কেনিয়াতে ওষুধ কারখানা করছে স্কয়ার ফার্মা

Print
লেনদেনে আধিপত্য ধরে রেখেছে বেক্সিমকো, কেনিয়াতে ওষুধ কারখানা করছে স্কয়ার ফার্মা
দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন ও মূল্যসূচক বাড়লে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পায়।  ছ​বিটি সম্প্রতি তোলা l প্রথম আলো

কেনিয়ার নাইরোবিতে ওষুধ উৎপাদন কারখানা খুলছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মা। স্কয়ার ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বিদেশের মাটিতে নতুন এ কারখানা খোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কয়ার ফার্মার পরিচালনা পর্ষদের সভায় সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্কয়ার ফার্মা দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এ কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত শেয়ারধারীদের অবগত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গতকাল সোমবার সেই তথ্য কোম্পানিটির শেয়ারধারীদের জানানো হয়।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কেনিয়ায় নতুন এ কারখানা করতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করবে ২ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৮০ টাকা ধরলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৪ কোটি টাকা বা ৮০ লাখ ডলার স্কয়ার ফার্মা নিজেই জোগান দেবে। বাকি অর্থ ঋণ নেওয়া হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে নতুন কোম্পানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্কয়ার ফার্মা আরও জানিয়েছে, এরই মধ্যে কেনিয়ার নাইরোবিতে কোম্পানি খুলতে বিদেশে অর্থ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে দেশীয় কোনো কোম্পানির বিদেশে মূলধন স্থানান্তরের সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশীয় কোম্পানি বিদেশে মূলধন স্থানান্তর করতে পারে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বেশ কিছু কোম্পানিকে শর্ত সাপেক্ষে বিদেশে কোম্পানি খোলা ও মূলধন স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে রোববার কিছুটা মূল্য সংশোধনের পর গতকাল আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন প্রায় ৫৬ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ২১৫ পয়েন্ট। ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবরের পর এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর ডিএসইএক্স ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি এদিন ১৯৭ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৬ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি দুই বাজারে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে।

ডিএসইতে গতকাল দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭২ কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি।

মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের দিনের মূল্য সংশোধনের পর বাজার আবারও ঊর্ধ্বগতিতে ফিরেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০৯টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৭৪টির।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের মতে, সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এ রকম বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি ঘটায় সূচকও বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোম্পানিগুলো। আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি থাকায় লেনদেনেও গতি ছিল। খাতভিত্তিক লেনদেনে এগিয়ে ছিল প্রকৌশল খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ২২ শতাংশই ছিল এ খাতের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত লেনদেন।

ঢাকার বাজারে গতকালও লেনদেনের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন-বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো। এদিন এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ৬৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম আড়াই টাকা বা প্রায় সোয়া ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৭০ পয়সায়।

আর লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল শাশা ডেনিমস। এদিন ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রায় ৪১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ১০ পয়সায়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 699 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ