কোন্দল মেটাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে

Print

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা, রাজনৈতিক মাঠ দখল এবং তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে তৃণমূলে সফর শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এসব কিছু করা হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করাই দলটির লক্ষ্য। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের পাশাপাশি দলের যুগ্ম সম্পাদকরাও বিভাগভিত্তিক সফর শুরু করেছেন। তারা জেলা এবং উপজেলা নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সভা করছেন। জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা-উপজেলা সফর শুরু করেছেন। বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা তৃণমূলকে সংগঠিত করতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের কাছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা মাঠে নেমে পড়েছেন। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো উপস্থাপন করা হবে। জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুতির কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলীয় ফোরামে। সেগুলো তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি এই সফরে মূল কাজ হবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কোন্দল রয়েছে। নির্বাচনের আগে যে কোনো মূল্যে এই কোন্দল দূর করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হবে দলীয় কোন্দল। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে কোন্দল নিরসনের বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। যেসব জায়গায় কোন্দল জটিল আকার ধারণ করেছে এবং কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যর্থ হবে, সেসব জেলা-উপজেলার নেতাদের প্রয়োজনে গণভবনে ডেকে পাঠানো হবে। দলীয় প্রধানের উপস্থিতিতে তাদের বক্তব্য শোনা হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারকে গণভবনে ডেকে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, দলের নিজস্ব সার্ভে অনুযায়ী প্রায় ৪০টির বেশি জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল জটিল আকার ধারণ করেছে। এই কোন্দল নিরসন করতেই সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদকদের দায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সাংগঠনিক এবং যুগ্ম সম্পাদকদের নিজ নিজ বিভাগে দায়িত্ব ছিল। এতে করে তাদের মতামতের বাইরে কেউ কিছু করতে পারত না। সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল বলে দলীয় সভানেত্রীর কাছে তথ্য ছিল। যে কারণে এবারের সবার দায়িত্ব ভিন্ন বিভাগে দেওয়া হয়েছে। দলের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতারা জেলা সফরে যাওয়া শুরু করেছেন। কারণ নতুন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হতে হচ্ছে। নতুনভাবে ঘর গোছাতে হচ্ছে। সম্প্রতি সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের পরবর্তী এজেন্ডা জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের ভালোবাসা অর্জন এবং মন জয় করতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এ দলটি জনগণ নির্ভর দল। আগামী নির্বাচনে জিততে হলে জনগণের কাছেই বেশি করে যেতে হবে। তাই আওয়ামী লীগ জনগণের সংস্পর্শে থাকার জন্য যেসব কাজ রয়েছে, এ কমিটি সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, দল গোছানো এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি দুটো একে অপরের পরিপূরক। সুতরাং আমি মনে করি, একটা করলে আরেকটা এমনিতেই হয়ে যাবে। আগামী ৩০ তারিখে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখানে অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। সেগুলো মিটিয়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 58 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ