কোরআন নিয়ে শপথ করেছি

Print

আমরা কোরআনে হাত রেখে শপথ করেছি, পুলিশের কেউ আমরা মাদকের সঙ্গে জড়িত হব না। বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মাদক ব্যবসাকে উৎসাহিত কিংবা সহযোগিতা কোনোটাই করবেন না।
শুক্রবার বিকেলে গেন্ডারিয়া ধুপখোলা মাঠে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগ আয়োজিত মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতাকালে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের তথ্যও আমাদেরকে জানান। আমরা ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছি। কাউকে মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রমাণ মিললে তার একটাই শাস্তি। আর তা হচ্ছে চাকরিচ্যুতি। পুলিশকে আমরা বলেছি, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করুন। তাদের তালিকা তৈরি করুন। হয় তারা এলাকায় থাকবে, না হয় তাদের এলাকা ছাড়তে হবে।
পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক জঙ্গির চেয়ে কোনো ক্রমেই কম ভয়াবহ নয়। সকলকে এর বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে। শিশু ও তরুণ বয়সেই মাদকভীতি তৈরি করতে হবে। ছেলে-মেয়েদের ডাইনিং টেবিলে কথা বলতে হবে। তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে তা খেয়াল রাখতে হবে।
জঙ্গিবাদের বিষয়ে আইজিপি বলেন, গ্রেফতার জঙ্গিদের দেওয়া তথ্য থেকেই পরবর্তীতে একের পর এক জঙ্গি আস্তানা পাওয়া গেছে এবং সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি এই জঙ্গি আস্তানার অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করছে। তারা নানাভাবে বক্তব্য দিচ্ছে। যা খুব দুঃখজনক। না জেনে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, একটি দেশে ভিন্নমতের রাজনৈতিক দল থাকতেই পারে। কিন্তু একটি জায়গায় এসে সকলকে এক হতে হয়। জঙ্গি অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তা মারা যাচ্ছে, তা নিয়ে একবার শোক পালন করছেন না। অথচ জঙ্গিরা কেন মারা যাচ্ছে, কেন জীবিত ধরা পড়ছে না, তা নিয়ে কথা তুলছেন। জঙ্গিদের ধরে জেলখানা ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। জেলখানায় জায়গা হচ্ছে না। অথচ আপনাদের চোখে তা পড়ছে না।
সাম্প্রদায়িকতার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সমাজে দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নাসির নগরের হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে। এমনভাবে চার্জশিট দেওয়া হবে যে, আদালতে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।
শহীদুল হক বলেন, আমরা যেমন ইসলাম নিয়ে বাজে মন্তব্যকারী ব্লগারদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তেমনি ব্লগারদের যারা হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছি। বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করবেন, তা হতে পারে না। দেশের বিচার ব্যবস্থা বলতে একটা মাধ্যম রয়েছে। যা হয়েছে সব বঙ্গবন্ধু কন্যার পরামর্শেই হয়েছে। এটি আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
আইজিপি বলেন, আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। এই স্বপ্ন প্রথম বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল একটি গণমুখী পুলিশ বাহিনী গঠনের। আমরা জনগণের পুলিশ হবে কেন? কারণ এদেশের মালিক জনগণ। কাজেই জনগণের সেবার জন্যই পুলিশ। জনগণের টাকায় আমার বেতন হয়। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এদেশ গঠন করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়া। সেই অসাম্প্রদায়িক সমাজে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে। অতীতে তাই ছিল। এখন কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, অতীতের মতো আবার পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব থাকবে না। এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং গঠন করা হয়েছে। যার লক্ষ্য সবার মধ্যে বন্ধন তৈরি করা।
অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, এটি আইজিপি হিসেবে দাবি করছি না। বিদেশ থেকে যারা এদেশে আসেন, যারা এদেশে বসবাস করেন এটা তাদের কথা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছে, সেখানেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 193 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ