।

দলের সিনিয়র নেতাদের ইয়াবা ব্যাবসায় জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহম্মদ উজ্জ¦ল জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন নেজাম ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করে আসছে। তার মতো একজন সিনিয়র নেতা ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়া দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। নেজামের ইয়াবা ব্যবসার দায় কখনোই যুবদল নিবেনা। যুবদলের অন্যকোন সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 115 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ