কোমির স্মারকে ট্রাম্পের ভীত হওয়া উচিৎ

Print

চারদিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বহিস্কারের হুমকি দেন। তিনি এই বলে তাকে হুমকি দেন যে, তার কাছে তাদের কথোপকথনের টেপ রেকর্ড রয়েছে। কোমি যদি মিডিয়ার কাছে তথ্য ফাঁস করে দেয়, তাহলে তিনি তাদের কথোপকথনের টেপ রেকর্ডও ফাঁস করে দিতে পারেন।
পরে এটা প্রকাশ পায় যে, এই কথোপকথনের ব্যাপারে কোমির নিজস্ব রেকর্ড রয়েছে এবং এজন্য ট্রাম্পকে চিন্তিত হওয়া উচিত।

গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পকে লেখা কোমির সমসাময়িক নোটের অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াশিংটন পোস্ট নিশ্চিত হয়েছে। এতে তিনি লিখেন যে, ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফিনের তদন্ত বন্ধ করতে ট্রাম্প তাকে নির্দেশ দেন এবং এর পরিবর্তে সাংবাদিকদের কাছে আরো অধিক তথ্য ফাঁসের উপর মনোনিবেশ করতে বলা হয়। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্ট কখনোই কোমিকে বা অন্য কাউকে ফ্লিনসহ কোনো তদন্ত বন্ধ করতে বলেননি।
এখানে তার সারর্মম তুলে ধরা হল:
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকের পর কোমিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি, আপনি বিষয়টি ছেড়ে দেবেন।’
বৈঠক নিয়ে কোমির লিখিত দলিল দীর্ঘ দুই পৃষ্ঠার এবং অত্যন্ত সবিস্তারিত। বৈঠক নিয়ে কোমির নোটের বিস্তারিত বিবরণ সর্ব প্রথম নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।
কর্মকর্তারা আগে বলেছিলেন যে, তথ্য ফাঁসের তদন্তের অগ্রগতির জন্য রাশিয়ান কর্মকর্তা এবং ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য ট্রাম্প এবং তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এফবিআইকে চাপ দিচ্ছে। মঙ্গলবার এই বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে কোমির একাধিক কথোপকথনের বিস্তারিত নথি কোমির কাছে রয়েছে।
এই শেষ বাক্যে হোয়াইট হাউসকে ভয় পাওয়া উচিৎ। এই একটি কাহিনী যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার ট্রাম্প আরো অভিযোগের সম্মুখীন হবেন।
কিন্তু কোমির লেখা নোটের সম্ভাব্য অস্তিত্ব এখানে বাস্তব গল্প হতে পারে। কোমির পরিচিতি রয়েছে একজন অতি সর্তক নোট রক্ষক হিসাবে এবং সিএনএনের জেক টেপার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, ট্রাম্পের সঙ্গে কোমির কথোপকথনের ব্যাপক নোট তার কাছে রেখেছেন।
৯ মে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল ফাঁসের তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে কোমিকে বরখাস্ত করা হয়। এর পরপরই তার দু’জন সহকর্মীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহখানেক পর ট্রাম্প কোমিকে হোয়াইট হাউসে ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই সময় ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন কোমি। বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সৎ থাকবেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, সেদিনের আলোচনা বরখাস্তের একটি কারণ হতে পারে বলে অপসারিত এফবিআই প্রধান কোমি মনে করছেন। তবে, কোমি এই বৈঠক সম্পর্কেও নোট রেখেছিলেন কিনা তা অনুমান করা কঠিন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের নোট অনুযায়ী, এই স্মারকগুলো কথোপকথনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হিসাবে আদালতে ব্যাপকভাবে স্থগিতাবস্থায় রয়েছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে আইনবহির্ভূতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কথা বলে গত ফেব্রুয়ারিতে ফ্লিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
আর এফবিআইকে ঠিকমতো নেতৃত্ব দিতে না পারার অভিযোগে কয়েক দিন আগেই সংস্থাটির প্রধান জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিরোধীদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার অবৈধ হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সঙ্গে রুশ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য যোগসাজশের ঘটনায় এফবিআইয়ের তদন্ত ধামাচাপা দিতেই কোমিকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 64 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ