কিশোরীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বানিজ্য

Print

কিশোরীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বানিজ্য,তদন্ত কমিটির সাথে অধ্যক্ষের খারাপ আচরনে সেটিও স্থগিত!
ক্রাইমরিপোর্টার নীলফামারী ॥
নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে নিয়ম বর্হিভুতভাবে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি, সাবেক গর্ভণিং বর্ডির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বাবুল উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আরো বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।
এ ঘঁটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুন-অর রশিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক মোঃ রবিউল হককে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই তদন্ত কমিটি কলেজে তদন্ত করতে গেলে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ অভিযোগকারীদের সাথে খারাপ আচরন করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের বক্তব্য লিখিত আকারে তার কাছে পাঠানোর কথা বলে তদন্ত কার্যক্রম ¯’গিত করে কলেজ থেকে বেড়িয়ে যান। এদিকে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী আসাদুর রহমান বাবুল, আশরাফুল আলম তুহিন, সাবুল হোসেন বলেন, গর্ভণিং বর্ডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ নিয়োগ বানিজ্য নিরবিঘœ করার জন্য তাদের পছন্দের লোক রেজাউল ইসলাম (ফিলিপ) কে গর্ভণিং বর্ডির বিদ্যুৎসাহী সদস্য করেন। কিন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রঙ্গাপন অনুযায়ী ওই সদস্যকে অবশ্যই ডিগ্রী পাশ হতে হবে। বিদ্যুৎসাহী সদস্যের ডিগ্রি পাশ না থাকায় তিনি দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত ও বির্তকিত একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডিগ্রি পাশ সনদ সংগ্রহ করে সদস্য পদ ¯’ায়ী করেন। পরে ২০১৫ সালে ডিগ্রী শাখার জন্য ৭ জন প্রভাষক ও একজন লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রেজাউলকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য করে। ভুয়া জাল সনদধারী বিদ্যুৎসাহী সদস্য অধ্যক্ষ ও সভাপতির যোগসাজসে তার নিকট আতœীয় সবুজা আক্তার হাসিকে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক, জামাই মোস্তাফিজার রহমানকে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক ও তার আপন শ্যালক আয়াতুন্নবীকে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ প্রদান করে। কিন্তু তার শ্যালকের লাইব্রেরিয়ান পদের যোগ্যতা না থাকায় আবারো ওই বির্তকিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাল সনদ সংগ্রহ করে দেয়া হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকারী আব্দুল হালিম বলেন, গত ২০১৬ সালের ২৮আগষ্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিশোরীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজসহ দেশের ৬৩টি কলেজ জাতীয়করন করা হয়। পরিপত্র মতে জাতীয় করন ঘোষনার পর ঘোষিত তারিখ থেকে এসব কলেজের ¯’াবর- অ¯’াবর সম্পতি হস্তান্তর ব্যাংক লেনদেন ও কোন প্রকার শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে না কলেজ কর্তপক্ষ। কিন্তু কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ গর্ভনিংবডির সভাপতির সাথে যোগসাজস করে কলেজ জাতীয়করন ঘোষনার পর একই দিনে (পুর্ববর্তী) তারিখ দেখিয়ে সৃষ্ঠ পদে দুইজন প্রভাষক ও অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে একজনকে নিয়োগ প্রদান করেন। প্রভাষক দুইজন হলেন মিজানুর রহমান ও মোছাঃ লাকী বেগম। এদের নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ২৯/১/২০১৫ এবং ৪/৫/২০১৫। অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী আদনান বিন আমিনুল অধ্যক্ষের আপন শ্যালকের যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১৭/৮/২০১৬ তারিখ।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের সাথে কথা বললে তিনি বলেন , আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রভাষকদ্বয় ও অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারীকে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎসাহী সদস্য রেজাউল ইসলাম ফিলিপের সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোঃ রবিউল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কলেজে তদন্ত করতে গেলে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ ও অভিযোগকারী আসাদুর রহমান বাবুল ও অন্যন্যদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আমি তদন্ত কার্যত্রম ¯’গিত করে অভিযোগকারীদের লিখিত ভাবে আমার অফিসে তাদের বক্তব্য পেশ করার অনুরোধ জানাই। অভিযোগকারীদের বক্তব্য পেলে আমি তা উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 154 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ