কাউন্সিলের এক বছর, গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি

Print

গঠনতন্ত্র প্রকাশ হয়নি, বাস্তবায়ন নেই এক নেতার এক পদ শেষ হয়নি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, হয়নি নির্বাহী কমিটির সভা

গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি

দলের জাতীয় কাউন্সিলের এক বছরেও গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। কাউন্সিলে অনুমোদন হলেও প্রকাশ হয়নি বিএনপির গঠনতন্ত্র। দলের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলোও ঘোষণা হয়নি। পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এক নেতার এক পদ। নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এক বছরেও ডাকা হয়নি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা। নানা প্রতিবন্ধকতায় দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র ৩৩টির কমিটি ঘোষণা হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ কমিটিই আংশিক। কমিটি গঠনে সফল না হওয়ার পেছনে সরকারি দল ও প্রশাসনের বাধার পাশাপাশি দলীয় কোন্দলকেও দায়ী করা হচ্ছে।   বিএনপি নেতারা বলছেন, এক বছরে সফলতাও কম নয়। কাউন্সিলের পরপরই ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষিত হয়েছে। তৃণমূলে ৩৩টি জেলা-মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, জাসাসসহ কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর কমিটিও যে কোনো দিন ঘোষণা হবে। এরমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সহায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার কাজও চলছে। এতকিছুর মধ্যেও প্রায় প্রতিদিনই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরই আদালতের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।   এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কাউন্সিলের এক বছরে আমাদের অর্জন অনেক। আমরা অনেকগুলো জেলা সম্মেলন করেছি। কমিটি দিয়েছি। কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি হয়েছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়েছি। এত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও অনেকগুলোতে জয়লাভ করেছি। আমাদের দল আগের চেয়ে সুসংহত ও শক্তিশালী হয়েছে। একই অভিমত ব্যক্ত করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তবে গঠনতন্ত্র প্রকাশ না করা বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটি না দেওয়াকে ব্যর্থতা বলতে নারাজ মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে কিছুটা সমস্যা থাকবেই। এটাকে ব্যর্থতা বলব না। আওয়ামী লীগেরও গঠনতন্ত্র আসেনি। দল পুনর্গঠন পর্যায়েও পুনর্গঠন শেষ হয়নি। জানা যায়, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর হলেই তা প্রকাশ করা হবে। তবে নজরুল ইসলাম খান এখন ব্যস্ত কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে। তিনি সেখানে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন শেষে ঢাকায় ফেরলেই গঠনতন্ত্র প্রকাশ হবে বলে দলীয় একটি সূত্র জানায়। এদিকে এক নেতার এক পদও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ প্রায় অর্ধশত নেতা একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন। ৮-১০ জন নেতা উভয় পদেই রয়েছেন। এক্ষেত্রে দুই পদে থাকার পক্ষে তারা নানা যুক্তিও তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ বিবেচনার কথাও বলছেন। এক নেতার এক পদেও বিএনপি পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। এ ছাড়া গঠনতন্ত্র থাকলেও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটি দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে রয়েছে ২৬টি উপকমিটির কথা। সেখানেও প্রায় ৩০০ নেতার ঠাঁই মিলবে। কবে নাগাদ এসব কমিটি হবে তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির তিনটিসহ নির্বাহী কমিটিতেও বেশ কয়েকটি শূন্য পদ রয়েছে। এগুলো পূর্ণ করা হচ্ছে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছয় মাস অন্তর অন্তর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা হওয়ার কথা। প্রয়োজনবোধে এর আগেও সভা হতে পারে। তবে যে বছর কাউন্সিল হবে সেই বছর অন্তত একবার নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এক বছরেও তা করতে পারেনি বিএনপি। প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠক হয়েছে। তবে নির্বাহী কমিটির বৈঠকও আমরা করব। দ্রুতই এ বৈঠক হয়ে যাবে।   বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দলের নেতা-কর্মীদের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় করতে না পারা। একটি গণ্ডির মধ্যেই নেতা-কর্মীদের আটকে রাখা। তৃণমূল বিএনপির কমিটি গঠন কাজ অব্যাহত থাকলেও তা নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বেশিরভাগ কমিটিই ঢাকা থেকে গঠন করা হয়েছে, যা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। বেশিরভাগ জেলায় যোগ্য নেতারা বাদ পড়েছেন। সবচেয়ে ব্যর্থ ইউনিট হিসেবে নেতা-কর্মীদের কাছে পরিচিতি পাওয়া ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটিও ঘোষণা করতে পারেনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, এক বছরে আমরা খুব বেশি যে সফল হয়েছি তা বলব না, তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সফলতাও কম নয়। কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা হয়েছে। নানা বাধার মধ্যেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক কমিটি হয়েছে। গঠনতন্ত্র আমরা এখনো প্রকাশ করতে পারিনি—এটা ঠিক। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গঠনতন্ত্র প্রকাশের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলো ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছি।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে যতটুকু করতে পেরেছি, তাতেও বিএনপি সফল। গতকালও গাইবান্ধায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দল পুনর্গঠন হচ্ছে। পিছিয়ে নেই বিএনপি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 156 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ