কুড়িগ্রামের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ থেকে খোরশেদ কে অপসারণ

Print

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিতর্কিত খোরশেদ আলমকে অবশেষে সভাপতি পদ থেকে অপসারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের স্মারক নং- ২/এস/২২/৩৪৩০(৭) তারিখঃ ১৫/০৩/২০১৭ইং তারিখের এক পত্রে বলা হয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এছাড়াও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কালিগঞ্জ, লালমনিরহাট এর মামলা নং- সি/আর ৭২/১৫ আদেশ তারিখ ৩০/০৪/২০১৫ইং ফৌজদারী দন্ডবিধি দ্যা নেগোশিয়েবল ইন্টট্রমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮১ এর ১৩৮(১) ধারায় অনুযায়ী দোষী সাবস্ত করে খোরশেদ আলমকে ০১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৪ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করে। যাহা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর পরিপত্রের ৩৮ (ঘ) ধারা ও উপ-ধারার পরিপন্থি মোতাবেক খোরশেদ আলমকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একই পত্রে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি মনোনিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
অন্যদিকে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও মাঠ ভরাটের টাকা আত্মসাত, গাছ বিক্রি এবং নানা অনিয়ম ও অডিট আপত্তিসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তার দুর্নীতি ও অনিয়মের মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জনশ্রুতি রয়েছে।
এব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের বিদ্যালয় উপ পরিদর্শক আলতাফ হোসেন জানান, নৈতিক স্খলন জনিত কারণে তাকে আইন উপদেষ্টার পরামর্শ মোতাবেক সভাপতি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিদর্শক রবিন্দ্রনাথ জানান, দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম এর বিতর্কিত কর্মকান্ড আমাদেরকে বিব্রত করেছে। অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। জেলা শিক্ষা অফিসার মোসলেম উদ্দিন পত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার জানান, সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বোর্ড এর সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই। তবে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জানতে পেয়েছি তার অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সভাপতিকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 71 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ