ক্লাস এইটে প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পাই

Print

ছোটপর্দার প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। গ্ল্যামারাস এই অভিনেত্রী অল্পকিছু কাজ দিয়েই নজর কেড়েছেন দর্শকদের। ধারবাহিক ও একক নাটকের পাশাপাশি টিভিসিও করছেন। ব্যস্ততার এক ফাঁকে মুখোমুখি হয়েছেন । আলাপ

এখন কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
-অনেক গুলো ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি। পাশাপাশি এক ঘন্টার নাটক ও টুকটাক টিভিসি করছি। বিভিন্ন চ্যানেলে বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক চলছে। এর মধ্যে আছে, পোস্ট গ্রাজুয়েট, শুন্যতা , লাইফ ইন এ মেট্রো, সোনার শেকল, তরুণ তুর্কি। সম্প্রতি তরুণ তুর্কীর শ্যুটিং শেষ হয়েছে, বাকি গুলোর কাজ চলছে। এছাড়াও সামনে ‘শুকনো পাতার নূপুর’ নামে আরেকটি কাজ করছি। সেখানে আমি নূপুর চরিত্রে অভিনয় করবো।

মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছেটা কবে থেকে?
– ছোটবেলা থেকেই আমার স্কুল-কলেজের সব প্রোগ্রামগুলো যেমন নাচ, গান ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতাম । ইচ্ছেটা মূলত তখন থেকেই ছিল । কিন্তু তখনো চিন্তা করিনি যে অভিনয়টা আমি করতে পারবো। তবে হয়ে গেছে এবং অভিনয়টা এখন আমি অনেক বেশী ভালোবাসি।
অভিনয় যখন শুরু করলেন তখন কোন বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন?
-বাধা-বিপত্তি কিছু না কিছু থাকেই। অনেক কাজ অনিচ্ছা সত্ত্বেও করতে হয়েছে। কারন আমি চাচ্ছিলাম কাজটা আরো ভালো ভাবে শিখি। আরো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি। তবে পরিবার থেকে আমার কখনোই কোন বাধা আসেনি। সবাই বরঞ্চ আরো উৎসাহ দিয়েছে।
আপনার করা কোন কাজটা আপনার কাছে প্রিয়?
-এখন পর্যন্ত করা নিজের কাজগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ কুল বডি স্প্রের যে টিভিসি করেছি সেটা।
নতুন যারা মিডিয়ায় আসতে চায়, তাদেরকে কী পরামর্শ দিবেন?
-অনেক বেশী সাহস থাকতে হবে । তারা নিজেদেরকে কোথায় দেখতে চায়, সেটা মাথায় রেখে যদি তারা কাজ শুরু করে, আমার মনে হয় কোন বাধাই তাদের আটকাতে পারবেনা বা থামাতে পারবেনা। তাই তাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে এবং খুব বেশী সৎ সাহস থাকতে হবে । নিজের সম্মান নষ্ট হয় এমন কোন কাজ বা প্রস্তাবে তারা যেন রাজী না হয়। কারন নিজের সুযোগের জন্য অপরকে যদি খারাপ কিছু একবার করার সুযোগ দেয় তবে সেটা বার বার করতে হবে।
মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে আপনার সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কি কখনো ঘটেছে?
-একজন সংগীতশিল্পীর সাথে আমার একটা কাজ করার কথা ছিল। সে বললো, সেই কাজের শ্যুট হবে কক্সবাজারে। পরে আমি তার সম্পর্কে কিছু কথা জানতে পারলাম এবং বললাম কক্সবাজার যেতে হলে, আমার সাথে আমি আমার পরিবারের কাউকে নিতে চাই। কিন্তু সে তাতে রাজি ছিলনা। সে কারনে আমি বললাম যেতে পারবোনা তাহলে। তারপর সে তার ফেসবুকে আমার কিছু এসএমএসের স্ক্রিনশটসহ একটা পোস্ট দেয়। এটা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ঝামেলা চলেছিল। কারন তখন সে একজন নামকরা সংগীত শিল্পী আর আমার তখন ক্যারিয়ারের শুরু মাত্র। এরকম ঘটনা অনেক আছে। তবে বাজে প্রস্তাবগুলোতে রাজি না হওয়ার সুফল এখনো ভোগ করছি।
আপনাকে বড় পর্দায় দেখবো কবে?
-আসলে সুযোগ অনেক আসছে। কিন্তু বড় পর্দায় কাজ করা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি প্রতিনিয়ত শিখছি। নিজেকে আরো গড়ছি। কারন বড়পর্দা এত সহজ না। আমাকে অভিনয় করতে হবে, নাচতে হবে । সব মিলিয়ে একটা প্যাকেজ হতে হবে।
আপনার জীবনে ভাল লাগার কোন মুহূর্ত বা ঘটনা কোনটা, যা এখনো আপনার ভাল লাগার কারন হয়ে দাড়ায়?
-আমার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট। আমার বাবা অনেক খুশি হয়েছিল সেদিন। আসলে আমি খুব ভালো ছাত্রী ছিলাম না, আবার খুব যে খারাপ তাও না। কিন্তু আমি এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছিলাম। সত্যিই এতটা বেশী আশা করিনি। ২০০৬ সালে এস এস সি দিয়েছিলাম, তখন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম ছিল। সব মিলিয়ে সেই দিনটা আসলেই আমার কাছে খুব আনন্দের ছিল।
আমরা জানি, আপনি প্রেম করেই বিয়ে করেছেন। বিয়ের অনেক পরে পরিবারকে জানান এবং তারও পরে অন্যান্যরা জানতে পারে। জানতে চাই, সে ছাড়া কি আর কারো সাথে প্রেম করেছেন?
-এর আগেও আমি অনেক গুলো প্রেম করেছি। তবে তিন জন ছিল সিরিয়াস বয়ফ্রেন্ড।
প্রথম প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছিলেন কবে?
-আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন একটি ছেলে আমাকে প্রপোজ করে। তবে তার সাথে প্রেম হয়নি।
নিজে কবে প্রথম প্রপোজ করেছিলেন?
-আমি তখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি। ঐ ছেলেটাকে আমি এত পছন্দ করতাম যে সেই সময় আমি তার পেছন পেছন ঘুরতাম। কিন্তু সে আমাকে পাত্তা দিত না । তবে এখন সে মাঝে মাঝে আফসোস করে।
সব শেষে নিজের কাজ নিয়ে কি বলবেন?
-আমার বড় পর্দায় কাজ করার ইচ্ছে অনেক। এবং আমি করবোই । নিজেকে তৈরি করছি বড়পর্দার জন্য । নিজেকে বড়পর্দায় দেখতে কে না চায়? আমার মনে হয় আমার মধ্যে সে উপকরণ রয়েছে । আমি কল্পনায় প্রতিনিয়ত নিজেকে সেখানে দেখি যে, আমি শাড়ি পরে কখনো বা গান করছি কখনো বা নাচ। আর এই কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দিতে অনেক বেশী কাজ করছি, অনেক বেশী পরিশ্রম করছি। আরো একটু পরিনত হলেই দর্শকরা আমাকে বড়পর্দায় দেখতে পাবেন বলে আশা করি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 182 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ