ক্যামেরায় মেয়র মীরুর গোপন রহস্য

Print

গুলি লাগার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরায় একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছিলেন সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক শিমুল। যখন গুলিতে শিমুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তাৎক্ষণিক কিছু প্রত্যক্ষদর্শী শিমুলের ক্যামেরাসহ কাগজপত্র শিমুলের মামার হাতে তুলে দেন। কিন্তু ভাগ্নের শোকে মামা অজ্ঞান হয়ে পড়ায় ক্যামেরাটি উধাও হয়ে যায়। ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও ক্যামেরাটি খোঁজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরায় ধারণ ছিল মেয়র মীরুর গোপন রহস্য। এজন্যই শিমুলকে গুলি করে মারা হয়েছে বলে জানালেন নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী ও স্বজনেরা।
নিহত শিমুলের খালাতো ভাই আব্দুল মতিন বিশ্বাস ও আজাদ রহমান জানান, শিমুলের মামার কাছে শুধু কাগজপত্রগুলো পাওয়া গেছে। কিন্তু ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ক্যামেরার খোঁজে আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা ক্যামেরাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তারা আরো বলেন, সাংবাদিক শিমুলের ক্যামেরাটি পাওয়া গেলে কার গুলিতে মারা গেছে সে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যেত। সেই সঙ্গে অনেক রহস্যের জট খুলে যেতো।

এদিকে সমকালের শাহজাদপুর সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের হত্যাকারী মেয়র হালিমুল হক মীরুসহ ছয় আসামির রিমান্ড শুনানি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হাসিবুল হক শুনানির জন্য ওই দিন ধার্য করেন।
এছাড়াও মেয়র মিরুর দুই ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ আটক আরো ৫ আসামির রিমান্ড শুনানি ১৩ তারিখ ধার্য করেছে আদালত।
অন্যদিকে, মেয়র মীরুর ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরাও মনে করছেন, সেদিন ছবি তোলার জন্য ব্যবহৃত সাংবাদিক শিমুলের ক্যামেরার খোঁজ পাওয়া গেলে সব রহস্য উন্মোচন হয়ে যেত।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরুর ছোট ভাই পিন্টু শাহজাদপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিজয়কে মারপিট করেন। পরে মেয়রের বাসা থেকে পুলিশ তার ভাই পিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে বিজয়কে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মেয়রের বাসায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে মেয়র বাসা থেকে গুলিবর্ষণ করা হলে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আহত অবস্থায় সাংবাদিক শিমুলকে বৃহস্পতিবার বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে দিকে বগুড়া থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরু গোলচত্বর সাখাওয়াত মোমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 349 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ