কেউ বলতে পারবে না শিডিউল ফাঁসিয়েছি

Print

এই মুহূর্তে ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে ব্যস্ত নায়িকা মাহিয়া মাহি। বিয়ে-স্ক্যান্ডাল, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বসহ নানা প্রতিকূলতা ছাপিয়ে ফিরেছেন দোর্দণ্ড প্রতাপে। শোনা যাচ্ছে এক প্রযোজক নাকি তার বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন। সেসবই ব্যাখ্যা করেছেন মাহি।
এই মুহূর্তে ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে ব্যস্ত নায়িকা আপনি।

(হাসি)। না সে রকম নয়। তবে কাজ করছি। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, অনেকগুলো ভালো কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
কী কী কাজ?
অনেকগুলোই করেছি। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘জান্নাত’-এর ক্যামেরা ক্লোজ হয়েছে। এ ছাড়া দীপঙ্কর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’, শামীমুল ইসলাম শামীমের ‘গোলাপতলীর কাজল’, শাহনেওয়াজ শানুর ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’, এ কে সোহেলের ‘পবিত্র ভালোবাসা’ ছবিগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ‘মনে রেখো’ ছবির কাজও অনেটাই শেষ হয়েছে। এর বাইরেও দুই-তিনটি ছবি রয়েছে।
আপনার বিরুদ্ধে প্রযোজক তাপসী ঠাকুরের অভিযোগ ‘মনে রেখো’ ছবির জন্য শিডিউল দিচ্ছেন না?
বিষয়টি আমিও শুনেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। একটা ছবির জন্য আমরা সাধারণত ৩৫ দিন সময় দিই। কিন্তু এই ‘মনে রেখো’ ছবির জন্য আমি টানা ৪৫ দিন কাজ করেছি। অতিরিক্ত যত দিন এই ছবির শুটিং করেছি, সেই সময়টা তো অন্য ছবির জন্য ছিল। আমি তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে এটার কাজ করেছি। এর মধ্যেও ছবির কাজ শেষ হয়নি। এখন হুট করে একদিন আগে ফোন করে শিডিউল চাইলেই তো আমি আর সময় দিতে পারি না। কারণ এই সময়গুলো আমার অন্য সিনেমার জন্য বরাদ্দ দেওয়া। ‘মনে রেখো’ ছবির টিম যদি অতিরিক্ত ১০ দিন সময় বেশি নিয়েও শুটিং শেষ করতে না পারে, সেখানে আমার ওপর দোষ চাপানো হবে কেন?
তার মানে আপনি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলতে চাইছেন?
অবশ্যই। এত দিনের ক্যারিয়ারে কেউ বলতে পারবে না আমি শিডিউল ফাঁসিয়েছি। সব সময় কলটাইম অনুযায়ী সেটে আসি। কাজের ব্যাপারে আমি একচুলও ছাড় দিই না। আর মনে রেখো সিনেমার জন্যও আমি নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত শিডিউল দিয়েছি। এখন আমার হাতে শিডিউল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে আরেকজনের শিডিউল ফেঁসে যাবে। এখন আমার ফাঁকা ডেট ছাড়া আমি কিছুই করতে পারব না।
মাঝখানে বিয়ে-স্ক্যান্ডাল, শীর্ষ প্রযোজকের সঙ্গে দ্বন্দ্বসহ নানা বিষয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন আপনি। সেখান থেকে এত দৃঢ়ভাবে ফিরলেন কী করে?
আমার মনে হয় স্বামী অপু আমার জন্য লাকি। (হাসি) আসলে ওর সঙ্গে কথা ছিল আমি বেছে বেছে কাজ করব। তো বিয়ের পর কয়েকটি শুটিংয়ে আমি ওকে নিয়ে যাই। ও আমার কাজগুলো এনজয় করে। আমাকে কাজের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিতে থাকে। আর আমার হাতেও অনেকগুলো ছবি চলে আসে।
এক্ষেত্রে আপনার কী কোনো পরিকল্পনা ছিল?
আমি আসলে বর্তমানে থাকতে ভালোবাসি। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা ভাবি না। তেমন পরিকল্পনা করারও অভ্যাস নেই। মনে হয়েছিল ফিরেছি। আমার আল্লাহ আমার প্রতি সহায় ছিলেন, তাই পেরেছি। এখন বাকিটা দর্শকদের হাতে।
বিবাহিত জীবন কেমন উপভোগ করছেন?
দারুণ! আসলে অপুর (মাহির স্বামী) প্রশংসা করলে ওকে ছোট করা হবে। ওর কোনো তুলনাই চলে না। আমি প্রচুর ব্যস্ত থাকি। এরপরও যেটুকু সময় পাই একসঙ্গে ঘুরি-ফিরি-খাই-দাই। এক কথায় দারুণ ভালো আছি।
মনে রেখো-তো আটকে গেল। ঈদে কী আসছে?
আটকে গেল কিনা জানি না। এই সিনেমাটা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী ছিলাম। বলা হয়েছিল বিগ অ্যারেঞ্জমেন্ট। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গানের শুট হবে। পরে পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। এখন আবার শিডিউল সমস্যা। আরও কিছু সিনেমার কাজ শেষ আছে। সেখান থেকে কোনো একটা ঈদে মুক্তি পেলেও পেতে পারে। এটা আসলে আমার চেয়ে পরিচালক-প্রযোজকরাই ভালো বলতে পারবেন।
যৌথ প্রযোজনা, কলকাতার সিনেমা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনি তো যৌথ প্রযোজনার কাজ করেছেন। দুই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে তুলনা করুন।
ওরা একটা কাজের আগে প্রচুর প্রিপারেশন নেয়। রিহার্সেল করে। ফিল্মের প্রতিটা সিন নিয়ে গবেষণা করে। কস্টিউম-গান থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ে প্ল্যানিং থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এর কোনোটাই ঠিকঠাক হয় না। ওরা টেকনিক্যালি অনেক এগিয়ে। তবে একটা দিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে সেটা হলো আন্তরিকতা আর ভালোবাসার জায়গা। ওরা যতটা কাঠখোট্টা আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 128 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ