কথা দিয়ে রাখেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

Print

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ। মেয়াদ শেষের দিকে ইটালিতে অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধি হিসাবে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান আসে। কিন্তু সম্মেলন ছিল শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের তিনদিন পর। রাষ্ট্রপতি হিসাবে সাহাবুদ্দিন আহমদ শেখ হাসিনাকে সম্মেলনে পাঠাতে চাইলেও শেষে কথা রাখেননি। অথচ বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ছিলেন শেখ হাসিনা মনোনীত রাষ্ট্রপতি। সদ্য প্রকাশিত ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ গ্রন্থের ‘একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা’ নামক লেখায় শেখ হাসিনা এ সব বিষয় তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমার আমন্ত্রণ এল জি-৮ আউটরিচ সম্মেলনে যোগদানের জন্য। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই জেনোয়া শহরে। তিনি লিখেন, সংবিধান অনুযায়ী ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়ে যায়। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। কাজেই আমি উদ্যোক্তাদের জানালাম যেহেতু আমার দাওয়াত এসেছে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। কাজেই তখন আর আমার পক্ষে হয়তো যাওয়া সম্ভব হবে না। কারণ আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবো না।

চিঠি পাওয়ার পর ইটালির প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার শুধু বাংলাদেশের জনগণের নেতা হিসাবে সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এটাও উল্লেখ করেন, এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশের নেতা হিসাবে দারিদ্র্য বিমোচন সম্পর্কে আমাকে কথা বলতে হবে। সরকার পরিচালনাকালে দারিদ্র্য বিমোচনে আমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই হবে প্রধান বিষয়। রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন ফোনে জানালেন, উদ্যোক্তারা খুবই আগ্রহী আমার যোগদানের ব্যাপারে। শেখ হাসিনা লিখেন, আমার আগ্রহ হলো এই কথা ভেবে যে, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে চিন্তা করছে। এই প্রথম বোধ হয় তারা দরিদ্র বিশ্বের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভাবতে শুরু করেছে।
শেখ হাসিনা লিখেন, আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার আগে আরও ১৫দিন সময় হাতে থাকে। যেহেতু বাংলাদেশ এই প্রথম এমন একটা সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে বিরল এক সম্মান পাচ্ছে তাই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে গেলে আরও সম্মানজনক হবে মনে করে আমাদের পররাষ্ট্র সচিব মোয়াজ্জেম আলি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ সাহেবের কাছে গিয়েছিলেন কথাটি বলতে যে, ১৯ জুলাই সম্মেলন থেকে ফিরে এলে যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হলেন না, বললেন, তার প্রয়োজন হবে না। বরং রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি আমাকে পাঠাতে পারবেন। যদিও তার প্রয়োজন পড়েনি। কারণ সম্মেলনে যোগদানের ব্যাপারে আমাকে এশিয়ায় দরিদ্র জনগণের নেতা হিসাবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য অতীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকেও অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জি-৮ কখনও আমন্ত্রণ জানায়নি।
‘একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা’য় শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, যথাসময়ে যাবার আগে রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ করা হলো। কিন্তু তেমন আর কোনো উৎসাহ দেখা গেল না। তখন আমার প্রয়োজনও ছিল না। তবে তিনি অন্তত আমার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ করে ইটালির রাষ্ট্রপ্রধানকে একটি সৌজন্য বার্তা পাঠাতে পারতেন, মৌখিকভাবে হলেও। রাষ্ট্রপতির এ বৈরী মনোভাব আমাকে সত্যিই অবাক করেছে। একটা বিরাট প্রশ্ন আমার মনে তখন থেকে দেখা দেয়, তিনি এমন করলেন কেন?
যাহোক, আমার তাতে কোনো অসুবিধা হয়নি। আমি নিজের উদ্যোগেই ইতালি রওয়ানা হলাম। সেখানে আমাকে ইতালি সরকার প্রটোকল ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিলেন। একজন সরকারপ্রধান হিসেবে যা প্রাপ্য সেই মতোই করেছেন। এ জন্য ইতালি সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 90 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ