কোন সম্পর্কে থাকলে ধর্ষিত হবে না মেয়েরা?

Print

কোন সম্পর্কে থাকলে ধর্ষিত হবে না মেয়েরা? এইতো কয়েকদিন আগেই একটা খবর পড়লাম, বাবা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষিত এবং ৫মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এমন খবরকি আমাদের সমাজের জন্য কাম্য? শুধু তাই না, আপন ভাই, চাচাতো ভাই, আপন চাচা, আপন মামা দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে মেয়েরা। এমনিক প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুরা মিলেও এমন নেক্কার জনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু কেন? তাহলে কোন সম্পর্কে থাকলে নিরাপদে থাকবে মেয়েরা বলতে পারেন?

ধর্ষণ একপ্রকার যৌন অত্যাচার। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা অনুমতি ব্যতিরেকে যৌনাঙ্গের মিলন ঘটিয়ে বা না ঘটিয়ে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। সাধারন ভাবে ধর্ষণ বলতে বুঝায়, নারী বা পুরুষ যে কোন একজনের অমতে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে। তবে আমরা যে সমাজে বাস করি তার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের শিকার শুধুমাত্র নারীরা। কিন্তু আমাদের এই ধারণা পুরোপুরিভাবে ‘ধর্ষণ’-কে সংজ্ঞায়িত করে না।

জন্মদাদা বাবার কাছে যদি মেয়ে নিরাপদে না থাকে তাহলে কি করে চলবে সমাজ? একজন ভায়ের কাছে যদি বোন নিরাপদে না থাকে তাহলে কি করে ওই বোন নিরাপদে চলবে? আমাদের সমাজের কিছু পুরুষ নামে নরপশু দ্বারা এমন ঘটনা ঘটে থাকছে। এদের কি কোন সুরাহা হবে না?

আজ এমন খবর শুনে আমার বোন কি ভাবতে পারে না আমার ভাই কি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে? আমার মেয়ের মনে কি প্রশ্ন উঠবে না আমার বাবা কি আমার প্রতি অত্যাচার করবে? আজ কেন বোন, মেয়েসহ অন্য মেয়েরা এমন প্রশ্নের মধ্যে থাকবে বলতে পারেন?

একটু ভেবে দেখা যাক, একটা মেয়ে যখন বেড়ে উঠে তার প্রতি আমাদের সবার একটা দায়িত্ব থাকে। সে কি করছে কোথায় যাচ্ছে। কাদের সাথে মিশছে। আমরা কি সেই খবর নিচ্ছি? যদি উত্তর না হয়, তাহলে ওই মেয়ের সর্বনাশের জন্য দায়ী কে? হয়তো আমার প্রশ্নের উত্তর আমি পাবো না। কিন্তু এটা সত্য যে অধিক মেলামেশা আর অচেনা কাউকে বিশ্বাস করার কারণেই এই ধর্ষণের মতো নোংরা কর্মকান্ড ঘটছে।

আমরা যদি একটু চিন্তা করে দেখি যে, কোন মেয়ে কি ইচ্ছাকৃত ভাবে ধর্ষিত হতে চায়? যদি উত্তর না হয় তাহলে কেন সেই ধর্ষিতাকে আমরা দোষারোপ করব? আমাদের সমাজ কেন একটা নারীর নিরাপত্তা দিতে পারছে না? আমাদের ব্যর্থতা কোথায়?

শুধু ধর্ষণ করে থেমে যাচ্ছে না ধর্ষকেরা সেই সাথে ভিডিও করছে অশ্লীল এই কর্মকান্ডের। কিন্তু কেন? প্রতিদিন ধর্ষণের খবর পড়তে পড়তে আর ভালো লাগছে না। নারী নির্যাতনের নেপথ্য কারণ কী এই প্রশ্নের জবাবে নারী পুরুষ একে অপরকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। পুরুষ পক্ষ বলছে, নারীর উগ্র চলাফেরা, নগ্নতা, মিডিয়ায় তাদের আবেদনময়ী হয়ে উপস্থাপন পুরুষকে ধর্ষণের দিকে উদ্বুদ্ধ করছে। আর এই কারনে নারী দিন দিন নারীত্ব সংকটে পড়ছে। এর শেষ কোথায়?

অনেকে আবার ধর্ষণের শিকার হয়ে লজ্জায় মুখ খুলতেও পারে না। কিন্তু নিরবে নিজের অস্তিত্বকে বিলিয়ে চলেছে। এর শেষ কোথায়?

বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ‘ধর্ষণ’-কে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা হলো, যদি কোন পুরুষ নিম্নবর্ণিত পাঁচ প্রকারের যে কোন অবস্থায় কোন নারীর সাথে যৌন সহবাস করে তবে সে ব্যক্তি নারী ধর্ষণ করেছে বলে গণ্য হবে-

কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অথবা কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া অথবা কোনো নারীকে মৃত্যু বা শারীরিক আঘাতের ভয় দেখিয়ে সম্মতি দিতে বাধ্য করলে অথবা নাবালিকা অর্থাৎ ১৬ বছরের কম বয়স্ক শিশু সম্মতি দিলে কিংবা না দিলে (সে যদি নিজ স্ত্রীও হয়) অথবা কোনো নারীকে বিয়ে না করেই ব্যক্তিটি তার আইনসঙ্গত স্বামী এই বিশ্বাস দিয়ে যদি কোনো পুরুষ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে আইনের ভাষায় ধর্ষণ বলা হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, অনুপ্রবেশই নারী ধর্ষণের অপরাধ রূপে ‘গণ্য হবার যোগ্য যৌনসহবাস’ অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

আরেফিন সোহাগ,
লেখক ও সাংবাদিক
মোবাইল নং +৮৮০১৭৩১৬৬৪৬৬৬
ইমেইল: arefin24shohag@gmail.com

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 190 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ