কতদিন বিদেশে কাটাবেন তারা?

Print

দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকলেও দেশে নেই বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ আত্মগোপনে,  কেউ আবার দেশে ফিরছেন না গ্রেপ্তারের ভয়ে।  নেতাদের কেউ বিদেশে আছেন অল্প কিছুদিন। কারো আবার প্রবাসে কেটেছে অর্থযুগেরও বেশি। সব থেকে বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাও চিকিৎসার জন্য ‍দেশের বাইরে আছেন চার বছর ধরে।

এসব নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, নাশকতা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অসংখ্য মামলা হয়েছে। কারো কারো মামলার রায়ও হয়ে গেছে। এসব মামলার বেশির ভাগ হয়েছে দেশে থাকাবস্থায়। কেউ আবার আসামি হয়েছেন বিদেশে থেকেই। এমন অবস্থায় কবে তারা দেশে ফিরবেন তাদের ঘনিষ্ঠরাও বলতে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে বিদেশে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে নানা সূত্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারেক রহমান ও সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া পরিচিত বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পাদক এম এ কাইয়ুমসহ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পরে গঠিত কমিটির বেশ কয়েকজন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সহ-সম্পাদক বিদেশে অবস্থান করছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন জানা গেছে।

এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে প্রবাসেই বসবাস করছেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসহ দুর্নীতির একাধিক মামলা রয়েছে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।

নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে দেশে আনার দাবি করলেও বারবার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সুস্থ হলে তিনি ফিরবেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। গত বছরের অর্থপাচার ‍মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মূলত মামলা, নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সেদেশে আটক হন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেও এখনো মামলা শেষ না হওয়ায় কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়।

কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন খোকা ২০১৪ সালের ২৪ মে থেকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খোকার বিরুদ্ধে আদালতের হুলিয়া জারি করা আছে।

তার ঘনিষ্ঠ একজন মহানগর বিএনপি নেতা  জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে খোকা আর দেশে ফিরছেন না। মামলার হুলিয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানান ওই নেতা।

খোকার ব্যক্তিগত সহকারী মনির হোসেনের কাছে তার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। সুস্থ হলে দেশে ফিরবেন। সেটা কবে নাগাদ তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছেন। সৌদি আরবেও নিয়মিত যাতায়াত আছে তার। তিনিও কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন সেই ধারণা নেই নেতাকর্মীদের।

২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ-হরতালের আন্দোলনের সময় দলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন ড. ওসমান ফারুক। গত বছর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শিগগির তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাও কম।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া এই কয়েকটি দেশে সময় কাটাচ্ছেন। মাঝে মাঝে সেখানকার দলীয় কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়। সম্প্রতি কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীতে মালয়েশিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। যেগুলো বিচারাধীন। তিনিও শিগগির দেশে ফিরবেন কি না সে সম্পর্কে কারো কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ‘বড় ভাই’ ও ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এম এ কাইয়ুমকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে তার নাম বলার পর এই বিএনপি নেতা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এখনো তার অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি গোয়েন্দারা। তবে তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত। তাকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পরই কাইয়ুম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তার অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু না বললেও তিনি এখন মালেয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। আবার কেউ-কেউ বলছেন, কাইয়ুম বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন যুক্তরাষ্ট্রে, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, হুমায়ুন কবির আছেন লন্ডনে। হুমায়ুন কবির মোসাদ্দেক আলী ফালুর ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।  গত বছর ধানমন্ডির এক শ্রমিকদল নেতা হত্যার ঘটনায় ব্যারিস্টার অসীমের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি লন্ডনে আছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন লন্ডনে, সাকিরুল ইসলাম শাকিল জাপানে, মালয়েশিয়াতে আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, হাসান কমিশনার, আর ডা. মামুন আছেন লন্ডনে। এদের কেউ কেউ বিদেশেই থাকেন বলেও জানা গেছে।

– ঢাকাটাইমস

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 102 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ