কেন খেলানো হচ্ছে না মোস্তাফিজকে

Print

গতবারই তো এই গ্রামে জ্বলে ওঠা আলো ছড়িয়ে পড়েছিল ক্রিকেটবিশ্বে। গ্রামের মানুষের বুক গর্বে ভরে উঠেছিল। তাদের ছেলে ভারতের মাটিতে গিয়ে আইপিএল কাঁপাচ্ছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছেন। ধন্য ধন্য করছেন সবাই।

আর এবার একদম উল্টো ছবি। এটাই বোধহয় জীবন। তেঁতুলিয়া গ্রামের সম্পদ মোস্তাফিজুর রহমান ভারতে খেলতে গিয়ে মাঠের বাইরেই বসে রয়েছেন। জায়গা পাচ্ছেন না প্রথম একাদশে। বুকে ঝড় বইছে মোস্তাফিজের। তার সেই যন্ত্রণা টের পাচ্ছে কেবল তেঁতুলিয়া গ্রাম।
শ্রীলঙ্কা সফর থেকে দেশে ফিরে সপ্তাহখানেক বিশ্রাম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই পেস সেনসেশন। তারপরেই ভারতে পৌঁছান। মুম্বাইয়ে নেমে বল হাতে ‘কাটার মাস্টার’ শুরু করেন দৌড়। কিন্তু তার সেই বিষাক্ত কাটারগুলোই বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করে দিল। মুম্বাইয়ে ঠিক জায়গায় পড়ল না বলগুলো। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যানরা ২.৪ ওভারে নিলেন ৩৪ রান।
এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। মোস্তাফিজুর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমি যেখানে বল ফেলতে চাইছিলাম, সেটাই ঠিকঠাক হচ্ছিল না।’ একটা ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্ট বসিয়ে রাখল মোস্তাফিজকে। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের ছেলের ঝুলিতে ওই একটি ম্যাচই। তাকে খেলতে না-দেখে টেলিভিশন সেটের সামনে থেকে উঠে যান ভক্তরা।
এক বুক যন্ত্রণা চেপে রয়েছে মোস্তাফিজের পরিবারও। একসময়ে বাইকের পিছনে ভাই মোস্তাফিজকে বসিয়ে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন দাদা মোখলেছুর রহমান। সেই ভাই এখন বিশ্বজোড়া নাম। মোস্তাফিজকে খেলতে না দেখে দুঃখ পাচ্ছেন দাদাও। কিন্তু হতাশ না হয়ে যুক্তি দিয়ে কারণ ব্যাখ্যা করলেন তিনি, ‘ওকে কেন খেলানো হচ্ছে না, তা নিয়ে আমাদের কৌতূহল জাগে, এটা ঠিক। সাধারণত, টিম জিতলে উইনিং কম্বিনেশন বদলাতে চায় না কোনো দলই। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমও তাই করে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদও সেই কাজটাই করছে এখন।’
এর মধ্যে অন্য কিছুর গন্ধ অবশ্য পাচ্ছেন না মোখলেছুর। তিনি আরো বলেন, ‘রশিদ খান খুবই ভালো বোলিং করছে। রশিদ ভালো করায় আর একজন বিদেশির সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গতবার ট্রেন্ট বোল্ট খেলেছিল। সেবার মোস্তাফিজ ভালো করায় বোল্ট মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল।’
বোল্ট এবার জার্সির রঙ বদলে ফেলেছেন। হায়দরাবাদ থেকে তিনি চলে এসেছেন কলকাতায়। কেকেআর-এর হয়ে নিয়মিত খেলে চলেছেন বোল্ট।
দেশ ছেড়ে এখন বিদেশে মোস্তাফিজ। তাই বলে পরিবারের সাথে যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন নয়। নিয়মিত বড় ভাইয়ের সাথে কথা হয়। তার কাছে জানতে চান পোষা পায়রাগুলোর কথা। ছেলেবেলা থেকেই পায়রা পোষেন মোস্তাফিজ।
মোখলেছুর বলেন, ‘ওর সাথে প্রতিদিনই আমার কথা হয়। ক্রিকেট নিয়ে কোনো কথাবার্তা অবশ্য হয় না। ক্রিকেট নিয়ে বলার জন্য রয়েছেন কোচ। আছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আমরাও যদি ক্রিকেট নিয়ে ওর সাথে কথা বলতে শুরু করে দিই, তাহলে ও কোথায় যাবে। পরিবারের খোঁজখবর নেয়। মা-বাবা, আমরা সবাই কেমন আছি জিজ্ঞাসা করে। পায়রা পোষা ওর নেশা। পায়রাগুলো সম্পর্কে জানতে চায়। এখন পায়রাগুলোর দেখভাল আমিই করি।’
২১ বছরেই তারকা বনে গেছেন মোস্তাফিজ। ভাইয়ের কাছে অবশ্য আগের মতোই রয়েছেন তিনি। মোখলেছুর বলছেন, ‘বড় তারকা খেলার মাঠেই। বাড়িতে ও আমাদের ছোট ভাই হিসেবেই থাকে। ও যে এত বড় তারকা, বাড়িতে আসলে কেউ বুঝতেই পারে না। সবার সাথে মিশে। মাঠে গিয়ে ছেলেদের সাথে আনন্দ করে।’
আর পাঁচজন যেরকম, মোস্তাফিজও ব্যতিক্রম নন। ইতোমধ্যেই চারটি টেস্ট, ১৭টি ওয়ানডে ও ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। নতুন ইনিংস কি শুরু করবেন মোস্তাফিজ?
অভিভাবক মোখলেছুরের কথায়, ‘ওর ক্যারিয়ার বেশিদিনের নয়। আরো চার-পাঁচ বছর যাওয়ার পরে ওর বিয়ের কথা চিন্তা করা যাবে। আপাতত ওসব আমাদের ভাবনায় নেই।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 137 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ