কঙ্কাল পাচার চক্রে জড়িত ডাক্তার, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা

Print

রাজশাহীতে গত পাঁচ মাসে ৩৪টি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গের দুই ডোমকে গ্রেফতার করা ছাড়া অন্যকোনও ‘ক্লু’ উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে করে কঙ্কালের কারবার বাড়ছেই।
এদিকে, কঙ্কালের কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন মেডিক্যাল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী, মর্গের ডোম, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কয়েকজন অসাধু মালিক আর সীমান্তের কিছু চোরকারবারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান বলেন, ‘চোরাকারবারিরা ভারত থেকে খণ্ড খণ্ড অবস্থায় মানবকঙ্কাল নিয়ে আসে। এরপর রাজশাহীতে এসব হাড় জোড়া দিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত আছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন ডাক্তার-শিক্ষার্থী, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কয়েকজন মালিক ও সীমান্ত এলাকার কিছু চোরকারবারি। এরা একেকটি কঙ্কাল ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে।’
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র কাজ করে গেলেও এদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমরা তথ্য পাচ্ছি। সেই তথ্যগুলো নিয়ে তদন্ত করছি। যাচাই-বাছাই করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজশাহী সীমান্ত এলাকা। এখানে সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য কঙ্কালের প্রয়োজন হয়। তাই পাচারকারীরা রাজশাহীকেই কঙ্কাল পাচারের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কঙ্কাল পাচারের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কর্মচারী থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এটা বন্ধ করার জন্য। দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও চেষ্টা করছি।’ এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবি ও পুলিশ বেশকিছু কঙ্কাল উদ্ধার করেছে বলেও জানান তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)- ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সোহেল উদ্দিন পাঠান বলেন, ‘ভারত থেকে সীমান্ত সীমান্ত এলাকায় যেসব কঙ্কাল জব্দ করা হচ্ছে, তার সবই আসছে ভারত থেকে। বাংলাদেশ থেকে কোনও কঙ্কাল ভারতে যায় না। কঙ্কাল চোরাচালানের পুরো চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
এর আগে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) মর্গের দোতলার একটি কক্ষ থেকে থেকে ১৫টি কঙ্কাল উদ্ধার করে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় কঙ্কাল কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে মর্গের দুই ডোম রিপন কুমার (৫৫) ও নীরেন রবিদাসকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। ওই দুই ডোম পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে আসা খণ্ড খণ্ড কঙ্কাল জোড়া দিয়ে তারা বিক্রি করে থাকেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীর ঘোষপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে খণ্ড খণ্ড অবস্থায় মানুষের ৮টি কঙ্কাল উদ্ধার করে বিজিবি। এছাড়াও ২০১৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীর সীমান্ত চর মাজারদিয়া পূর্বপাড়া এলাকা থেকে ১১টি খুলিসহ কঙ্কালের নানা টুকরো উদ্ধার করেছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 118 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ