ক্লাস টেনে প্রথম প্রোপোজ করেছিলাম : জোভান

Print

ফারহান আহমেদ জোভান। সাবলিল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকমহলে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করেছেন তরুণ এই অভিনেতা। সম্প্রতি আড্ডা দিয়েছেন তিনি। শুনিয়েছেন, নিজের জীবনের প্রথম নাটক, প্রপোজ, প্রেমের গল্প।
সাক্ষাতকার নিয়েছেন মুনতাবির তারিক
২০১৭ সালের আপনার প্রথম একক নাটক ‘ওয়ান ওয়ে রোড’। নাটকটিতে

অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

-নাটকের গল্পটা অন্যরকম। আমরা এখন প্রায় নাটকেই গতানুগতিক প্রেম কাহিনি দেখি। কিন্তু এই নাটকে কোন প্রেম কাহিনি ছিলো না। আছে খুব সুন্দর একটি গল্প । আশা করি দর্শকদের ভালো লাগবে ।
মিডিয়াতে আপনার প্রথম কাজ শুরু হয় প্রাণের একটা টিভিসি দিয়ে । প্রথম কবে

ভেবেছিলেন মিডিয়াতে কাজ করতে হবে ?
-আসলে ওভাবে কখনো ভাবিনি। মিডিয়াতে টার্গেট করে আসাও হয়নি। সবার কাজ দেখতাম। তারপর শখ হল। শখ থেকেই মূলত কাজ করার ইচ্ছাটা আসে। আর সেখান থেকে অভিনয়টা এখন পেশায় পরিণত হয়েছে।

প্রথম কবে মিডিয়াতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল?
-অনেক ছোট ছোট (সাইড) চরিত্রে অনেক বার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু মূল যে সুযোগটা সেটা ইউনিভার্সিটি সিরিয়াল দিয়ে । ওটার অডিশনেই আমি প্রথম নির্বাচিত হই। এর আগেও অনেক অডিশন দিয়েছি কিন্তু কোনটাতেই নির্বাচিত হইনি।

অভিনয়ে কাউকে কি অনুসরণ করেন?
-কয়েকদিন আগে পর্যন্তও ওভাবে কাউকে অনুসরণ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি আয়নাবাজি মুভিতে চঞ্চল চোধুরীর অভিনয় দেখে তাকে প্রথম অনুসরণ করা শুরু করি ।

প্রথম কবে অনুধাবন করেন যে মানুষ আপনাকে চিনতে শুরু করেছে?
-বাংলালিংকের ‘আমি জুড়ে সারা বাংলাদেশ’ একটা টিভিসি করেছিলাম। তখন আমি দর্শকদের কাছ থেকে বড় একটা সাড়া পেয়েছিলাম। তখনই প্রথমবার বুঝেছিলাম মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করেছে।

প্রথম কবে, কাকে দেখে দেখে ভালো লাগে?
-আমি যখন ক্লাস থ্রিতে পড়তাম তখন একটা মেয়ে আমাদের বাসার উপর তলায় থাকতো। তাকে দেখার পর আমার প্রথমবারের মত কাউকে ভালোলাগে।

প্রথম কাউকে প্রপোজ করেছিলেন কবে?
– ক্লাস টেনে পড়ি। স্কুলে তখন সবার সিনিয়র । তখনই মনে একটু সাহস জাগে, সেই সাথে বন্ধুরা আরও একটু সাহস দেয়ায় একটা মেয়েকে প্রপোজ করি।

নিজে কবে প্রথমবার কারও কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছিলেন?
-আমি তখন কলেজে পড়ি।

মানুষের জীবনে কষ্ট থাকেই। প্রথম কষ্ট পেয়েছেন কোন মানুষটার কাছ থেকে ?
আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছ থেকে। এক জায়গায় আমাদের মধ্যে বোঝাপড়ার সমস্যা হওয়ায় সে আমার নামে উল্টাপাল্টা কথা বলে। যা আমাকে প্রচুর কষ্ট দিয়েছিলো।

কখনো ভয় পেয়েছেন কি না? যদি পেয়ে থাকেন, প্রথমবার তা কবে এবং কোথায়?
আমি প্রতি বছর গ্রামের বাড়ি যাই। তো আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন একবার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম । আমার গ্রামের বাড়ি তখন বিদ্যুৎ ছিলোনা। এমনিতে বিদ্যুৎ ছিলোনা তার উপর রাতের বেলায় গ্রামের পরিবেশটাও বেশ থমথমে থাকে। প্রথমবার আমি সেখানেই ভয় পেয়েছিলাম ।

প্রথম আপনার করা কোন কাজের প্রশংসা পেয়েছেন কবে?
আমার জীবনের প্রথম যে সিরিয়াল করেছিলাম ইউনিভার্সিটি, সেই নাটকের কাজের জন্যই নাটকের ডিরেক্টরের কাছ থেকে প্রথম প্রশংসা পেয়েছিলাম।
প্রথম কোন নাটকটি আপনাকে আজকের জোভান হওয়ার পেছনে সবচেয়ে

অবদান রেখেছে ?
আমি এখানে দুটি নাটকের কথা বলতে চাই। প্রথমটা ক্লোজআপ নিবেদিত ‘শত ডানার প্রজাপতি’ আর ‘ব্রাদার্স’।

বড়পর্দায় প্রথম কাজ কোনটা ?
বড় পর্দায় একটিই কাজ করেছি , ‘অস্তিত্ব’ । যদিও আমি প্রধান চরিত্রে ছিলাম না তবে আমার যে চরিত্রটি ছিল, ওটা করে আমি সন্তুষ্ট ।

প্রথম সংলাপ কোনটা ?
ইউনিভার্সিটি সিরিয়ালে আমার চরিত্র যেটা ছিল তা হচ্ছে আমি খুব পেটুক টাইপের একটা ছেলে। তো আমি নাটকের একটি দৃশ্যে অ্যালেন শুভ্রকে ফুসকা খেতে নিয়ে যাই। সেখানে আমার প্রথম সংলাপ ছিল , ‘মামা জানোস মুঘলরা পায়েশের রঙ গোলাপী করার জন্য গরুকেও গোলাপ খাইয়ে দিত। আর একদিন পোলাও রান্না করবে বলে তিন মাস ধরে প্রস্তুতি নিত।’

সংলাপ বলতে গিয়ে প্রথমবার ভুল করেছেন কবে ?
প্রথম সংলাপ বলতে গিয়েই আমি প্রথম ভুল করেছিলাম। মূল সংলাপ ‘ছিল মামা জানোস মুঘলরা পায়েশের রঙ গোলাপী করার জন্য গরুকেও গোলাপ খাইয়ে দিত’ । আমি বলে ছিলাম ‘মামা জানোস মুঘলরা পায়েশের রঙ গোলাপী করার জন্য গরুকেও গোবর খাইয়ে দিত।’

অভিনয় জীবনের প্রথম অ্যাওয়ার্ড কোনটা ?
সাঁকো অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ সালে। বাংলালিংকের ‘আমি জুড়ে সারা বাংলাদেশ’ টিভিসি করার জন্য ‘বেষ্ট নিউ কামার মডেল’ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ডটি পেয়েছিলাম।
জীবনের গল্প যদিও এত অল্পতে শেষ হয়না। তবুও শেষ করছি। সব শেষে

আপনার দর্শকদের জন্য যদি কিছু বলতে চান ?
আমরা যারা নতুন এসেছি, দর্শকরা আমাদের যে পরিমাণ সাপোর্ট দিয়েছেন আমি তাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ। আমরা আসলেই একটা কাজের পেছনে অনেক শ্রম দিই। একটা কাজ যখন করি অনেক কষ্টও করি।

দর্শকরা সেটা দেখেননা। তারা আমাদেরকে স্ক্রিণে দেখেন। তবে সেই কষ্টগুলো তখনই ম্লান হয়, তখনই সার্থক হয় যখন তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাই। তাদের কাছ থেকে এতটুকুই আমাদের চাওয়া, তারা যেন সব সময় আমাদের পাশে থাকে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 401 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ